ইফতার-সংক্রান্ত দুআসমূহ : প্রামাণ্যতা ও বিশ্লেষণ

0
মুফতি সরওয়ার কামাল জামান
বর্তমানে আমাদের কিছু ভাই দাবি করেন যে, পুরো হাদিসের ভাণ্ডারে ইফতারের দুআ-সংক্রান্ত কোনো বিশুদ্ধ হাদিস পাওয়া যায় না। তাদের দাবি, এসংক্রান্ত যত হাদিস বর্ণিত হয়েছে, সবই দুর্বল ও পরিত্যাজ্য। তাই ইফতারের শুরুতে কেবল ‘বিসমিল্লাহ’ বলবে এবং ইফতার শেষে ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ বলবে। এতটুকুই যথেষ্ট, এর অতিরিক্ত অন্য কিছু বলা যাবে না। কিন্তু এ দাবিটি সম্পূর্ণ ভুল ও অজ্ঞতার পরিচায়ক। কেননা, হাসান ও সহিহ সূত্রে ইফতার-সংক্রান্ত একাধিক দুআ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে। আমরা এখানে তিনটি দুআ উল্লেখ করছি। একটি ইফতার করার আগে, একটি ইফতার করার পরে এবং একটি কোথাও দাওয়াত খাওয়ার পরে।
এক : ইফতার করার সময়।
সুনানে আবি দাউদে হাসান সনদে বর্ণিত হয়েছে :
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ زُهْرَةَ، أَنَّهُ بَلَغَهُ : أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَفْطَرَ قَالَ: اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ، وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ
‘আবু জুহরা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সিয়াম রেখে ইফতার করতেন তখন এ দুআ পড়তেন, “আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু” অর্থাৎ হে আল্লাহ, আমি আপনার জন্যই সাওম পালন করেছি এবং আপনার দেওয়া রিজিক দিয়েই ইফতার করছি।’ (সুনানু আবি দাউদ : ২/৩০৬, হা. নং ২৩৫৮, প্রকাশনী : আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যা, বৈরুত)
কিছু কিছু বর্ণনায় এ দুআর শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ অতিরিক্ত এসেছে। এভাবে, ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু’। সুতরাং এ দুআটি ‘বিসমিল্লাহ’-সহও বলা যাবে, আবার ‘বিসমিল্লাহ’ ছাড়াও বলা যাবে।
আরও দেখুন- মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবা : ৯৭৪৪, আজ-জুহদ ওয়ার-রাকায়িক, ইবনুল মুবারক : ১৪১০, ১৪১১, মারাসিলু আবি দাউদ : ৯৯, আদ-দুআ, তাবারানি : ৯১৮, আল-মুজামুল কাবির, তাবারানি : ১২৭২০, আল-মুজামুল আওসাত, তাবারানি : ৭৫৪৯, আল-মুজামুস সগির, তাবারানি : ৯১২, আদ-দাওয়াতুল কাবির, বাইহাকি : ৫০০, শুআবুল ইমান : ৩৬১৯, ফাজায়িলুল আওকাত, বাইহাকি : ১৪৩, শারহুস সুন্নাহ, বাগাবি : ১৭৪১ আস-সুনানুল কুবরা, বাইহাকি : ৮১৩৪, আস-সুনানুস সগির, বাইহাকি : ১৩৯১
এ হাদিসটির সনদ হাসান মুরসাল, যা হানাফি, মালিকি ও হাম্বলিসহ বেশিরভাগ আলিমদের নিকট প্রমাণযোগ্য।
শাইখ মুহাম্মাদ আওয়ামা হাফি. হাদিসটির টীকায় বলেন :
هذا مرسل بإسناد حسن
‘এটা হাসান সনদে বর্ণিত মুরসাল একটি হাদিস।’ (মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবা [তালিক] : ৬/৩২৯, হা. নং ৯৮৩৭, প্রকাশনী : দারুল কিবলা, জেদ্দা)
মুরসাল হাদিস দলিলযোগ্য কিনা, তা নিয়ে মতানৈক্য আছে। ইমাম শাফিয়ি রহ.-সহ অধিকাংশ মুহাদ্দিসের নিকট মুরসাল হাদিস দলিলযোগ্য না হলেও ইমাম ইমাম মালিক রহ., ইমাম আবু হানিফা রহ., ইমাম আহমাদ রহ. ও অধিকাংশ ফকিহ মুরসাল হাদিসকে দলিলযোগ্য বলেছেন। এজন্য ফুকাহায়ে কিরাম অসংখ্য মাসায়িলের ক্ষেত্রে মুরসাল হাদিসকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আর দলিলের শক্তিমত্তার বিচারে এ মতটিই অগ্রগণ্য।
ইমাম নববি রহ. বলেন :
وَذَهَبَ مَالِكٌ وَأَبُو حَنِيفَةَ وَأَحْمَدُ وَأَكْثَرُ الْفُقَهَاءِ إِلَى جَوَازِ الِاحْتِجَاجِ بِالْمُرْسَلِ
‘ইমাম মালিক রহ., ইমাম আবু হানিফা রহ., ইমাম আহমাদ রহ. ও অধিকাংশ ফকিহ মুরসাল হাদিস দ্বারা দলিল প্রদানের বৈধতা দিয়েছেন।’ (শারহু মুসলিম, নববি : ১/১৩২, প্রকাশনী : দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
সুতরাং মুরসাল হাদিসের প্রামাণ্যতা নিয়ে মতানৈক্য থাকলেও এক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ চার মাজহাবের ইমামদের মধ্য হতে ইমাম শাফিয়ি রহ. ছাড়া বাকি তিন ইমামের মতটিই অধিক অগ্রগণ্য যে, মুরসাল প্রমাণযোগ্য হাদিস। বিশেষত ফাজায়িলের ক্ষেত্রে হলে তো বিষয়টি আরও অধিক প্রণিধানযোগ্য। এজন্যই শাইখ আওয়ামা হাফি. উপরিউক্ত মুরসাল হাদিসটির ব্যাপারে মন্তব্য করেন :
والمرسل وحده كافٍ
‘শুধু মুরসাল হাদিসটিই (প্রামাণ্যের জন্য) যথেষ্ট।’ (মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবা [তালিক] : ৬/৩২৯, হা. নং ৯৮৩৭, প্রকাশনী : দারুল কিবলা, জেদ্দা)
মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবার অন্য আরেক নুসখায় মুত্তাসিল সহিহ সনদে বর্ণিত হয়েছে :
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا صَامَ ثُمَّ أَفْطَرَ، قَالَ: اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ، وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ
‘আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সাওম রেখে ইফতার করতেন তখন এ দুআ পড়তেন, “আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু” অর্থাৎ হে আল্লাহ, আমি আপনার জন্যই সাওম পালন করেছি এবং আপনার দেওয়া রিজিক দিয়েই ইফতার করছি।’ (মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবা : ২/৩৪৪, হা. নং ৯৭৪৪, প্রকাশনী : দারুর রুশদ, রিয়াদ)
এ হাদিসটির সনদের বিশুদ্ধতা নিয়ে বিতর্ক করার কোনো অবকাশ নেই। তবে মুশকিল হলো, সনদে ‘আবু হুরাইরা’ নামটি সঠিক হওয়া নিয়ে। দারুর রুশদ থেকে প্রকাশিত মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবার নুসখায় ‘আবু হুরাইরা’ আছে। আর দারুল কিবলা থেকে প্রকাশিত নুসখায় ‘আবু জুহরা’ আছে। যদি ‘আবু হুরাইরা’ নামটি সঠিক হয়, তাহলে এ হাদিসটি পুরোপুরি বিশুদ্ধ এবং প্রমাণযোগ্য। আর যদি ‘আবু জুহরা’ নামটি সঠিক হয়, তাহলে এটাও মুরসাল বর্ণনা। উল্লেখ্য যে, ‘আবু জুহরা’ হলো মুআজ বিন জুহরার উপনাম। ধারণা করা হয় যে, এখানে মূলত ‘আবু জুহরা’ নামটিই ছিল, কিন্তু শব্দটি বিকৃত হয়ে ‘আবু হুরাইরা’-তে রূপান্তরিত হয়ে গেছে। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।
দুই : ইফতার শেষে দুআ।
নানে আবি দাউদে সহিহ সনদে বর্ণিত হয়েছে :
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى أَبُو مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ، أَخْبَرَنِي الْحُسَيْنُ بْنُ وَاقِدٍ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ يَعْنِي ابْنَ سَالِمٍ الْمُقَفَّعَ، قَالَ: رَأَيْتُ ابْنَ عُمَرَ يَقْبِضُ عَلَى لِحْيَتِهِ، فَيَقْطَعُ مَا زَادَ عَلَى الْكَفِّ وَقَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِذَا أَفْطَرَ قَالَ: ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ، وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
‘মারওয়ান বিন সালেম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনে উমর রা.-কে তাঁর দাড়ি মুষ্টিবদ্ধ করে ধরে মুষ্টির বাইরের অতিরিক্ত দাঁড়িগুলো ছেঁটে ফেলতে দেখেছি। আর তিনি রা. বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ইফতার করতেন তখন বলতেন, “জাহাবাজ্জমাউ ওয়াবতাল্লাতিল উরুকু ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ” অর্থাৎ পিপাসা দূরীভূত হয়েছে, শিরা-উপশিরা সিক্ত হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ প্রতিদানও নির্ধারিত হয়েছে।’ (সুনানু আবি দাউদ : ২/৩০৬, হা. নং ২৩৫৭, প্রকাশনী : আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যা, বৈরুত)
আরও দেখুন- আস-সুনানুল কুবরা, নাসায়ি : ৩৩১৫, ১০০৫৮, মুসতাদরাকুল হাকিম : ১৫৩৬, সুনানুদ দারাকুতনি : ২২৭৯, মুসনাদুল বাজ্জার : ৫৩৯৫, আমালুল ইয়াউমি ওয়াল লাইলা, নাসায়ি : ২৯৯, আমালুল ইয়াউমি ওয়াল লাইলা, ইবনুস সুন্নি : ৪৭৮, আল-মুজামুল কাবির, তাবারানি : ১৪০৯৭, আদ-দাওয়াতুল কাবির, বাইহাকি : ৪৯৯, শুআবুল ইমান : ৩৬১৯, শারহুস সুন্নাহ, বাগাবি : ১৭৪০, আস-সুনানুল কুবরা, বাইহাকি : ৮১৩৩, আস-সুনানুস সগির, বাইহাকি : ১৩৯০
ইমাম হাকিম রহ. বলেন
هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ عَلَى شَرْطِ الشَّيْخَيْنِ
‘এটা বুখারি, মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ হাদিস।’ (মুসতাদরাকুল হাকিম : ১/৫৮৪, হা. নং ১৫৩৬, প্রকাশনী : দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত)
হাফিজ জাহাবি রহ. তালখিসে বলেন :
عَلَى شَرْطِ الْبُخَارِىِّ
‘ইমাম বুখারির শর্তানুযায়ী সহিহ।’ (প্রাগুক্ত [তালখিস])
ইমাম দারাকুতনি রহ. বলেন :
إِسْنَادُهُ حَسَنٌ
‘এর সনদ হাসান।’ (সুনানুদ দারাকুতনি : ৩/১৫৬, হা. নং ২২৭৯, প্রকাশনী : মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত)
হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি রহ.-ও ইমাম দারা কুতনি রহ.-এর উক্তি উল্লেখ করে তাতে সম্মতি প্রকাশ করেছেন। (আত-তালখিসুল হাবির : ২/৪৪৫, হা. নং ৯১১ সংশ্লিষ্ট, প্রকাশনী : দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত)
তিন : অন্যের বাসায় ইফতার করার পরে দুআ।
মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাকে অত্যন্ত বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হয়েছে :
عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَكَلَ عِنْدَ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ زَيْتًا ثُمَّ قَالَ: أَفْطَرَ عِنْدَكُمُ الصَّائِمُونَ، وَأَكَلَ طَعَامَكُمُ الْأَبْرَارُ، وَتَنَزَّلَتْ عَلَيْكُمُ الْمَلَائِكَةُ
‘আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার সাদ বিন উবাদা রা.-এর নিকট (ইফতারের উদ্দেশ্যে রুটির সহিত) তেল খেলেন। (অন্য বর্ণনায় আছে কিশমিশ খেলেন।) এরপর বললেন, ‘আফতারা ইনদাকুমুস সায়িমুন ওয়া আকালা তআমাকুমুল আবরারু ওয়া তানাজ্জালাত আলাইকুমুল মালাইকা“ অর্থাৎ সিয়াম পালনকারীগণ তোমাদের নিকট ইফতার করেছে, সৎ লোকেরা তোমাদের খাবার খেয়েছে এবং তোমাদের ওপর মালায়িকা (রহমতের ফেরেশতাগণ) অবতীর্ণ হয়েছে।’ (মুসান্নাফু আব্দির রাজ্জাক : ৪/৩১১, হা. নং ৭৯০৭, প্রকাশনী : আল-মাকতাবুল ইসলামি, বৈরুত)
আরও দেখুন- মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবা : ৯৭৪৫, মুসনাদু আহমাদ : ১২১৭৭, ১২৪০৬, ১৩০৮৬, সুনানুদ দারিমি : ১৮১৩, সুনানু আবি দাউদ : ৩৮৫৪, সুনানু ইবনি মাজাহ : ১৭৪৭, সহিহু ইবনি হিব্বান : ৫২৯৬, মুসনাদু আবি ইয়ালা : ৪৩১৯, ৪৩২০, ৪৩২২, আল-মুজামুল আওসাত, তাবারানি : ৩০৩, ৬১৫৮, আমালুল ইয়াউমি ওয়াল লাইলা, নাসায়ি : ২৯৬, ২৯৭, ২৯৮, আমালুল ইয়াউমি ওয়াল লাইলা, ইবনুস সুন্নি : ৪৮২, আল-মুজামুল আওসাত : ৬১৬২, আদ-দুআ, তাবারানি : ৯২২, ৯২৩, ৯২৫, আস-সুনানুল কুবরা, বাইহাকি : ৮১৩৫, ৮১৩৬, ১৪৬৭৩, আদ-দাওয়াতুল কাবির, বাইহাকি : ৫১০
হাদিস সম্বন্ধে সম্যক ধারণা রাখে, এমন ব্যক্তি মাত্রই বুঝবে যে, এ হাদিসটির সনদ অত্যন্ত উঁচু পর্যায়ের। এ হাদিসটির সব রাবিই অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও সবাই ছিলেন হাদিসশাস্ত্রের ইমাম। তাছাড়াও এ সনদে কোনোরূপ সূত্রবিচ্ছিন্নতা বা অন্য কোনো সমস্যাও নেই।
শাইখ শুআইব আরনাউত রহ. বলেন :
إسناده صحيح على شرط الشيخين.
‘বুখারি-মুসলিমের শর্তানুযায়ী এর সনদ বিশুদ্ধ।’ (মুসনাদু আহমাদ [তালিক] : ১৯/৩৯৮, হা. নং ১২৪০৭, প্রকাশনী : মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত)
শাইখ আব্দুল মালিক বিন আব্দুল্লাহ রহ. বলেন :
إِسْنَاده صَحِيح
‘এর সনদ বিশুদ্ধ।’ (আল-আহাদিসুল মুখতারা [তালিক] : ৫/১৫৮, হা. নং ১৭৮৩, প্রকাশনী : দারু খাজির, বৈরুত)
শাইখ মুহাম্মাদ আওয়ামা হাফি. বলেন :
وهذا إسناد عالٍ فى الصحة
‘বিশুদ্ধতার দৃষ্টিকোণ থেকে এটা অত্যন্ত উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন সনদ।’ মুসান্নাফু আব্দির রাজ্জাক : ৪/৩১১, হা. নং ৭৯০৭, প্রকাশনী : আল-মাকতাবুল ইসলামি, বৈরুত)
উপরোল্লিখিত তিনটি প্রমাণযোগ্য হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, ইফতারের আগে-পরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে আলাদা আলাদা দুআ বর্ণিত আছে। সুতরাং ইফতারের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’-এর সহিত প্রথম দুআটি এবং ইফতার শেষে দ্বিতীয় দুআটি এবং অন্যের বাসায় ইফতার করলে তৃতীয় দুআটি পড়বে। প্রথম দুআটির ব্যাপারে কিছু আলিম বলেছেন, এটাও ইফতার শেষের দুআ, তবে ইফতারের শুরুতের পড়ার প্রবক্তাদের মতই অধিক শক্তিশালী। মোটকথা, ইফতারের দুআর ব্যাপারে হাদিসে একাধিক বিশুদ্ধ ও প্রমাণযোগ্য বর্ণনা পাওয়া যায়। সুতরাং যারা মনে করে, ইফতারের আগে-পরে সহিহ সূত্রে কোনো দুআ পাওয়া যায় না তারা অজ্ঞতার জগতে বাস করছে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক ইলম শিখে সে অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.