গাজা নিরাপত্তা পরিষদে ভোট মঙ্গলবার

0

সোমবার পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা সামগ্রী পৌঁছানোর জন্য জরুরিভিত্তিতে একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদে ভোটের আহ্বান।

এর আগে গত মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) গাজায় মানবিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পাশ হয় জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে।

প্রস্তাবটির পক্ষে ১৫৩টি দেশ ভোট দেয়। অন্যদিকে প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেয় মাত্র ১০টি দেশ।

কূটনৈতিক সূত্র মতে, আলোচনা আরো চালিয়ে নেয়ার জন্য নতুন যুদ্ধবিরতির এই প্রস্তাব মঙ্গলবার পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত গতকাল সোমবার বিকেল ৫টায় নির্ধারিত ভোটটি স্থগিত করার আহ্বান করে, যাতে জটিল আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়া যায়।

সূত্র জানিয়েছেন, পুনরায় নির্ধারণ করা সময় মঙ্গলবার সদস্যরাষ্ট্রগুলোর ভোট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভোট বিলম্বে প্রস্তাব এটাই প্রমাণ করে যে- জাতিসঙ্ঘের কূটনীতিকরা এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান খুঁজে পায়নি।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসরাইল ও হামাসকে যুদ্ধবিরতি ছাড়াও এই অঞ্চলে একটি দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের জন্য সমর্থন নিশ্চিত করে একটি খসড়া প্রস্তাব করে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে।

তবে খসড়াটিতে স্পষ্টভাবে হামাসের নাম উল্লেখ করা হয়নি, যদিও এটি ‘সমস্ত বন্দীদের অবিলম্বে এবং নিঃশর্ত মুক্তি’ এবং ‘বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সমস্ত সহিংসতা এবং শত্রুতা এবং সন্ত্রাসবাদের সমস্ত কাজের’ নিন্দা করে।

কূটনীতিকরা মনে করছেন যে- এই রেজুলেশনের ভাগ্য নির্ভর করে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চূড়ান্ত আলোচনার উপর। কারণ তাদের ভেটো ক্ষমতা রয়েছে।

এরও আগে গত শুক্রবার জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে একইভাবে গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে একটি রেজুলেশন আনা হয়েছিল। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর ফলে সেটি ব্যর্থ হয়।

এদিকে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ১৯ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ১১ হাজারেরও বেশি শিশু এবং নারী। আহত হয়েছে ২৮ হাজার ২০০ জনেরও বেশি।

ইসরাইলি সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, ইতোমধ্যে ১ হাজার ২০০ ইসরাইলি নিহত হয়েছে।

উল্লেখ্য, গাজাভিত্তিক ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস ইসরাইলের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে বলে ঘোষণা করেছে। এর প্রতিরোধে পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইসরাইল।

এক বিবৃতিতে হামাসের সামরিক শাখার প্রধান মোহাম্মদ দেইফ জানায়, শনিবার সকালে ইসরাইলে পাঁচ হাজার রকেট বর্ষণের মাধ্যমে ‘অপারেশন আল-আকসা স্ট্রম’ শুরু হয়েছে। ইসরাইল গাজা থেকে অনুপ্রবেশের কথা স্বীকার করেছে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.