১২ বছর বয়সী ফুটফুটে মেয়েটি এখন হাসপাতালের বিছানায়। তার বিরল রোগ সম্পর্কে এতদিন কেউ জানতই না। বাবা দরিদ্র মুদি দোকানি। যথাসাধ্য ডাক্তার দেখিয়েছেন মেয়েকে। কিন্তু কেউ ধরতে পারেনি রোগ। অতঃপর বিষয়ট মিডিয়ার নজরে আসায় এখন নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছে ছোট্ট মুক্তামণি। বেলা দেড়টার দিকে তাকে দেখতে যান মুশফিক। তিনি মুক্তামণিকে বলেন, ‘চিন্তা কোরো না, তুমি সুস্থ হয়ে উঠবে। সবাই তোমার পাশে আছে, দোয়া করছে।’ আজ শনিবার তার এই স্বপ্ন আরও যেন গতি পেল টাইগার ক্যাপ্টেন মুশফিকুর রহিমকে পাশে পেয়ে। মুশফিক তাকে সাহস দেন—বলেন, ‘তুমি সুস্থ হয়ে উঠবে।’
মুশফিককে দেখেই তাঁকে চিনতে পারে মুক্তামণি। সে বলে, টেলিভিশনে মুশফিককে অনেক দেখেছে। এখন কাছ থেকে দেখতে পেয়ে ভালো লাগছে।
এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন। মুশফিক তাঁকে বলেছেন, তিনি (মুশফিক) এ ধরনের রোগীদের পাশে থাকতে চান। কিন্তু সব সময় সুযোগ হয় না। তাই কোনো কোনো সময় লোকমারফত খোঁজখবর নেন, সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
মুক্তামণির রোগ নিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। ব্যাপক আলোচনা চলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ১১ জুলাই মুক্তামণিকে ভর্তি করা হয় বার্ন ইউনিটে। তারপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তামণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেন।
সাতক্ষীরার কামারবাইশালের মুদি দোকানি ইব্রাহিম হোসেনের দুই মেয়ে হীরামণি ও মুক্তামণি। তারা যমজ। হীরামণি সম্পূর্ণ সুস্থ থাকলেও মুক্তামণি বিরল এক রোগে আক্রান্ত।
মুক্তামণির পরিবারের সদস্যরা জানান, জন্মের দেড় বছর পর থেকে মুক্তামণির ডান হাতের সমস্যার শুরু। প্রথমে হাতে টিউমারের মতো হয়। ছয় বছর বয়স পর্যন্ত টিউমারটি তেমন বড় হয়নি। কিন্তু পরে মুক্তামণির ডান হাতটি ফুলে অনেকটা কোলবালিশের মতো হয়ে যায়। মুক্তামণি বিছানাবন্দী হয়ে পড়ে। হাতে পুঁজ জমে থাকায় তা থেকে সব সময় দুর্গন্ধ বের হতো। সাতক্ষীরা, ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় নানান চিকিৎসা চলে তার। তবে ভালো হয়নি বা ভালো হবে, সে কথা কেউ কখনো বলেননি। বার্ন ইউনিটে ভর্তির পর এখন হাতটি ব্যান্ডেজ করে রাখার কারণে তেমন কোনো গন্ধ বের হচ্ছে না।
বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন আশার কথা শুনিয়েছেন মুক্তামণি ও তার পরিবারকে। তিনি বলেছেন, চিকিৎসকেরা আশাবাদী, মুক্তামণি সুস্থ হয়ে যাবে।