কুড়িগ্রামে জাপার ‘ঘাঁটিতে’ জগাখিচুড়ি চাপা কোন্দলে আওয়ামী লীগ, দুর্বল বিএনপি

0

আরিফুল ইসলাম সুজন ( কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামে চারটি সংসদীয় আসনের তিনটিই বিরোধী দল জাতীয় পার্টির দখলে। জেলার রাজনীতিতে দলটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর সাংগঠনিক অবস্থা নড়বড়ে।
একসঙ্গে দুটি কমিটি থাকায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে চলছে জগাখিচুড়ি অবস্থা।
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে চাপা কোন্দলে অস্বস্তি দিন দিন বাড়ছে। আগামী সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কোন্দল প্রকট হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। অন্যদিকে সংসদের বাইরে থাকা বড় দল বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে নীরব থাকার পর সরব হওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু সংগঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে দুর্বলতা রয়েছে দলটিতে।
জাতীয় পার্টি : কমিটি-পাল্টাকমিটি, সংসদ সদস্যদের সঙ্গে নেতাকর্মীদের দূরত্ব, সংসদ সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব, সাংগঠনিক কর্মকান্ েস্থবিরতা চলছে জাতীয় পার্টিতে। হতাশ হয়ে নেতাকর্মীদের বেশির ভাগই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ যোগ দিচ্ছে অন্য দলে। জেলা জাতীয় পার্টির কার্যালয় খোলা হয় কালেভদ্রে। সেখানে মুষ্টিমেয় কয়েকজন ছাড়া কেউ যায় না। পার্টির নেতাকর্মীরাই বলছে, আগামী নির্বাচনে বড় দলের সঙ্গে জোট না করে এককভাবে প্রার্থী দিলে দলের কারো জেতার সম্ভাবনা নেই। সাংগঠনিক এই অবস্থার জন্য নেতাকর্মীদের বেশির ভাগই দায়ী করছে কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরীকে। নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সংসদ সদস্য তাজুল ইসলাম নিজে কোনো সাংগঠনিক কর্মকান্ডে অংশ নেন না। আবার অন্য কেউ নেতৃত্বে এলে পাল্টা কমিটি করে তা অকার্যকর করে দেন। ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য তাজুল ইসলাম চৌধুরী জাতীয় পার্টি ছেড়ে ড. ফেরদৌস আহমদ কোরেশীর নেতৃত্বাধীন প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলে (পিডিপি) যোগ দেন। পরে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে দলটির মনোনয়ন নেন। বিএনপির হয়ে ২০০৮ সালের নির্বাচন ও ২০০৯ সালের উপনির্বাচনে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন। পরে আবার ফিরে আসেন জাতীয় পার্টিতে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তাজুল চৌধুরী। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তাজুল ইসলাম রওশনপন্থী নেতা। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে আনার ক্ষেত্রে তিনি অন্যতম কুশীলব। ফলে দলের চেয়ারম্যান তাঁকে পছন্দ না করলেও অগ্রাহ্য করতে পারছেন না।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ২৫ অক্টোবর কোনো কাউন্সিল ছাড়াই এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমানকে সভাপতি ও আবদার হোসেন বুলুকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা কমিটি গঠন করে দেন দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এর ৯ মাসের মাথায় এ কমিটি ভেঙে দিয়ে দলে যোগদানকারী মেজর (অব.) আব্দুস সালামকে আহ্বায়ক ও পনির উদ্দিনকে সদস্যসচিব করে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি করে দেন তিনি। কিন্তু এই কমিটিকে পাশ কাটিয়ে তাজুল ইসলাম চৌধুরীকে জেলা সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দেয় দুই পক্ষের মধ্যে। আহ্বায়ক সালাম ২০১০ সালের ১৪ জুলাই পদত্যাগ করেন। তাজুলকে ঘিরে এরশাদের এসব সিদ্ধান্ত নেতাকর্মীরা মানতে না পারায় এর পর থেকেই জাতীয় পার্টিতে শুরু হয় ভাটার টান। গুরুত্বপূর্ণ অনেক নেতা চলে গেছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে। এর মধ্যে পনির উদ্দিন ও আবদার হোসেন আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এ অবস্থায় গত বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমানকে আহ্বায়ক ও রেজাউল করিম রেজাকে সদস্যসচিব করে জেলা কমিটি গঠন করে দেন। কিন্তু এরশাদ এই কমিটি বাতিল না করেই একই বছরের ২৭ মে তাজুল ইসলাম চৌধুরীকে আহ্বায়ক ও আমিনুল ইসলামকে সদস্যসচিব করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করেন। ফলে দুটি কমিটি নিয়ে দলে দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে ওঠে। সদর, রাজারহাট, ফুলবাড়ী ও উলিপুরসহ কয়েকটি এলাকায় গঠিত হয় পাল্টাপাল্টি কমিটি। ফলে দলের কর্মকান্ড স্থবির হয়ে পড়ে। তাজুল চৌধুরীর পক্ষের লোকজন মোস্তাফিজুর রহমানের কমিটিকে অবৈধ মনে করলেও বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ওই কমিটি দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়নের সুপারিশ করে। ফলে কোনটি বৈধ আর কোনটি অবৈধ কমিটি তা নিয়ে গোলকধাঁধায় রয়েছে দলের কর্মীরা। অন্যদিকে তাজুল ইসলামের কমিটির সদস্যসচিব আমিনুল ইসলাম চিকিৎসার জন্য বিদেশে গেলে এস কে বাবুকে ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব করা হয়। এখন আমিনুল ইসলাম ফিরে এসে দায়িত্ব নিতে চাইলেও এস কে বাবু পদ ছাড়তে নারাজ।

দলীয় সূত্র অনুযায়ী, দলের অন্য দুজন সংসদ সদস্য কুড়িগ্রাম-১ আসনের মোস্তাফিজুর রহমান ও কুড়িগ্রাম-৩ আসনের এ কে এম মাঈদুল ইসলামের সঙ্গে তাজুল ইসলামের সুসম্পর্ক নেই। এ অবস্থায় তাঁর পক্ষে স্বাভাবিক সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানোও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অবশ্য মাঈদুল ইসলামের এলাকা উলিপুরে জাতীয় পার্টিতে কোন্দল ও পাল্টাপাল্টি কমিটি হয়েছে। এলাকায় তিনি আসেন কালেভদ্রে। তিনি মূলত তাঁর ভাই শফিকুল হক দারার মাধ্যমে কর্মকান্ড পরিচালনা করেন।

এদিকে নির্বাচনী এলাকায় এমনিতেই কম আসতেন তাজুল ইসলাম চৌধুরী। কয়েক মাস ধরে অসুস্থতার কারণে এলাকায় আসেননি। বেশির ভাগ নেতাকর্মী তাঁর কাছ থেকে দূরে সরে গেলেও তাঁর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি সেই সুযোগে টেস্ট রিলিফ (টিআর), কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) প্রকল্পের কাজ বিলিবণ্টন ও চাকরির তদবিরসহ নানাভাবে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন এস কে বাবু ও আতিক হাসান মানু। বরাদ্দ নিয়ে কোন্দলের জের ধরে সম্প্রতি দলের কার্যালয়ের সামনে এস কে বাবুসহ কয়েকজনকে লাঞ্ছিত করে যুব সংহতির কর্মীরা।

জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব রেজাউল করিম রেজা বলেন, ‘দলের ত্যাগী ও অভিজ্ঞ নেতাদের মূল্যায়ন না করে গণবিচ্ছিন্ন ও বারবার দল বদলকারী নেতাকে কাছে টেনে নেওয়ায় জাতীয় পার্টি বর্তমানে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে গেছে। কেউ আর ঝুঁকি নিয়ে দল করতে চাচ্ছেন না। ’
তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘সকল নেতাকর্মীর সাথে যোগাযোগ রাখছি। খুব শিগগির এলাকায় এসে সংগঠন শক্তিশালী করা ও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে সবার সাথে বসব। ’ তিনি আরো দাবি করেন তাঁর কমিটিই বৈধ। এ ব্যাপারে কোনো দ্বিধা নেই।
আওয়ামী লীগ : আগামী সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের ঝিমিয়ে পড়া কোন্দল উসকে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মেরুকরণ হচ্ছে অঙ্গসংগঠনেও। বর্তমানে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আলীর প্রভাব দলে বেশি থাকলেও নীরবে সংগঠিত হচ্ছে তাঁর প্রতিপক্ষরা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালের নির্বাচনে আকস্মিকভাবে কুড়িগ্রাম-২ আসনে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) আ ম সা আ আমিনকে মনোনয়ন দেওয়া হলে দলে বিরোধের সূত্রপাত হয়। সেই নির্বাচনে আমিন পরাজিত হওয়ার পর গ্রুপিং ও দ্বন্দ্ব আরো প্রকট হয়ে ওঠে। দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েন মূল দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা। ২০০৩ সালে কাউন্সিলরদের ভোটে জেলা কমিটিতে আমিন সভাপতি ও জাফর আলী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। কিন্তু ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচন এবং পরে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছেড়ে দেওয়া আসনে উপনির্বাচনে মনোনয়ন না পেয়ে আমিন দলে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাফর আলী। আমিনকে জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ করা হলেও কয়েক মাস পর তিনি সেই পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
চলতি বছর জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের সমর্থিত প্রার্থী জাফর আলীর বিরোধিতা করে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী পনির উদ্দিন আহমেদকে সমর্থন দেন তিনি। এ দলে ছিলেন কুড়িগ্রাম পৌর মেয়র আবদুল জলিল, সহসভাপতি গোলাম মোস্তফা, মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ নেতা লুত্ফর রহমান বকশিসহ অনেকেই। নির্বাচনের শুরুতে তাঁরা পনির উদ্দিনের পক্ষে কাজ করেন। তবে পরে প্রতিকূল অবস্থা দেখে তাঁদের অনেকেই ভোল পাল্টান।
দলীয় সূত্র জানায়, চারটি আসনে দলের সংসদ সদস্য নেই। তাই দলের নেতাকর্মীদের মনোবল সংহত রাখতে জাফর আলীকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গণসংবর্ধনাও পেয়েছেন তিনি। তবে সংবর্ধনাসভা ছাড়া মাঠ পর্যায়ে দলের সভা-সমাবেশে নেতাকর্মীদের তেমন দেখা যায় না। বিগত কাউন্সিলে পদ না পাওয়া বেশ কয়েকজন নেতা ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। দলের কর্মকান্ডে তাঁদের চোখে পড়ে না।
জানা যায়, উপজেলাগুলোর মধ্যে কোন্দলের শীর্ষে উলিপুর উপজেলা। সভাপতি মতি শিউলীর সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক গোলাম হোসেন মন্টুসহ বেশির ভাগ গুরুত্বপূর্ণ নেতার বিরোধ প্রকাশ্য। সম্প্রতি উপজেলা যুবলীগের একটি কমিটি গঠনের পর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতি শিউলী কেন্দ্রে তদবির করে পাল্টা কমিটির অনুমোদন আনেন। এ নিয়ে জেলা পরিষদের সামনে লাঞ্ছিত হন মতি শিউলী। তাঁর গাড়িতে ঢিল ছোড়া হয়। নাগেশ্বরী উপজেলায় ২০১৪ সালে উপজেলা নির্বাচনে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হওয়ায় বহিষ্কৃত হন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আছলাম সওদাগর। তাঁর বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়া হলেও পদ পাননি। তাঁর সঙ্গে মনোনয়ন নিয়ে শিল্পপতি গোলাম মোস্তফার বিরোধ রয়েছে। ২০০৮ সালে গোলাম মোস্তফা ও ২০১৪ সালে আছলাম সওদাগর মনোনয়ন পেলেও জোটের কারণে আসন ছেড়ে দিতে হয়। রাজারহাট উপজেলায় সাধারণ সম্পাদক আবু নুর মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামানের গ্রুপটি বর্তমানে শক্ত অবস্থানে থাকলেও চাকিরপশার ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদ সরওয়ার্দী বাপ্পীর সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে মাঝেমধ্যে বিরোধ বাধে। ফুলবাড়ী উপজেলায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী সরকারের সঙ্গে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান রতন পোদ্দারের বিরোধ ছিল। বেশ কয়েক বছর তা ধামাচাপা পড়ে গেলেও সম্প্রতি জেলা পরিষদের সদস্য পদে রতন পোদ্দার জয়লাভ করায় পুরনো বিরোধ মাথাচাড়া দেওয়ার আশঙ্কা করছে নেতা-কর্মীরা। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আলী বলেন, ‘দলের ভেতর বর্তমানে বড় ধরনের কোনো সমস্যা নেই। ছোটখাটো বিরোধ আমরা বসে সমাধান করব। দলের নেত্রী যাকেই মনোনয়ন দিবেন, সবাই তা মানবেন। ’

বিএনপি : সরকারবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় সাংগঠনিকভাবে বিএনপি অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। বেশ কিছু নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা চলমান রয়েছে। পুরাতন পোস্ট অফিসপাড়ার দলীয় কার্যালয়টি বেশির ভাগ সময় বন্ধ থাকে। দলীয় কর্মসূচিতে পুলিশ বাধার কারণে সীমিত পরিসরে কর্মসূচি পালন করে নেতাকর্মীরা। দলের ভেতর গ্রুপিং ও নেতায় নেতায় দ্বন্দ্ব রয়েছে। কয়েক দফা কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে এই দ্বন্দ্ব মীমাংসা করে দেওয়া হলেও লাভ হয়নি। তাই কুড়িগ্রাম জেলার বিষয়ে হতাশ কেন্দ্রীয় নেতারাও। একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, জেলা বিএনপিতে দীর্ঘদিন ধরে সাইফুর রহমান রানার সঙ্গে সাবেক পৌর মেয়র আবু বকর সিদ্দিকের দ্বন্দ্ব বিরাজমান। কয়েক দফা কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা হলেও লাভ হচ্ছে না।

আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘সভাপতি তাসভিরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা ঢাকায় থাকেন। যুগ্ম সম্পাদক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক নুর ইসলাম নুরু মূলত দল চালান। দলীয় সিদ্ধান্ত ছাড়াই অনেক কর্মকান্ড হয়। অগণতান্ত্রিক কর্মকান্ডের বিরোধিতা করলে ত্যাগী নেতাদের কাউকে কাউকে বাদ দেওয়া হয় কিংবা গুরুত্বহীন পদে দেওয়া হয়। ’ তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে দল চলছে। জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে সভাপতি, সম্পাদকসহ তাঁদের অনুগামীরা প্রকাশ্যে কাজ করেছে। একই কারণে সদর উপজেলা উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী দেওয়া হয়নি। তবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, ‘যাঁরা দলের কর্মসূচি ও সভায় আসেন না, কথায় কথায় মাইন্ড করেন, তাঁদের কথায় কান দিলে দল চলবে না। ’
কুড়িগ্রামে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে কিছুটা দুর্বল হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সাফল্য লাভ করায় সংসদ নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী দলের নেতারা। কয়েক দিন আগে জেলা বিএনপির প্রতিনিধি সভায় কেন্দ্রীয় নেতারা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য দলের নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।

জানা গেছে, কুড়িগ্রাম-১ আসনে দলের প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা বেশ কয়েকবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জিততে পারেননি। অবশ্য ‘৯৬ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলেন তিনি। এবার কুড়িগ্রাম-১ আসনের পাশাপাশি কুড়িগ্রাম-২ আসনেও তিনি মনোনয়ন চাইবেন বলে নিশ্চিত করেছেন। যদিও দীর্ঘদিন ধরে কুড়িগ্রাম-২ আসনের বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ জনসংযোগ করছেন। সোহেল হোসনাইন ও সাইফুর রহমান রানার পক্ষে নেতাকর্মীরা ভেতরে ভেতরে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। সাইফুর রহমান রানা বলেন, ‘দুটি আসনেই মনোনয়ন চাইব। কেন্দ্র বিবেচনা করবে। ’ সোহেল হোসনাইন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে জনসংযোগ করে পার্টির জনভিত্তি দাঁড় করিয়েছি। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা চায় আমি নির্বাচন করি। তাই মনোনয়ন চাইব। কেন্দ্র যা ভালো মনে করবে, তা মেনে নিব। ’কুড়িগ্রাম-৩ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি তাসভিরুল ইসলামের অবস্থান অনেকটাই সংহত। উলিপুর ও চিলমারী উপজেলার বেশির ভাগ এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি ভালো। উলিপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উলিপুর পৌরসভার মেয়র পদে প্রার্থীদের বিজয় আশাবাদী করছে সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের ব্যাপারে। তবে তাসভিরুল ইসলামের প্রধান সমস্যা তাঁর আপন বড় ভাই এ কে এম মাঈদুল ইসলাম এই আসনে জাতীয় পার্টির দলীয় সংসদ সদস্য। কুড়িগ্রাম-৪ আসনে আজিজুর রহমান মোটামুটি নিশ্চিত প্রার্থী। তিনি রৌমারী উপজেলা বিএনপির সভাপতি। এখানে জামায়াতের উল্লেখযোগ্য ভোট রয়েছে। জোটগতভাবে নির্বাচন করলে জামায়াতও আসনটি চাইতে পারে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.