ষ্টাফ রিপোর্টার: অবশেষে পর্যটন কর্পোরেশনের ডিএফও ব্যবস্থাপক (পর্যটন বার এন্ড রেস্তোরা) নিজাম উদ্দিন হায়দারের ব্যাক্তিগত রোষানলে পড়া কর্মচারীদের ডিউটি বন্ধকরণ ও কর্মচারীদের হয়রানী করার অভিযোগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গত পহেলা মে ২০২৫ইং তারিখে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান বরাবরে দুদক চিঠি দিয়েছেন।
জানা য়ায়, ফ্যাসিষ্ট আমল থেকে তার ক্ষমতার দাপটে তটস্থ বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। ৫ই আগষ্টে ক্ষমতার পালা বদলে তার দাপট যেন আরো বেড়ে যায়। রাতারাতি হয়ে উঠেন বিএনপির পরিচয়ে একজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা। শুধু তাই নয়, বিগত সময়ের দুর্নীতির অভিযোগের বিরুদ্ধে পর্যটনের খোদ নতুন চেয়ারম্যানও নিতে পারেননি তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা। বরং কয়েকমাস আগে নিজাম উদ্দিন হায়দারের বলা এক অডিও রেকর্ডে শুনা যায়, তিনি চাইলে পর্যটনে ডাইরেক্টররা চাকুরীতে বহাল থাকবে, তিনি চাইলেই ডাইরেক্টরদের চাকুরী সেকেন্ডেই শেষ করে ফেলতে পারেন। তিনি পর্যটনে কাউকে ভয় পাননা। তিনি একাই একশ। এই বিষয়গুলো গণমাধ্যমে প্রচার হলেও কোন রহস্যজনক কারনে ব্যবস্থা নিতে পারেননি পর্যটন কতৃপক্ষ।
জানা যায়, এই অডিও ফাঁস হওয়ার পর খোদ ডাইরেক্টররা নিজাম হায়দারের অদৃশ্য ক্ষমতার দাপটে কেউ উচ্চবাচ্য করতে সাহস করেননি। পর্যটনের কয়েকজন কর্মকর্তা হতাশার সাথে বলেন, আওয়ামী সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় থাকা ডিএফও ব্যবস্থাপক সরকারী কর্মকর্তা হয়েও বর্তমানে বিএনপির কয়েক নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে ক্ষমতা দেখান। আরো জানা যায়, নিজাম উদ্দিন হায়দার সংসদে দায়িত্ব পালনকালিন সময়ে দুর্নীতি করায় তার সহকর্মীগণ ২জুন ২০২৪ ইং তারিখে উনার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। তার অন্যায়ের বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ দিলে বা মুখ খুললে তিনি তাদেরকে কোন কারন দর্শানো নোটিশ ছাড়াই চেয়ারম্যানকে উল্টাপাল্টা বুঝিয়ে দীর্ঘবছরের কর্মরত কর্মিদের সিস্টেমে অবসরে পাঠান বলে কয়েকজন জানান।
জানা যায়, ফ্রীশপগুলো দূর্নীতির আখরায় পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয়, ডিউটি ফ্রি শপে বিক্রয় যোগ্য প্রতিটি ফরেন রেগুলার হুইস্কির মূল্য সংস্থা কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য থাকা সত্বেও কেউ একের অধিক নিতে চাইলে অতিরিক্ত তিন চার ডলার অতিথির নিকট থেকে গ্রহণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠে আসে। একইভাবে ডিলাক্স হুইস্কির ক্ষেত্রে ৫-৬ ডলার বেশি গ্রহণ করা হয়। বিগত সময় থেকে এই ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠে আসলেও অদ্যবধি কোন কার্যকরী পদক্ষেপ না নেয়ায় অনেকের মনে প্রশ্ন এসেছে কোন শক্তির প্রভাবে তার সকল অনিয়ম চাপা পড়ে যায়।
পর্যটন অফিস সুত্রে জানা যায়, নিজাম উদ্দিন হায়দারের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তের জন্য দেয়া দুদুকের এই চিঠির জবাবে সঠিক তদন্তের জন্য পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান বিষয়টি আমলে নিয়ে জি এম সৃজন বিকাস বড়ুয়াকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।