বায়েজীদে শফি গংদের ইজারা প্রাপ্ত জায়গা দখল করতে উচ্ছেদের চেষ্টা জবরদখলকারীদের

0

চট্টগ্রাম জেলার বায়েজীদ থানাধীন জালালাবাদ মৌজার পি, এস খতিয়ান নং ২০১, পি, এস দাগ নং ৮৯১, বি,এস দাগ নং ৮০৭ দাগের আন্দর মোট ৭২ শতক জমি ২০১২ইং সালের গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ঘোষিত ‘ক’ গেজেটে সরকারী ভিপি সম্পত্তি মুলে গত ২৮/১০/২০১৫ ইং তারিখে ১৪২২ সাল পর্যন্ত ইজারা খাজনা পরিশোধ পূর্বক মোঃ শফিসহ মোট ৯ জন ইজারা পান। ইজারা প্রাপ্তির পর থেকে গৃহাদি এবং দোকান ঘর নির্মান করিয়া দীর্ঘদিন যাবৎ ভোগ দখলে বসবাস করছেন। সেই লীজপ্রাপ্ত জায়গা একদল ভূমিদস্যু জবরদখল করে নিজেদের দখলে নিতে চায় বলে অভিযোগে প্ওায়া যায়।
সরেজমিনে জানা যায়, উক্ত জায়গা বি,এস রেকর্ডীয় মুলে মালিক দাবী করেন হাজী আবদুল ওয়াজেদ। যার খতিয়ান নং ৬৩। তার ওয়ারিশ হতে ১৫২৩৮ নং আমমোক্তার নামা দলিল মুলে সিটি হোম লিমিটেড-এর পক্ষে তদীয় ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান ৪.০৫৫০ একর ও উক্ত একই ওয়ারিশ হতে ১৫২৩৬ নং আমমোক্তার নামা দলিল মুলে ইপিক প্রোপার্টিজ লিমিটেড এর পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আবু সুফিয়ান ৪.০৫৫০ একর জায়গা প্রাপ্ত হন। উল্লেখ্য বি, এস ও পি, এস জরিপে উক্ত আব্দুল ওয়াজেদের নাম চুড়ান্ত প্রকাশ হলেও বিগত ১৯৭৬ সালে ০৬/৭৬-৭৭ ভিপি লীজ মামলা মুলে সরকার উক্ত সম্পত্তি ভিপি হিসাবে ঘোষণা করেন। তৎপরে ওয়াজেদ অলী তৎ বিরুদ্ধে সদর মুন্সেফ আদালত, চট্টগ্রাম-এ ২০/৭৭ মামলা রুজু করেন। বিজ্ঞ আদালত বাদী পক্ষে আংশিক অবমুক্তির আদেশ দেন। তৎপরে বাদী ওয়াজীদ আলী উক্ত মামলার রায়ে সন্তুষ্ট না হয়ে জেলা জজ আদালত, চট্টগ্রাম-এ আপীল মামলা নং ৬৭/৮১ দায়ের করেন। উক্ত মামলায় বাদী পক্ষে রায় ঘোষনা করা হয়। ফলে পরবর্তীতে সরকার মহামান্য হাইকোর্টে উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে সিভিল রিভিশন মামলা নং ৭৩/৮৩ দায়ের করেন। উক্ত সিভিল রিভিশন মামলা বিগত ০৩/০৫/৮৪ ইং তারিখের আদেশ মতে রুল ডিসচার্জ করেন। এবং জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রামকে তপশীলোক্ত সম্পত্তির খাজনা গ্রহনের নির্দেশ প্রদান করেন। তৎপরে হাজী ওয়াজেদ আলী ও পরবর্তীতে তৎ ওয়ারিশগণ ২০১১ সাল পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে ২০১২ সালে উক্ত নালিশী দাগের সম্পত্তি সহ আরো কিছু সম্পত্তি অর্পিত 

 

সম্পত্তি হিসাবে গেজেটে প্রকাশিত হলে হাজী ওয়াজেদ আলীর ্ওয়ারিশগণ অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পন মামলা ২১৫২/১২ এবং ৬৩৪৮/১২ দায়ের করেন। যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ঘোষিত ‘ক’ গেজেটে সরকারী ভিপি সম্পত্তি মুলে গত ২৮/১০/২০১৫ ইং তারিখে ১৪২৪ বাংলা পর্যন্ত ইজারা খাজনা পরিশোধ পূর্বক মোঃ শফিসহ মোট ৯ জন উক্ত দাগের ৭২ শতক জায়গার ইজারা প্রাপ্ত ।
এই মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সিটি হোম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ইপিক প্রোপ্রার্টিজ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক গংরা কয়েকজন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী এনে জেলা প্রশাসক থেকে শফি গংদের ইজারা প্রাপ্ত সম্পত্তি জবর দখল করে উচ্ছেদ করার অপপ্রয়াস চালান বলে জানা যায়।
এই বিষয়ে ন্যাশনাল নিউজকে শফি বলেন, অজ্ঞাত নামা ২০/৩০ জন সন্ত্রাসী দিয়ে তপশীলোক্ত সম্পত্তিতে প্রতিনিয়ত পাহাড় কর্তন, স্থিত ঘরবাড়ি, দোকান পাট ভেঙ্গে, ফলন্ত গাছপালা কেটে সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন ধরনের জোড় জুলুম ভয়, হুমকি ধমকি দিয়ে উচ্ছেদের চক্রান্ত করছে প্রতিনিয়ত। নিরাপত্তার খাতিরে বিগত ২৪/০৩/২০১৬ ইং তারিখে বায়েজীদ থানায় সাধারণ ডায়রী দায়ের করি, যার নং ১২৭৮। পরবর্তীতে তারা আমরা ভোগ-দখলকারীদের হুমকি ধমকি দিলে ২৩/০৭/২০১৬ইং তারিখে পুনরায় জিডি করি যার নং ১২২১। থানা থেকে কোন প্রতিকার না পেয়ে আমি বাদী হয়ে গত ১৩/০৪/২০১৭ইং তারিখে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মিচ মামলা রুজু করি। যার মামলা নং-৫০৪,(২) এতেও কোন প্রতিকার না পেয়ে শান্তি ভঙ্গের আশংকায় বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালতে ১৪৫ নং দায়ের করি। জবর দখল কারীরা থানাকে বুঝিয়েছে আমার ভোগ দখলে থাকা এই সরকারী অর্পিত সম্পত্তির উপর তাদের নামজারী রয়েছে। তা শুনে আমি থানায় যেয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বুঝাতে চেষ্টা করি, এই জমি সরকারের কাষ্টডিয়ান সম্পত্তি উহার উপর সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নামজারী দেয়ার কোন সুযোগ নাই। তারা এই অর্পিত সম্পত্তির উপর যে নামজারির কথা বলছে তা সম্পূর্ন ভাবে মিথ্যা এবং বায়েজীদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এই জায়গা আমার ভোগ দখলের অনুকুলে লীজপ্রাপ্তির কাগজ, খাজনা আদায়ের কাগজ থেকে শুরু করে সকল ডকুমেন্টস দেখাই। কিন্তু সন্ত্রাসীরা কোন কথা মানতে চায়না। তাদের এক দাবী যেভাবে হউক এই জায়গা দখল করবে। সেই লোভে পুনরায় দখল করতে এলে আমি উপায়ান্তর না পেয়ে গত ১১/০৬/২০১৭ ইং তারিখে স্থানীয় কাউন্সিলর ও ০৫/০৬/২০১৭ ইং তারিখে জেলা প্রশাসক মহোদয় বরাবর বিষয়টি অবগতি করার জন্য আবেদন করি, তিনি বিষয়টির গুরুত্ব অনুভব করে এডিসি মহোদয়কে বিহীত ব্যবস্থা নিতে বলেন, এডিসি মহোদয় উপ- পুলিশ কমিশনার উত্তরকে ব্যবস্থা নিতে বললে তিনি বায়েজীদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জরুরী ব্যবস্থা নিতে বলেন যার ফলশ্রুতিতে বায়েজীদ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত জবরদখলকারীদের আমার ভোগদখলীয় উক্ত লীজকৃত জায়গা দখল করতে বাধা প্রদান করেন। কিন্তু জবরদখলকারীরা আইন বা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কথার কোন তোয়াক্কা না করে বার বার আমাদেরকে উচ্ছেদের পায়তারা করে। থানা থেকে বার বার পুলিশ এসে বাধা প্রদান করলেও ধরাকে সরা জ্ঞান করে জবর দখলকারীরা কাউকে না মেনে আমাদের উপর অত্যাচার, উচ্ছেদকরে এই জায়গা দখল করতে চায়।
বর্তমানে অসহায় শফি প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে পরিবার নিয়ে বসবাস করছে। সে বলছে সন্ত্রাসীরা আমি ্ও আমার পরিবারকে উচ্ছেদ করে এই সরকারি জায়গা দখল করতে চায়। দখল না ছাড়লে আমি ও আমার পরিবারকে জানে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিচ্ছে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.