ফুলছড়ির প্রত্যন্ত চরাঞ্চলগুলোতে মাদকের জমজমাট ব্যবসা!

0

বিজয় কুমার, সাঘাটা (গাইবান্ধা) থেকেঃ গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার  এরেন্ডাবাড়ি,ফজলুপুর,কঞ্চিপাড়া,উড়িয়া, গজারিয়া ও ফুলছড়ি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত চরাঞ্চলগুলো মাদকের আখড়ায় পরিনত। হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় গাঁজা, ইয়াবা, বাবা, ফেন্সিডিল, হর্সপাওয়ার, স্পিরিট, গাঁজা সিগারেট, দেশী ও বিদেশী মদ সহ বিভিন্ন নেশা জাতীয় মাদকদ্রব্য। মরন নেশায় আকৃষ্ট হয়ে নানা অপরাধের সাথে জড়িয়ে পরছে এ অঞ্চলের যুব সমাজ। এতে করে আশঙ্খাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই সহ নানা অপরাধ মুলক ঘটনা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কর্তৃক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা মিটিং এ অভিযোগ করে প্রতিকার না পেয়ে বরং মাদক ব্যবসায়ীদের রক্তচক্ষু রোষানলে ভয়েভীত ও অসহায়। দীর্ঘ নৌপথ পাড়ি দিয়ে যেতে হয় বলে থানা প্রশাসনের ঢিলেঢালা তৎপরতায় এলাকার সচেতন মহল ক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে।

ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নটি ব্রহ্মপুত্র ও জিঞ্জিরাম নদী দ্বারা বেষ্ঠিত প্রত্যন্ত দ্বীপচর হওয়ায়, পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলা থেকে আগত চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক বিক্রেতারা, স্থানীয় মাদক ও অপরাধ চক্রের মূল হোতা, একাধিক মামলার আসামি করিম ডাকাত ও তার সাঙ্গোপাঙ্গদের ছত্রছায়ায় নিজেদের নিরাপদ ভেবে এঅঞ্চলে গড়ে তুলেছে তাদের অভয়াশ্রম ও মাদকের রমরমা ব্যবসা। তারা কুড়িগ্রামের দাঁতভাঙ্গা, রৌমারী, রাজিবপুর, কর্তিমারি এবং কামালপুর বর্ডার এলাকার বিভিন্ন চোরাই পথে আসা মাদকদ্রব্য অত্র এলাকায় মজুদ করা এবং বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে চড়াদামে খুচরা বা পাইকারিতে ক্রয়-বিক্রয় করে।এসব বিষয়ে করিম ডাকাতের সাথে বারবার কথা বলার চেষ্টা করেও তাকে মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাদক চক্রের দু’জন বলেন, স্যার আমরা ওগুলো খাই, ব্যবসা করি না।

করিম ডাকাত ও তার বাহিনী প্রত্যন্ত চরাঞ্চল সহ পার্শ্ববতি জেলা ও উপজেলার মাদক চক্রের বিভিন্ন এজেন্টদের সাথে দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধ্য ব্যবসা ও নৌ-ডাকাতি কার্যক্রমের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত রয়েছে। এ চক্রের নানামূখী হয়রানি ও অমানবিক নির্যাতনের ভয়ে এলাকার সাধারন জনগন  জিম্মি ও মুখ খুলতে নারাজ। জিঞ্জিরাম নদীর কোল ঘেঁষে জেলার সীমান্তবর্তি ভাটিয়াপাড়া ও তালপট্টি গ্রাম দু’টি এ চক্রের নির্ভয় রাত্রি যাপন ও মাদকদ্রব্য সরবরাহের নিরাপদ ঘাঁটি হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এখান থেকে উক্ত বাহিনীর সদস্যরা গাঁজা, ইয়াবা, হর্সপাওয়ার, স্পিরিট, বাবা ট্যাবলেট, গাঁজা সিগারেট সহ দেশি বিদেশী মদ এরেন্ডাবাড়ির ডাকাতিয়ার চর, আলগার চর, জিগাবাড়ি চর, আনন্দবাড়ি চর, চর চৌমহন, পাগলার চর, তিনথোপার চর, হরিচন্ডি চর ও কিশামতধলী এবং পার্শ্ববর্তি ফজলুপুর, উড়িয়া, কঞ্চিপাড়া, গজারিয়া, ফুলছড়ি ও উদাখালী ইউনিয়নের সর্বত্র এবং গাইবান্ধা সদরের মোল্লার চর, কামারজানি।  সুন্দরগঞ্জের লাটশালা চর, চর খোদ্দা, কাপাশিয়া, লালচামার, চন্ডিপুর, বেলকা ও হরিপুর। দেওয়ানগঞ্জের চরঅামখাওয়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে উল্লেখিত নেশা জাতীয় মাদকগুলো সরবরাহ করে।

এই সমস্ত এলাকার ছোট ছোট হাট-বাজারগুলোতে, নির্জন চরে, এমনকি নির্ধারিত বাড়িতে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে মাদক বিক্রী ও সেবন। বিশেষ করে স্কুল,কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী সহ যুব সমাজ ইয়াবা, বাবা ট্যাবলেটের প্রতি বেশি আকৃষ্ট। ইহা সেবনে বাড়তি ইমেজ বলে রাত জেগে ইন্টানেট ব্যবহার এবং চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এর মতো নানা দূর্ঘটনা অনায়াসে ঘটায়ে থাকে। সচেতন অভিভাবক মহল তাদের স্কুল- কলেজ পড়ুয়া সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কিত।

এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের ভাটিয়াপাড়া,  তালপট্টি ও জিগাবাড়িতে  মাদক ব্যবসার মুল ঘাঁটি এবং করিম বাহিনীর দৌরাত্ম্য প্রসঙ্গে অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমানের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ন্যাশনাল নিউজকে বলেন, আমিতো খাকিপোষাকধারি পাওয়ারফুল কোন ব্যক্তি নই, প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের জনপ্রতিনিধি মাত্র। নিজেই যেখানে সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা আক্রান্ত ও অঙ্গহানির শিকার।

সেখানে মাদকের সঙ্গে জড়িত দুস্কৃতকারীদের প্রতিহত এবং এর হিংস্র থাবা থেকে যুব সমাজকে রক্ষা এবং জনগনের নিরাপত্তার বিষয়টি অতি জরুরী। আমার জীবনের ঝুকি নিয়ে হলেও উপজেলা পর্যায়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা মিটিংএ মাদক চক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ করেছি, আসামি ধরার পর জামিনে বের হয়ে পূর্বের ব্যবসায় আবারও যোগ দেয় বলে তিনি জানান।

ফুলছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ আবু হায়দার মোঃ আশরাফুজ্জামান এ প্রতিনিধিকে বলেন, মাদকের ব্যাপারে  জিরো টলারেন্স।  অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।  তথ্যের ক্ষেত্রে পুলিশের যেমন সোর্স আছে, তেমনি মাদক ব্যবসায়ীদেরও নেটওয়ার্ক আছে। হেডকোয়ার্টার থেকে দীর্ঘ নৌ-পথ পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে যেতেই ওরা গা ঢাকা দেয়। যার ফলে আসামি ধরতে পুলিশকে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। তবে অপরাধি ধরতে অামরা সর্বদা তৎপর। পুলিশ জনগনের বন্ধু কিন্তু  অপরাধীর শত্রু এটা বুঝতে হবে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.