রংপুর প্রতিনিধিঃ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘জুলাই সনদ’ রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তাই ভোর থেকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে সকলেই ভোট দেবেন। ‘রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকায় বিএনপির পক্ষেই সম্ভব দেশের আইনশৃঙ্খলা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। বিএনপিই পারে দেশকে দুর্নীতির রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত করতে।’
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে রংপুরের কালেক্টরেট ঈদগাঁহ মাঠে আয়োজিত বিভাগীয় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘আবু সাঈদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদেরকে আরেকটি বিষয়ের টুঁটি চেপে ধরতে হবে। তা হলো দুর্নীতি। এই দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরতে হবে। আমরা দেখেছি বিগত ১৬ বছর উন্নয়নের নামে মেগা প্রজেক্ট হয়েছে। যদি মেগা প্রজেক্টটি শুধু হতো, আমাদের আপত্তি ছিল না। কিন্তু আমরা দেখেছি, কীভাবে মেগা প্রজেক্টের নাম করে মেগা দুর্নীতি করা হয়েছে। এই দুর্নীতির অবসান হতে হবে।’
বিএনপি চেয়ারম্যানবলেন, ‘আগামী ১২ তারিখ জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে কৃষিঋণ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মওকুফ করা হবে। রংপুর অঞ্চলের সকল এনজিও ঋণ সরকারের পক্ষ থেকে পরিশোধ করে দেওয়া হবে। পীরগঞ্জে (শহিদ আবু সাঈদের এলাকা) কয়লা খনির সম্পদ কাজে লাগিয়ে ব্যাপক উন্নয়ন করা হবে। রংপুর বিভাগকে কৃষিজাত পণ্যভিত্তিক শিল্পকেন্দ্রে পরিণত করা হবে; ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে। আইটি কোম্পানিগুলোকে কর ছাড় দেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের সম্পদ লুটপাট করে যারা বিদেশে পাচার করেছে, অর্থ পাচার করেছে, তাদেরও এই দেশে বিচার হতে হবে। সেই অর্থ, লুটপাট করা অর্থ আমাদেরকে চেষ্টা করতে হবে বিদেশ থেকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে এসে যাতে মানুষের কাজে ব্যবহার করা যায়।’
দেশের মানুষ পরিবর্তন চায় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। কী পরিবর্তন? ফ্লাইওভার হবে বড় বড়, বিল্ডিং হবে বড় বড়—ঠিক আছে, হলে হবে। কিন্তু মানুষ তার নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন চায়। মানুষ চায় কর্মসংস্থান। মানুষ চায় নিরাপদে রাস্তা দিয়ে হাঁটবে। মানুষ চায় নিরাপদে রাতে বাসায় ঘুমাবে। মানুষ চায় নিরাপদে যে যার চাকরি-বাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য সব কাজ-কারবার করবে। কাজেই সেই নিরাপদ ব্যবস্থা যদি তৈরি করতে হয়, তাহলে সমর্থন লাগবে আপনাদের। আপনাদের সমর্থন থাকলে সেই নিরাপদ ব্যবস্থা ইনশাআল্লাহ বিএনপি বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।’
তারেক রহমান বলেন, রংপুর আবু সাঈদের পবিত্র রক্ত মেশানো মাটি। এখানে আবু সাঈদ ও চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ প্রায় ১৪০০ শহীদ যে স্বপ্ন নিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই ‘জুলাই সনদ’ রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তাই ভোর থেকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে সকলেই ভোট দেবেন।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের বিপ্লবে সাধারণ মানুষের যে অংশগ্রহণ ছিল, সেই ঐক্য ধরে রাখতে হবে। নিশিরাত বা ডামি নির্বাচনের দিন শেষ উল্লেখ করে তিনি জনগণকে অধিকার প্রয়োগে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা যদি সবাই একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থাকি, আমরা যদি সবাই একসঙ্গে পরিশ্রম করি, তাহলে এই উত্তরাঞ্চল, এই রংপুর বিভাগ কখনোই মঙ্গাপীড়িত থাকতে পারে না। অনুন্নত বলে, উন্নয়নের ছোঁয়া নেই বলে, কোনোভাবেই এটা থাকতে পারে না। এই অবস্থার আমরা এবারই ইনশাআল্লাহ পরিবর্তন করতে পারবো, আপনাদের সমর্থন যদি আমাদের সঙ্গে থাকে। আপনাদের সমর্থন ধানের শীষের পক্ষে থাকলে ইনশাআল্লাহ এই পরিস্থিতির পরিবর্তন আমরা এবারই ইনশাআল্লাহ করবো।’
রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামুর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।