জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় চলবে বেনজীরের সাভানা পার্ক

0

শনিবার সকাল থেকে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী বেনজীরের সাভানা পার্কের যাবতীয় কার্যক্রম চালু রয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন এবং মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দু’টি দল পার্কে অবস্থান নেয়। পরে পার্কের ভেতরে প্রবেশ করে বেনজীর ও তার পরিবারের মালিকানাধীন সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্কের নিয়ন্ত্রণ বুঝে নেয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে পার্কের প্রধান ফটকের পাশে মাইকিং করে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আদালতের নির্দেশে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে গোপালগঞ্জের সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্কে রিসিভার নিয়োগ করে এর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।এ অভিযানে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজ বাবলী শবনম, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গোপালগঞ্জের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান, সহকারী পরিচালক সোহরাব হোসেন সোহেল, দুদক মাদারীপুরের সহকারী পরিচালক মো.সাইদুর রহমান ও গোপালগঞ্জ জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম জিল্লুর রহমান রিগানসহ জেলা প্রশাসন ও দুদক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম বলেন, আদালতের নির্দেশে সাভানা রিসোর্টের নিয়ন্ত্রণ জেলা প্রশাসন নিয়েছে। এখন থেকে এই রিসোর্টের রক্ষণাবেক্ষণসহ সবকিছুই জেলা প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করবে।

২০১৫ থেকে ২০২০ সালে র্যাবের মহাপরিচালক এবং ২০২০ সাল থেকে থেকে ২০২২ পর্যন্ত আইজিপি থাকাকালীন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৈরাগীটোল গ্রামে ৬২১ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলেন সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্ক।

বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ নিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলে তাদের বিরুদ্ধে সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) বিস্তারিত তদন্ত করেছে। এরপরই গণমাধ্যমে তাদের অস্বাভাবিক সম্পদের খবর প্রকাশ পায়। সূত্র জানায়, গত ২৩ ও ২৬ মে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ৩৩ কোটি টাকার বেশী সম্পদ জব্দ ও অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে ৮৩টি দলিলে ৬২১ বিঘা জমি, গুলশানের চারটি ফ্ল্যাট জব্দ ও ৩৮টি ব্যাংক হিসাব ও তাদের মালিকানার কোম্পানি অবরুদ্ধ করা হয়।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদক গত ২৮ মে বেনজীর আহমেদ তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলবি নোটিশ পাঠায় দুদক। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক বিশেষ অনুসন্ধান টিমের প্রধান মো. হাফিজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত তলবি নোটিশগুলো আলাদাভাবে তাদের গুলশানের বাসার ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে। বেনজীরকে ৯ জুন দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল। তিনি বুধবার ১৬ দিনের সময় চেয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে কমিশনে আবেদন করেছেন। দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জবাব দিতে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে আরও ১৬ দিন সময় দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগামী ২৩ জুন তাকে দুদকে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জিসান মির্জা, দুই মেয়ে– ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাশিন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে গত ২২ এপ্রিল জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এরপর গত ৩ মে পর্যন্ত তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা দেশেই ছিলেন। বেনজীর আহমেদ স্বপরিবারে সিঙ্গাপুর চলে যান গত ৪ মে। এই সময়ের মধ্যে দুদক বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন পেশ করা হলে এবং আদালত তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করলে গত ৪ মে তারা বিদেশ যেতে পারতেন না।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.