ব্রহ্মপুত্র-যমুনার ভাঙ্গনে কানাইপাড়া দাখিল মাদ্রাসা সহ বসতবাড়ি হুমকির সম্মুখীন! জনমনে আতঙ্ক

0

বিজয় কুমার, সাঘাটা(গাইবান্ধা) থেকেঃ গত কয়েক দিনের ভারি বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ব্রহ্মপুত্র-যমুনায় তীব্র নদীভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এতে করে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া কানাইপাড়া দাখিল মাদ্রাসার ত্রিতল ভবনের পার্শ্বে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিরক্ষা প্রকল্পের ১০০ মিটার এলাকা বুধবার ধ্বসে যাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত ২৪ ঘন্টায় ওই এলাকার অর্ধশতাধিক পরিবারের বসতভিটা, আবাদি জমি, মূল্যবান গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকীর মুখে রয়েছে হলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনসহ আরও শতাধিক ঘর-বাড়ি।

ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে ভাঙন শুরু হয়েছে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া, নলছিয়া, কানাইপাড়াসহ ১০টি স্থানে। সাঘাটা উপজেলা সদর থেকে গোবিন্দপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার পাকারাস্তাসহ শতাধিক পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন কবলিত এলাকায় গত বছর বালুভর্তি জিও টেক্সটাইল ব্যাগ যমুনার তীরে স্থাপন এবং নিক্ষেপ করলেও এ বছর তা নদীগর্ভে ধ্বসে যাচ্ছে। ফলে কোনভাবেই ভাঙন ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না।

নদী ভাঙনের ফলে হুমকির মুখে রয়েছে সাঘাটার হলদিয়া কানাইপাড়া দাখিল মাদ্রাসার ত্রিতল ভবন, হলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন স্থাপনা সমূহ। কানাইপাড়া দাখিল মাদ্রাসাটি নদীর মুখে থাকায় মাদ্রাসার প্রায় ৩৬৬ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া থেকে সাময়িক বঞ্চিত হচ্ছে ভেবে অভিভাবক মহল শঙ্খিত। হলদিয়া গ্রামের বাসিন্দা আতাউর রহমান বলেন, গত বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠিকমতো কাজ না করায় এবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেও কোন কাজ হচ্ছে না। এখনি যদি জরুরী ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে দু’একদিনের মধ্যে মাদ্রাসাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। সেই সাথে ৩৬৬ জন শিক্ষার্থী পড়ালেখা থেকে বঞ্চিত হবে।
কানাইপাড়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী সোহাগ ও তুহিন জানান, ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি নদীগর্ভে চলে গেলে আমাদের পড়ালেখার ব্যাঘাত ঘটবে। তাই শিক্ষার্থী সহ এলাকাবাসি মাদ্রাসাটিকে রক্ষা করার জন্য সরকারের নিকট জোড়দাবি জানিয়েছেন। 

সাঘাটা উপজেলার হলদিয়ার কানাইপাড়া দাখিল মাদ্রাসা সুপার আবদুল খালেক বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ভেঙে গেলে এই এলাকার ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। যত দ্রুত সম্ভব নদীভাঙন রোধ করে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষা করতে হবে।
গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি প্রকৌশলী রেজাউল রহমান জানান, গত বছর অস্থায়ীভাবে কাজ করে ভাঙন প্রতিরোধ করতে পারলেও এবছর আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী সব ধরনের ব্যবন্থা গ্রহন করা হবে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.