নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের ষোলশহর রেল ষ্টেশন ও ২নং গেইটের লেভেল ক্রসিংসহ গেইটঘরের চারপাশ দখল হয়ে আছে অবৈধ দোকানিদের বেচাকেনায়। যাত্রিদের চলাচল, নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনার হুমকিতে হলেও এসব নিয়ে কোন মাথাব্যাথা নেই রেলকতৃপক্ষের। ষ্টেশন মাষ্টাররা বদলী হয় নতুন মাষ্টার আসে, সাথে থাকে নিরাপত্তা বাহিনী। কিন্তু এই ষ্টেশন ও লেভেল ক্রসিং মুক্ত হয়নি অবৈধ দখলদারদের। এসব কারনে ষ্টেশন ঘিরে যেমন চুরি ছিনতাই ও দখল বানিজ্য বেড়ে চলেছে, তেমনি ২নং গেইট রেল লেভেল ক্রসিং স্থানে বিগত বছরগুলোতে অনেক বড় বড় দুর্ঘটনাও কম ঘটেনি। গনমাধ্যমে এই স্টেশন ও রেললেভেল ক্রসিং এর দখল বানিজ্য ও দুর্ঘটনার বিষয়গুলো নিয়ে লেখা লেখি হলেও রেলকতৃপক্ষের নেই কোন সুষ্ঠ উদ্যগ। রেলের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও দায়সাড়া ব্যবস্থার কথা বলে গণমাধ্যম কর্মিদের বিদায় করেন। সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, স্টেশনটি ঘিরে আছে অবৈধ বস্তি, শ‘য়ের উর্ধ্বে স্থায়ী ও ভাসমান দোকান সেইসাথে সন্ধ্যা কালিন ভ্রাম্যমান কাচাবাজার। মাদকবানিজ্য, ক্রিকেট জুয়া, তাস আর ক্যাসিনো খেলার আসরে পরিনত হওয়া ষোলশহর রেলষ্টেশনটিতে ছাত্রছাত্রি ও যাত্রিদের নেই নিরাপত্তা। সন্ধ্যার পর পকেটমার ছিনতাইকারীদের দৌড়াতœও বেড়ে চলেছে। অথচ ষোলশহর রেলওয়ে জংশন ষ্টেশন ও রেল লেভেল ক্রসিং অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই ষ্টেশনের উপর দিয়ে প্রতিদিন নাজিরহাট, দোহাজারী ও চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়গামী প্রায় ৩৬টি ট্রেন চলাচল করে। এখন চালূ হয়েছে কক্সবাজার লাইন চালু হয়েছে। বেড়েছে এই ষ্টেশনের ব্যস্ততার পরিধি। সেইসাথে চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের অধিকাংশ ছাত্রছাত্রিরা এই ষ্টেশনটি থেকে উঠেন। যাত্রিদের সুবিধার্থে ফাষ্টফুড ও কুলিংকর্নারসহ ১৮টি দোকান লিজ দিলেও বাকী অসংখ্য দোকান ও বৈকালিক বড় একটি বাজার গড়ে উঠেছে অবৈধ ভাবে। জানা যায়, ষ্টেশনের পিছনে ও সামনের জায়গাগুলো দখল করে বস্তির মতো কলোনী করে ভাড়া খাচ্ছে স্থানীয় লোকজন ও রেলওয়ের প্রভাবশালী একশ্রেনির কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারী।
শুধু তাই নয়, ষ্টেশনের আশে পাশে পুরাতন রেল লাইন, পাটাতনসহ রেলের বিভিন্ন মালামাল যা এক শ্রেনীর কর্মচারীদের যোগসাযশে চুরি হয়ে যায়। আরো জানা যায়, ষ্টেশনের আশেপাশে রয়েছে প্রায় ২১০ টি দোকান। আর প্রতি দোকান থেকে দৈনিক ১০০ থেকে ৫০০ টাকা করে চাঁদা তোলা হয়।
তবে কেউ নিচ্ছেনা দায়, স্টেশনমাষ্টার, আরএনবি, জিআরপি কেউ পারছেনা অবৈধ দখলদার ও দোকানীদের সরাতে। তারা বলছে অবৈধ দখলদাররা শক্তিশালী, তাদেরকে সরাতে জিআরপি ও আরএনবির যে পরিমান জনবল দরকার তা নেই। স্টেশনমাষ্টার আরিফুল ইসলাম আগের ষ্টেশন মাষ্টারদের মতোই বলেন, আমিতো এসব বস্তি উচ্ছেদে চিঠির পর চিঠি দেই, উপরওয়ালারা প্রতিকার না নিলে আমি কি করবো।
যদিও ষ্টেশন মাষ্টার এসব কথা বলছে, দেখা যায় অবৈধ দখলদাররা ২নং গেইটের লেভেল ক্রসিংয়ের দুদিকের বেরিয়ারের চারপাশও ঘিরে ফেলেছে। এতে বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রি ও যাত্রি সাধারণ ও জনমনে প্রশ্ন আসে যে, রেলষ্টেশনের অবৈধ বস্তি, ২নং গেইট রেল লেভেল ত্রসিং ও অক্সিজেন রেল লেভেল ক্রসিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ন জায়গার ভাসমান অবৈধ দোকানগুলো চলছে কার মদদে? দোকানিদের থেকে জানা যায়, বহিরাগত চাঁদাবাজ ও ষ্টেশন কতৃপক্ষের লোকেরা প্রতিনিয়ত দৈনিক ও মাসিকভিত্তিতে মাশোহারা নিয়ে থাকে। এই চাঁদা নেয় কারা? এর অনুসন্ধান করতে গেলে দোকানীদের থেকে জানা যায়, বস্তি ও ভাসমান দোকানীদের থেকে রাজনৈতিক পরিচয়ে স্থানীয় বহিরাগত চাঁদাবাজরা যেমন চাদা তুলেন তেমনি স্টেশনের সংশ্লিষ্ট ইনচার্রজরা বাদ যাননা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানি বলেন, এমনি এমনি বসিনা। চাঁদা দিয়েই আমরা এখানে দোকান করি। ৩ ও ৪ স্তরে চাঁদা দেই আমরা। আপনারা নিউজ করে কিছুই করতে পারবেননা। ওরা আমাদের সেভ করবে। দোকানিদের আরেকজন বলেন, মাষ্টারের একজন প্রতিনিধি হাফিজ এই চাঁদার টাকা উত্তোলন করেন ওপেন সিক্রেট। ২নং গেইটঘরের দায়িত্বপ্রাপ্তরা তাদের সামনের মাছ ব্যবসায়ী ও তরকারী ব্যবসায়ীদের থেকে দৈনিক ১০০ টাকা থেকে ২০০ টাকা আবার অনেকের থেকে মাসিক ধার্য্য চাঁদা তুলে ষ্টেশন কতৃপক্ষসহ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। ওরা চাঁদা নিয়ে আমাদেরকে বলে দেয়, আমরা যেন এই চাঁদার কথা কাউকে ফাস না করি।
২নং গেইট রেল লেভেল ক্রসিং গেইট ঘরের গেইটম্যান শিল্পি বলেন, বেরিয়ার ফেলতে অনেক কষ্ট হয়। ভাসমান দোকানীরা রেললাইন, গেইটঘর ও বেরিয়ারের আশ পাশ দখল করে বেচা কিনা করে। বেরিয়ারতো সহজে ফেলা যায়না। এপাড়া ওপাড়ের বেরিয়ার ফেলার জায়গা পুরোটাই দখলে। চাদার বিষয়ে প্রশ্ন করলে এ বিষয়ে তিনি জানেননা বলে এড়িয়ে যান।
ষ্টেশন মাষ্টার আরিফুল ইসলামকে তার মুঠোফোনে বক্তব্যের জন্য ফোন দিলে তিনি বলেন, আমিতো এসব অবৈধ দোকানিদের উচ্ছেদের জন্য বার বার চিঠি লিখছি। আপনি অফিসে আসলে চিঠিগুলো দেখাতে পারবো। উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নিলে আমি কি করবো। দৈনিক ও মাসিক চাঁদা আদায়ের কথা জিজ্ঞাস করলে তিনি বলেন, আমি এদের থেকে কোন চাঁদা তুলিনা।
এ বিষয়ে ষোলশহর রেলস্টেশনের জি আর পি ইনচার্জ সাব ইন্সপেক্টও আবুল কাসেম বলেন, ২নং গেইট এলাকার রেলরাস্তার আশপাশ ও গেইটঘরের আশপাশ দখল করে আছে অবৈধ দোকানীরা। আমি স্বল্প সংখ্যক ফোর্স নিয়ে চেষ্টা করছি উচ্ছেদের জন্য। ২নং বেরিয়ারের আশপাশ দখল করে ফলের দোকান দিয়েছে মোল্লা নামের এক লোক। সে কারু কথা শুনতে চায়না। তাকে সরে যেতে বললে সে উল্টো হুমকি দেয়। গেইট ঘরের সামনে ও ষ্টেশনের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য ষ্টেশন মাষ্টার সাহেব ব্যবস্থা নিতে চাইলে বা আমাদের সহযোগীতা চাইলে আমরা অবশ্যই সহযোগীতা করবো।
আর এন বি ইনচার্জ আনোয়ার হোসেনকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমি এই ষ্টেশন থেকে বদলি হয়ে গেছি। এসব বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই। চাঁদা নেয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আপনারা অনুসন্ধান করে দেখেন কারা চাঁদা নেয়।