যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বন্দ্বে বাড়ছে তেলের দাম

0

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দ্বন্দ্বের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে হু হু করে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট তেলের দাম এক লাফে ব্যারেল প্রতি বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৭৫ মার্কিন ডলার। পরে অবশ্য প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট তেলের দাম কমে দাঁড়ায় ৭২.১৫ ডলার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত ছয় মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে সর্বোচ্চ অঙ্কের ঘর ছুঁয়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। জ্বালানির এই মূল্য আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে একটি দেশের অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব পড়ে।
ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ এনেছে আমেরিকা। পরমাণু গবেষণা নিয়ে ওয়াশিংটনের দেয়া শর্ত মানেনি তেহরান। তাই বিশ্বের প্রথম সারির তেল উৎপাদনকারী দেশটি থেকে তেল আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আর এরই প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাজারে।

এর আগে গত বছরের নভেম্বর মাসে নিষেধাজ্ঞায় কিছুটা ছাড় দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ইরান থেকে তেল আমদানির জন্য ১০টি দেশকে ছয় মাসের জন্য ছাড়পত্র দিয়েছিল ওয়াশিংটন। তারই মেয়াদ ফুরিয়ে যাচ্ছে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে। অর্থাৎ মে মাসের প্রায় শুরু থেকেই ইরান থেকে তেল আমদানি করতে পারবে না ওই ১০ দেশ।
ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। এমনকি তেল উৎপাদন এখনই বাড়ানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেন, তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সংস্থা- ওপেকের সঙ্গে মস্কোর যে চুক্তি হয়েছে তা মেনে তেলের উৎপাদন নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত আটকে রাখবে রাশিয়া।

উল্লেখ্য, ওপেকভুক্ত দেশগুলোকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করে মস্কো। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের হেরফের হওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে ভেনেজুয়েলা ও লিবিয়া। তবে চলতি বছরে এই দুই দেশে চরম অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও তেলের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু ইরানকে ‘শাস্তি’ দিতে গিয়ে তেল আমদানির মেয়াদ না বাড়ানোর সিদ্ধান্তে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.