চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত খবর পাওয়া গেছে নিহত ১১১ জন এবং আহত হয়েছে ২২০ জন ।এই তথ্য রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এতে গানসু প্রদেশে এবং দক্ষিণে কিংহাই প্রদেশের ভবনগুলো ভেঙে পড়ে। পার্বত্য অঞ্চলে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা জরুরী উদ্ধার অভিযান ব্যাহত করছে,ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ জানা যায়নি।
আজ মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) প্রতিবেশী জিনজিয়াংয়েও দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ জানা যায়নি।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং চীনের অন্যতম দরিদ্র অঞ্চল গানসুতে সম্পূর্ণ উদ্ধার অভিযান চালাতে নির্দেশ দিয়েছেন। এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট শি জানিয়েছেন, “তল্লাশি ও উদ্ধার, সময়মতো আহতদের চিকিৎসা এবং হতাহতের সংখ্যা কমানোর জন্য সকল প্রচেষ্টা করা উচিত।
” রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া মঙ্গলবার সকালে জানিয়েছে, গানসুতে ১০০ জন নিহত এবং ৯৬ জন আহত হয়েছে। এ ছাড়া কিংহাইতে ১১ জন নিহত এবং ১২৪ জন আহত হয়েছে। এলাকার কিছু অংশে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে।
গানসু তিব্বত ও লোয়েস মালভূমির মধ্যে অবস্থিত এবং মঙ্গোলিয়ার সীমানা।
সোমবার রাতের ভূমিকম্পটি চীনের মুসলিম হুই জনগণের প্রশাসনিক অঞ্চল লিনজিয়া হুইতেও আঘাত হেনেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ (ইউএসজিএস) বলেছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.৯ এবং গভীরতা ১০ কিলোমিটার (ছয় মাইল)। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে এবং উদ্ধারকারীরা ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের মধ্য হতাহতদের জন্য অনুসন্ধান চালাচ্ছে। অনেক বাড়ির ছাদ আংশিকভাবে ভেঙে পড়েছে। সরকার ঘটনাস্থলে উদ্ধারকর্মীদের দল পাঠিয়েছে।
চীনের অবস্থান বেশ কয়েকটি টেকটোনিক প্লেটের ওপর। বিশেষ করে ইউরেশীয়, ভারতীয় এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেট যেখানে মিলিত হয়েছে। ফলে চীন ভূমিকম্পের প্রবণ। গত সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সিচুয়ান প্রদেশে ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে ৬০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়। গানসুতে ১৯২০ সালের একটি ভূমিকম্পে ২ লাখেরও বেশি মানুষ মারা যায়।