রাজধানীর গুলশান-২ এর ১৫৯ নম্বরে এক বিঘা ১৩ কাঠা জমির ওপর নির্মিত বাড়িটি দখলমুক্ত করতে আজ বুধবার বেলা দুইটার দিকে অভিযান চালাচ্ছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। বেলা পৌনে তিনটার দিকে বাসার ভেতর থেকে মালামাল নিয়ে শ্রমিকেরা রাজউকের ট্রাকে তুলেন।
উচ্ছেদ অভিযান শুরুর সময় বাড়িতে ছিলেন না মওদুদ। দুপুর তিনটার পরে বাড়িটির গেটের সামনে বসে কিছুক্ষণ মালামাল সরাতে প্রতিবন্ধকতাও সৃষ্টি করেন। তবে রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ তাকে সরিয়ে গেটের একপাশে বসিয়ে দেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিন যুগ ধরে বাড়িটিতে সপরিবারের বাস করে আসা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ।
গণমাধ্যমকর্মীদের বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘দেখেন, কীভাবে আমার মালামাল তুলে নিচ্ছে! এটা প্রতিহিংসার সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত। আদালত তো বলেননি এই বাড়ি থেকে উচ্ছেদের কথা। রাজউকও উচ্ছেদের নোটিশ দেয়নি। বিরোধী দলের রাজনীতি করি বলেই বাসা থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। সরকারি দলের নেতা হলে তো এমন হতো না। ’
এখন কী করবেন-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এখন তো রাস্তায় শুয়ে থাকা ছাড়া উপায় নেই। মালামাল কোথায় নেওয়া হবে তা জানি না। ’
বাড়ির মালামাল সরিয়ে কোথায় নেওয়া হবে, তা জানাননি রাজউকের কর্মকর্তারা। তবে শ্রমিকরা জানিয়েছে, মালামালগুলো মহাখালীতে রাজউকের কার্যালয়ে নেওয়া হতে পারে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গুলশানের যে বাড়িটিতে মওদুদ আহমদ ও তার পরিবার থাকছেন, তার প্রকৃত মালিক ছিলেন পাকিস্তানি নাগরিক মো. এহসান। ১৯৬০ সালে তৎকালীন ডিআইটির কাছ থেকে এই বাড়ির মালিকানা এহসান পান। ১৯৬৫ সালে বাড়ির মালিকানার কাগজপত্র এহসানের স্ত্রী অস্ট্রিয়ার নাগরিক ইনজে মারিয়া প্লাজের নামে নিবন্ধন করা হয়।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এহসান স্ত্রীসহ ঢাকা ত্যাগ করেন। তারা আর ফিরে না আসায় ১৯৭২ সালে এটি পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত হয়। ওই বছরই মওদুদ ওই বাড়ির দখল নেন। এরপর ১৯৭৩ সালের ২ অগাস্ট তারিখে তিনি ইনজে মারিয়া প্লাজের নামে একটি ‘ভুয়া’ আমমোক্তারনামা তৈরি করান এবং নিজেকে তার ভাড়াটিয়া হিসেবে দেখিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করতে থাকেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।