খোকসা (কুষ্টিয়া), প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা ঘটেছে।২৯ জুলাই মঙ্গলবার সকালে সাতপাখিয়া গ্রামের এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাকে হাসপাতালে আনা হলে, দায়িত্বরত এমবিবিএস চিকিৎসক অনুপস্থিত থাকাকালীন একজন কথিত দালাল মৃত ব্যক্তির হৃদপিণ্ড পরীক্ষা বা ‘ইসিজি’ করেন। ঘটনার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সমসপুর ইউনিয়নের সাতপাখিয়া গ্রামের সঞ্জিত কুমার বিশ্বাস (৫০) ওই ব্যক্তি সকাল ৯টার দিকে মাঠে পাট কাটতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হলে পথেই তার মৃত্যু ঘটে। এরপরও হাসপাতালে এনে প্রায় এক ঘণ্টা পর মৃতদেহে ইসিজি সংযোগ করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতাল গেট সংলগ্ন একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মো. একরাম হোসেন
যিনি হাসপাতালের পরিচিত ‘দালাল’ হিসেবে পরিচিত নিজেই মৃতদেহে ইসিজি মেশিন সংযোগ করেন ও রিপোর্ট দেন। অথচ এ সময় কোনো এমবিবিএস চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না।
জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. আবির হোসেন সোহাগ বলেন, “আমি রাউন্ডে ছিলাম এবং সিরিয়াস রোগী দেখার পর মৃত ব্যক্তির ড্রপ টেস্ট করে চলে যাই। যিনি ইসিজি করেছেন, তার এমন কাজ করার কোনো অধিকার নেই।”
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রদীপ্ত রায় বলেন, “দালাল চক্রকে একবার আটক করা হয়েছে। দালালমুক্ত হাসপাতাল গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”
খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আরিফুল ইসলাম বলেন, “হাসপাতালকে দালালমুক্ত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। এ ঘটনাটি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো, স্বাস্থ্যখাতে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য কিভাবে চিকিৎসাসেবার মৌলিক মান ক্ষুন্ন করছে। প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি, এমন ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে—তা নিশ্চিত করতে দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হোক।