আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির গণ-অভ্যুত্থানের হুমকি নেতাকর্মীদের চাঙা করার কৌশল। তিনি বলেন, বিএনপির গণআন্দোলন, গণ-অভ্যুত্থানের হুমকি দুঃস্বপ্ন হয়ে থাকবে। তাদের গণ-অভ্যুত্থানের স্বপ্ন এখন জাদুঘরে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন আর অর্জনে ঢাকা পড়ে গেছে। বিএনপির গণঅভ্যুত্থানের কথা তাদের দলের নেতাকর্মীদের চাঙা করার কৌশল।
আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজারের পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনের সামনে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন।
সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ভূমিদলখকারীকে আওয়ামী লীগের সদস্য করা যাবে না। দল ভারী করার জন্য খারাপ লোককে সদস্য করবেন না। খারাপ লোক আমাদের দলে দরকার নেই। বিএনপিকে দুর্বল না ভাবার পরামর্শ দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওবায়দুল কাদের বলেন, সাংগঠনিকভাবে বিএনপি যতই এলোমেলো হোক না কেন, বিএনপি একটা বড় দল, তাদের জনসমর্থনকে দুর্বল ভাববেন না। তাদের এত দুর্বল ভাবার কারণ নেই, কারণ আওয়ামী লীগ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী ও সাম্প্রদায়িক সকল শক্তি ধানের শীষে ভোট দিবে।
সেতুমন্ত্রী বলেন, সদস্যভুক্তি করে আওয়ামী লীগকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। সেই সঙ্গে অগ্রাধিকার দিতে হবে নারীদেরও। কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারী উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাই ১৮ বছরের তরুণ ও নারীদের দিয়ে কক্সবাজারের আওয়ামী লীগের সদস্যভুক্তির কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমে আগ্রহীদের কাছে যেতে হবে। আগামী নির্বাচনে এই নতুন সদস্যরাই হবে আওয়ামী লীগের অন্যতম শক্তি।
আগামী নির্বাচনে তরুণ ও নারীরাই আওয়ামী লীগের প্রধান ভোটের উৎস হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ১৮ বছরের তরুণ ও নারী ভোটাররাই আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার বিজয় সুনিশ্চিত করবে। আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে তরুণ পুরুষ ও নারী ভোটাররাই আমাদের টার্গেট হবে। আমাদের দেশে নারীদের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক। এই অর্ধেক নারী গোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের রেমিটেন্স কমেছে বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের জবাবে মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, মিথ্যাচার বিএনপির নেতাদের পেশা, মিথ্যাচারের মাধ্যমে তারা রাজনীতি করছে। বিএনপি নেতাদের বলব, আপনারা যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন বাংলাদেশের রেমিটেন্স কত ছিল তা জাতির সামনে তুলে ধরুন, তাহলে জাতি জানতে পারবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রেমিটেন্স কমেছে না বেড়েছে।
কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও এনামুল হক শামীম, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দি, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।