গত দুই সপ্তাহে ইরাকের মসুল থেকে পলায়নরত ২৩১ বেসামরিক মানুষকে গুলি করে হত্যা করেছে ইসলামিক স্টেট। বৃহস্পতিবার এক রিপোর্টে জাতিসংঘ জানিয়েছে এ কথা। এর মধ্যে ২০৪ জনকে গত বৃহস্পতিবার ও শনিবার শিফা জেলায় ইরাকি বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ের সময় গুলি করে হত্যা করে। এছাড়া গত ৩১ মে বিমান হামলায় নিহত হয়েছে ৫০ থেকে ৮০ জন বেসামরিক ব্যক্তি। গত অক্টোবরে মসুল পুনর্দখলে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের সমর্থনে অভিযান শুরু করেছে ইরাকি বাহিনী। জানুয়ারিতে পূর্ব মসুলের দখল নেয়ার পর পশ্চিমাংশের দখল নেয়ার লড়াই শুরু করে ইরাকি বাহিনী। মসুলের পুরোনো শহরে ১ হাজার জঙ্গি অবস্থান করছে, কিন্তু সেখানে প্রায় বেসামরিক মানুষ রয়েছে ১ লাখ।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় জানিয়েছে, মসুল পুনর্দখলের অভিযান শুরু হওয়ার পরে আইএস বেসামরিক জনগণকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে এবং কেউ পালানোর চেষ্টা করলে তাকে গুলি করে হত্যা করে আসছে। গত কয়েক সপ্তাহে এটা মারাত্মক বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত ২৬ মে জঙ্গিরা শিফা পালাতে উদ্যত ২৬ বেসামরিক জনগণকে হত্যা করে যাদের মধ্যে ১৪ নারী ও ৫ শিশু রয়েছে। গত জুনের ১ তারিখ একই এলাকায় একটি পেপসি ফ্যাক্টরির সামনে ১৬৩ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তাদের মৃতদেহ রাস্তায় পরে থাকে কয়েকদিন। গত শনিবার শিফায় ৪১ জনকে হত্যা করা হয়।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার জেইদ রাআদ আল হুসেইন বলেন, পলায়নরত শিশুদের গুলি করে হত্যা করার নিন্দনীয় কাজের প্রতি ঘৃণা প্রকাশের ভাষা আমার জানা নেই। আমি ইরাকি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাবো যারা এই নৃশংস কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী তাদের জবাবদিহিতা ও বিচারের মুখোমুখি করা হোক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের মান অনুযায়ী। এই ভয়াবহ ঘটনার শিকার হওয়া মানুষদের কখনো ভোলা যাবে না। বিবিসি।