যুক্তরাজ্যের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আবার জয়ের মুকুট তিন বাঙালি কন্যার মাথায়। গতবারের চেয়ে আরও বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন তাঁরা। নির্বাচিত তিনজনই বিরোধী লেবার দলের মনোনয়নে নিজ নিজ আসন ধরে রাখার লড়াইয়ে নামেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসনে।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনে টিউলিপের মতো জিতেছেন আরও দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুশনারা আলী বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসনে ও রূপা হক ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড অ্যাকটন আসনে জয়ী হন।
তিন কন্যাই লেবার পার্টির প্রার্থী ছিলেন। ভোট গণনায় লেবারদের দুই বছর আগের চেয়ে ভালো ফল দেখা যাচ্ছে, তবে ঝুলন্ত পার্লামেন্টের আভাসও রয়েছে।
নিকটবর্তী প্রার্থীর তুলনায় ১৫ হাজার ভোট বেশি পেয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে ঢুকতে চলেছেন বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপ সিদ্দিক। দুই বছর আগেও নির্বাচনে তিনি এক হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন টিউলিপ।
৩৫ বছর বয়সী টিউলিপ প্রার্থী হন লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসন থেকে। ২০১৫ সালে নিজের প্রথম নির্বাচনে রক্ষণশীলদের শক্তিশালী প্রার্থীকে ১ হাজার ১৩৮ ভোটে জিতেছিলেন টিউলিপ। পরে তিনি বিরোধী দলনেতা জেরমি করবিনের ছায়া মন্ত্রিসভারও সদস্য হয়েছিলেন।
জয়ের পর টিউলিপ বলেন, “আমি ওয়েস্টমিনস্টারে হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্নের হয়ে সরব হব, হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্নে ওয়েস্টমিনস্টারের নয়। ” আগাম নির্বাচনে এই জয়ের পর ব্রেক্সিট নিয়ে দর কষাকষির দিকেও নজর রাখবেন বলে জানান এই পার্লামেন্ট সদস্য।
শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে শেখ রেহানা ও শফিক সিদ্দিকীর মেয়ে টিউলিপ লন্ডনের মিচামে জন্মগ্রহণ করেন। টিউলিপের শৈশব কেটেছে বাংলাদেশ, ভারত ও সিঙ্গাপুরে। লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে পলিটিক্স, পলিসি ও গভর্মেন্ট বিষয়ে তার স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে।
৩৫ হাজার ৫৯৩ ভোটের ব্যবধানে বড় জয় পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুশনারা আলী। এ নিয়ে পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসনে তৃতীয় মেয়াদে এমপি নির্বাচিত হলেন তিনি।
রুশনারা ৪২ হাজার ৯৬৯ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টির চার্লট চিরিকো পেয়েছেন ৭ হাজার ৫৭৬ ভোট।
২০১০ সালের নির্বাচনে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী হিসেবে রুশনারা ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এমপি নির্বাচিত হন। সেবার তিনি প্রায় ১২ হাজার ভোটে জয়ী হন। এরপর ২০১৫ সালের নির্বাচনে ২৪ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে তাক লাগানো জয় পেয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে এমপি নির্বাচিত হন। পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসনটি লেবার দলের নিরাপদ আসন।
অক্সফোর্ড-পড়ুয়া রুশনারার জন্ম সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায়। সাত বছর বয়সে তিনি মা-বাবার সঙ্গে যুক্তরাজ্যে যান।
লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড অ্যাকটন আসনে দ্বিতীয় মেয়াদে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রূপা হক। লেবার দলীয় প্রার্থী রূপা হকের প্রাপ্ত ভোট ৩৩ হাজার ৩৭। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ দলের প্রার্থী জয় মোরিসি পেয়েছেন ১৯ হাজার ২৩০ ভোট।
গতবার মাত্র ২৭৪ ভোটে জয় পাওয়া রূপা এবার জিতেছেন ১৩ হাজার ৮০৭ ভোটের ব্যবধানে।
২০১৫ সালে রূপা হক প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। রূপার আসনটি বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এ আসনে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের প্রার্থী জয় মোরিসের বিজয় ঠেকাতে এবার পরিবেশবাদী গ্রিন পার্টি কোনো প্রার্থী দেয়নি। তাঁরা লেবার প্রার্থী রূপাকেই সমর্থন দিয়েছেন। অন্যদিকে ডানপন্থী ইউকে ইনডিপেনডেন্ট পার্টি (ইউকিপ) কনজারভেটিভ প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে এই আসনে কোনো প্রার্থী দেয়নি। মাত্র তিনজন প্রার্থী এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অপর প্রার্থী হলেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটস দলের জন বল।
কিংসটন ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞানের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক রূপা লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশে তাঁর আদি বাড়ি পাবনায়।