চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের চিলমারীতে কৃষকের গম সংগ্রহে অনিয়ম ২মাস অতিবাহিত হলেও প্রকৃত কৃষকরা গম দিতে পারেনি খাদ্য গুদামে। চলতি মৌসুমে দেশব্যাপী গম সংগ্রহ অভিযান শুরুর ২মাস পেরিয়ে গেলেও চিলমারীতে এক ছটাক গম সংগ্রহ করেনি খাদ্য বিভাগ। সারাদেশজুড়ে একযোগে ১৮ এপ্রিল থেকে সরকার ২৮ টাকা কেজিদরে গম ক্রয় শুরু করে। উপজেলা কৃষি অফিস কতৃক কৃষকের তালিকা তৈরি করলেও তা বাস্তবে নেই। উক্ত কৃষকের নাম ভাঙ্গিয়ে এমপি, ব্যাবসায়ী, দলীয় নেতাকর্মী ও ইউএনওসহ কয়েকজন কর্মকর্তা ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ পরিস্থিতির মুখে চলতি গম সংগ্রহ মৌসুমে উপজেলায় এ অভিযান ভেস্তে যেতে বসেছে। এ বছর বাজার মূল্যের চেয়ে সরকারিভাবে নির্ধারিত গমের দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ৮ টাকা বেশি। বাজারে এখন গম প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮ থেকে ১৯ টাকা দরে। প্রতি বছর গম সংগ্রহের সময়সীমা যা থাকত তা এবার কমিয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত বেঁধে দেয়া হয়েছে। এর ফলে প্রকৃত চাষীদের চেয়ে মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়া দালাল চক্র লাভবান হবেন বলে গম চাষীরা মনে করেন। খাদ্য বিভাগ যথা সময়ে গম ক্রয় না করায় চাষীরা বাজার মূল্যের চেয়ে সরকারের বেঁধে দেয়া মূল্যে গম বিক্রি করে যে পরিমাণ লাভবান হতো তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। উপজেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ২০১৬-১৭ মৌসুমে উপজেলায় কৃষকের কাছ থেকে ৩৬৪ মেট্রিক টন গম ক্রয়ের বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছে। জানাগেছে, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে এবং সরকারের ভর্তুকি অনুদানপ্রাপ্ত গম চাষীদের কাছ থেকে গম কিনতে হবে। এদিকে গম সংগ্রহের জন্য উপজেলায বরাদ্দ আসার ২ মাস অতিবাহিত হলেও উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক ইউনুছ আলী গোপনে সুকৌশলে কৃষকদের নামের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যাবহার বিভিন্ন ব্যাবসায়ীয় কাছ থেকে গম সংগ্রহর অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি প্রকৃত কৃষকের তালিকা তৈরি নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। গম ক্রয়ের ব্যাপারে কোন প্রচারনা না থাকায় সংরক্ষণ সমস্যার কারনে কৃষকরা গম নিয়ে বিপাকে পড়েছে এবং ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর (২০১৬-১৭ মৌসুম) উপজেলায় গমের উৎপাদন হয়েছে ৫ হাজার ১১৯ মেট্রিক টন। এব্যাপারে উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক মো: ইউনুছ আলী তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন গম সংগ্রহের জন্য প্রচার প্রচারনা করতে হবে তার কোন দরকার হয় না। এপ্রসংঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও গম ক্রয় কমিটির সভাপতি মির্জা মুরাদ হাসান বেগ জানান গম সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু হয়েছে কি না তা আমার জানা নেই। তিনি আরো জানান তবে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে গম সংগ্রহ করা হবে।