গাজীপুর থেকে ঢাকামুখি পরিবহন বন্ধ, বিএনপির ২৭ নেতাকর্মী আট

0

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজ রোববার অনুষ্ঠিত সমাবেশকে কেন্দ্র করে গাজীপুর থেকে কোনো গাড়ি ঢাকার দিকে যেতে পারছে না। রোববার সকাল থেকেই সব গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা।

এদিকে ঢাকায় বিএনপির জনসমাবেশের আগের রাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার নামে গাজীপুরে বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের ২৭ নেতকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। 

গাজীপুরের চান্দনা-চৌরাস্তায় গাড়ির জন্য দাঁড়িয়ে থাকা উত্তরার বায়ার অফিসের কর্মকর্তা স্বপন জানান, তিনি সকাল ৮টা থেকে গাড়ির জন্য প্রায় একঘণ্টা ধরে দাড়িয়ে আছেন। ঢাকার দিকে কোনো গাড়ি যেতে দিচ্ছে না পুলিশ। গাজীপুরে উত্তরবঙ্গগামী সকল যানবাহন চললেও ঢাকাগামী যাত্রীবাহী কোনো পরিবহন চলছে না। উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী বিভিন্ন পরিবহনের বাস গাজীপুরের চান্দনা-চৌরাস্তা থেকে ঘুরিয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে ঢাকাগামী যাত্রীরা পরিবহন সংকটে পড়ে বাসস্ট্যান্ডগুলোতে যাত্রীরা গন্তব্যে যেতে ভিড় জমিয়েছেন।

এবিষয়ে গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন বলেন, ঢাকা থেকে অন্যত্র যানবাহন চলতে দেয়া হলেও ঢাকার দিকে কোনো গাড়ি চলতে দেয়া হচ্ছে না। উপরোন্ত তাদের শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের নেতা-কর্মীদের আটক করে ভয়-ভীতি ছড়াচ্ছে। এ অভিযানের আগেই তাদের অধিকাংশ নেতা-কর্মীরা ঢাকায় চলে গেছেন।

এ ব্যাপারে গাজীপুর ট্রাফিক বিভাগের এএসপি সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, তারা কোনো গাড়িকে বাধা দিচ্ছে না। পরিবহনের লোকেরাই গাড়ি নিয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছেন না। তবে কী কারণে তারা গাড়ি নিয়ে যাচ্ছে না সে ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
তবে পরিবহন নেতা সুলতান উদ্দিন সরকার এ ব্যাপারে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সাখাওয়াত  হোসেন সবুজ জানান, আজ দুপুরে ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশ। তাই সমাবেশে জনসমাগম ঠেকাতে আওয়ামী লীগ পুলিশ ও দলীয় ক্যাডার দিয়ে যানবাহন বন্ধ করে দিয়েছে। 
টঙ্গী থানার ওসি মো. ফিরোজ তালুকদার জানান, টঙ্গীতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে শনিবার রাতে বিএনপির যুবদল নেতা আমজাদ হোসেন ঝুনাসহ সাত নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।  
এ ছাড়া কালিয়াকৈর থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, একই অভিযোগে একই রাতে কালিয়াকৈর থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মৌচাক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক মনির সিকদারসহ ১১ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। 
শ্রীপুর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জয়নাল আবেদীন জানান, শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহ্জাহান ফকির এবং গাজীপুর জেলা শ্রমিক দলের কোষাধ্যক্ষ ও শ্রীপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মো. হারিছ মাঝিসহ ৫ জনকে আটক করা হয়।     
এ ছাড়া কাপাসিয়া থেকে ৪ ও কালীগঞ্জ থেকে ২ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ।  
গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন বলেন, ঢাকা থেকে অন্যত্র যানবাহন চলতে দেয়া হলেও ঢাকার দিকে কোনো গাড়ি চলতে দেয়া হচ্ছে না। উপরোন্তু শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের নেতাকর্মীদের আটক করে ভয়ভীতি ছড়াচ্ছে। তবে এ অভিযানের আগেই তাদের অধিকাংশ নেতাকর্মী ঢাকায় চলে গেছেন।  

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.