গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে নিম্ন মানের সেমাই

0

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : ঈদকে সামনে রেখে কাশিয়ানী উপজেলার হাট-বাজার ভেজাল ও নিম্ন মানের খোলা সেমাইয়ে সয়লাব হয়ে গেছে। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় বিভিন্ন নামী-বেনামী ব্র্যান্ডের নামে এ সব নিম্নমানের খোলা ও ভেজাল সেমাই বাজারজাত করছে। ঈদে ভোক্তাদের চাহিদার কথা বিবেচনা করেই ব্যবসায়ীরা এ সব নিম্ন মানের খোলা সেমাই আমদানী করছে। উপজেলা সদরসহ রামদিয়া, রাজপাট, রাহুথড়, ভাটিয়াপাড়া ও জয়নগর বাজারের দোকাণ গুলিতে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে এ সব খোলা ও ভেজাল সেমাই। একদিকে গ্রামাঞ্চলের সহজ-সরল মানুষ এ নিম্ন মানের খোলা সেমাই কিনে প্রতারিত হচ্ছেন। অন্যদিকে এ সব সেমাই গ্রহণ করে নানা রোগ-ব্যধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন।
গতকাল সরেজমিনে উপজেলার প্রায় প্রতিটি হাটবাজারে মুদি দোকানে গিয়ে দেখা গেছে, বাঁশের তৈরী ঝুড়িতে দোকানের সামনে খোলামেলা ভাবে সাজিয়ে রেখে কেজি দরে বিক্রি করছে সেমাই। জানা গেছে, নিম্নমানের এ সব সেমাইয়ের মধ্যে লাচ্ছা সেমাইয়ে ভেজালের পরিমাণ বেশি। যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এছাড়া চিকন সেমাই তৈরীতে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্ন মানের ময়দা, বিষাক্ত ক্যামিক্যাল ও রং। খোলা, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শুকানোর পর তা প্যাকেটজাত করা হচ্ছে বিভিন্ন নামীয় প্রতিষ্ঠানের নামে। নোংরা পরিবেশে তৈরী নিম্নমানের এ সব সেমাই খেয়ে সাধারণ মানুষ পেটের পীড়াসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। হাট-বাজারে ঝুঁড়িতে রেখে যে সেমাই গুলো বিক্রি হচ্ছে, সে গুলোর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কোন নাম ঠিকানা নেই। এমনকি উৎপাদন ও মেয়াদোর্ত্তীনের কোন তারিখও উলে¬খ নেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যবসায়ী জানান, এ সব নিম্ন মানের খোলা সেমাইয়ের বেশির ভাগ রাজধানী ঢাকার বাবুবাজার, ইসলামপুর, কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে আমদানী করা হয়ে থাকে।
কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মো: ইকবাল খান বলেন, খোলা বাজারে বিক্রি হওয়া সেমাই গ্রহণের ফলে মানুষের শরীরে ক্যান্সার, কিডনী, লিভারসহ নানা ধরণের কঠিন রোগের আশংকা রয়েছে। তাই এ ধরণের ভেজাল ও নিম্ন মানের খোলা সেমাই পরিহার করা উচিত।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.