বাংলাদেশে বর্ষাকালে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টি হয়। ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র পর সেই মৌসুমী বায়ু চলে এসেছে এ দেশে। উপকূলে পৌঁছেছে দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। ইতোমধ্যে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের উপর গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা দেখা যাচ্ছে। জ্যেষ্ঠ্যের তৃতীয় সপ্তাহে, অর্থাৎ রোববারের মধ্যে মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত অগ্রসর হতে পারে। বৃহস্পতিবার হাতিয়ায় দেশের সর্বোচ্চ ১৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। শুক্রবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর বিস্তার হবে সারা দেশে। এই মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হবে, যার পরিমাণ প্রায় ৪৬০ মিলিমিটার। এর সঙ্গে মৌসুমি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে বঙ্গোপসাগরে।
আবহাওয়াবিদ খোন্দকার হাফিজুর রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড় মোরা দুর্বল হওয়ার পর বুধবার রাঙামাটি ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত স্থল নিম্নচাপটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা না থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দররের সতর্কতা সংকেত নামিয়ে ফেলতে বলা হয়। তবে এর প্রভাবে বিভিন্ন এলাকায় ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে।
দক্ষিণপশ্চিম মৌসুমী বায়ু ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম উপকূল পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে। একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উপর অবস্থান করছে, যা উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এর প্রভাবে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, অতি ভারি বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় কোথাও কোথাও ভূমিধসেরও আশঙ্কা থাকে। এ বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
আজ সকাল ৯টায় আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়; খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। আর জুন মাসের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ মাসের প্রথমার্ধেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু সারাদেশে বিস্তার লাভ করতে পারে। তাতে সারাদেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে।