বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এই আওয়ামী লীগ সরকার শুধু গুম, খুন আর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শুরু করেছে তা নয় এরা নির্বাচন ও গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। সোমবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) মিলনায়তনে এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এসব বলেন।
জাতীয়তাবাদী মহিলা দল ঢাকা মহানগর উত্তরের কাফরুল ও ক্যান্টমেন্ট থানার কর্মি সম্মেলন উপলক্ষে এই সভা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আজকে আমরা ভয়ঙ্কর অন্ধকার তমস্যার মধ্যে পড়ে আছি। যারা আইনের কথা বলে ন্যায়ের কথা বলে তারা কারাগারে যায়। তাদের নামে হাজার হাজার মিথ্যা মামলায় দেয়া হচ্ছে। অথচন কদিন আগে আপনারা দেখেছেন ইউএনও শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের স্বীকৃতির জন্য জোরজবরদস্তি করে সভায় করেছেন। ইউএনও একটি থানার সর্বোচ্চ বড় কর্মকর্তা। কিন্তু সেখানে সভার মঞ্চে বক্তব্য দিচ্ছে আওয়ামী লীগের সাজা প্রাপ্ত সন্ত্রাসী, গুণ্ডাপাণ্ডা আর ক্যাডাররা। তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়। আর যিনি গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও ন্যায়, সত্য, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলেন তার বাস হয় কারগারের লৌহকপাটের ভেতরে। এধরনের বৈপরীত্য আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার অধীনেই দেখবেন।
ডাকাতরা আজকে শাসনদণ্ড হাতে নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাজাপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা আজকে দায়িত্ব পালন করছেন বলেই এমনটি হচ্ছে। খাদ্যমন্ত্রী কামরুল, ত্রাণমন্ত্রী মায়া এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী সাজাপ্রাপ্ত। তারা কত নির্লজ্জ। অথচ মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতীক ও ভরসাস্তল প্রধান বিচারপতি ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে রায় দিলেন। প্রত্যেকটি মানুষ, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এটাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। আর অবৈধ বাকশালী সংসদে তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। আসলে গোটা সংসদই হচ্ছে শেখ হাসিনার অধীনস্থ এবং চাকর-বাকর। সুতরাং ওই সংসদ যদি কোনো বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হয় তিনি কি তার সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো বিচার করবেন? এটাকেই মনে হয় ভয়ঙ্কর দু:সহ ও নাৎসীবাদী শাসন। আজকে নরপশুর শাসন চলছে আওয়ামী লীগের আমলে।
রিজভী বলেন, আজকে প্রকাশ্যে সন্ত্রাসীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর যিনি গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ন্যায়, সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলেন সেই নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে প্রতি সপ্তাহে আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে। আজকে সেই আদালতের কোনো ক্ষমতা নেই। কারণ প্রধান বিচারপতির পরিণতির পর সবার ওপরে প্রচণ্ড ক্ষমতাশালী একজন বসে আছেন। তিনি আদালত, নিবার্হী বিভাগ এবং সংসদেরও প্রধান হয়েছেন। তার কথা সবাইকে শুনতে হচ্ছে। এ ধরনের দুঃশাসন থেকে বেরিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সকলকে শরিক ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহম্মেদ, মহানগর উত্তর মহিলা দলের সভাপতি পেয়ারা মোস্তফা সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।