গাইবান্ধার ফুলছড়িতে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৬ সেঃ মিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত

0

গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিপদসীমার ৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে ব্রহ্মপুত্র নদের বিস্তৃর্ন চরাঞ্চল সহ তীরবর্তী  বিশাল জনপদ। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ব্রহ্মপুত্রের ডানতীরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অনেক স্থান ক্রমেই হুমকির সম্মুখিন হচ্ছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্যামতে, শুক্রবার (৭জুলাই) বিকেল ৫টা থেকে গত ২৪ ঘন্টায় তিস্তামুখ ঘাট পয়েন্টে ২০ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির ফলে ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর উড়িয়া, গজারিয়া ইউনিয়নের কাতলামারী ও নামাপাড়া এলাকায় ব্যাপক নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহে এসবস্থানে নদী ভাঙনের শিকার হয়ে ৪৮টি পরিবার তাদের বাড়ি-ঘর অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরী কর্মসূচির অংশ হিসেবে উত্তর উড়িয়া গ্রামে বালুভর্তি এক হাজার জিও ব্যাগ ড্যাম্পিং করার কথা জানিয়েছে। উড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহাতাব উদ্দিন সরকার জানান, উত্তর উড়িয়ায় কয়েকদিনের ভাঙনে ৩৫টি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে।

এদিকে দুর্গম চরাঞ্চল এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আজিজুর রহমান বলেন, পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ইউনিয়নের জিগাবাড়ি, আনন্দবাড়ি, পাগলার চর, তিনথোপার চর, হরিচন্ডির চর, সন্যাসীর চর ও ভাটিয়াপাড়ার বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এতেকরে গত পনের দিনের ব্যবধানে ২১টি পরিবারের বসতভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ জিগাবাড়ি গ্রামটি ভাঙ্গনে হুমকির সম্মূখীন। নিচু এলাকার পাট, শাকসবজি ও আমন বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে।

গৃহহীন পরিবারগুলো বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। এখন পর্যন্ত তাদেরকে কোন প্রকার ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হয় নাই। তিনি বলেন, নদী ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করলেও চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.