যৌথ প্রযোজনার নামে ‘প্রতারণা’ বন্ধের দাবিতে রাজপথে নেমেছে চলচ্চিত্র শিল্পীরা

0

যৌথ প্রযোজনার নামে ছবিতে প্রতারণা বন্ধের দাবিতে একজোট হয়ে রাজপথে নেমেছে চলচ্চিত্র শিল্পী, পরিচালক ও কলাকুশলীরা। অনেকটা ফুসে উঠেছেন তারা। আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে এফডিসি ভিত্তিক ১৪টি সংগঠন হঠাৎ সেন্সর বোর্ড ঘেরাও করেছে। তার আগে এফডিসির সামনে সমবেত হন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা। তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে এফডিসি ভিত্তিক অন্য ১২টি সংগঠন।
সেন্সর বোর্ড ঘেরাও কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্যে নায়ক ফারুক বলেন, চলচ্চিত্র আমাদের কাছে পরিবারের মতো, পরিবার বাঁচানোর জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি। এই পরিবারের মধ্যে অন্য দেশের পরিবার এসে আধিপত্য বিস্তার করবে আর আমরা তাদের গেস্ট হয়ে যাব, এটা কখনো হতে পারে না।
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর বলেন, যৌথ প্রযোজনা নয়, যৌথ প্রতারণার বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ। যৌথ প্রযোজনার নামে যৌথ প্রতারণা হচ্ছে। এই প্রতারণা আমরা হটাতে চাই। এটাই হচ্ছে- আমাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।
পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের স্বার্থেই আমরা এই আন্দোলন করছি। যতক্ষণ পর্যন্ত না সেন্সর বোর্ড আমাদের আশ্বাস না দেবে যে বস-২ ছবিটি সেন্সর হবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।
জাজ মাল্টিমিডিয়ার প্রথম ছবির নায়ক বাপ্পী কর্মসূচিতে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, আমি জাজ মাল্টিমিডিয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি না। আমি আন্দোলন করছি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে বাঁচাতে। এই আন্দোলন যৌথ প্রতারণার বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘বস-২’ ছবিতে শিল্পী ও কলাকুশলীদের অংশগ্রহণ সমানুপাতে না হওয়ায় যৌথ প্রযোজনাবিষয়ক প্রিভিউ কমিটি একটি আপত্তিপত্র দেয় তথ্য মন্ত্রণালয়কে। পরে বাংলাদেশি প্রযোজক জাজ মাল্টিমিডিয়ার অনুরোধে মন্ত্রণালয় বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য বলে কমিটিকে। এরপরই গত বৃহস্পতিবার অনাপত্তি জানায় প্রিভিউ কমিটি। এখন ছবিটি সেন্সর বোর্ডের এখতিয়ারে রয়েছে। সেখান থেকে ছাড়পত্র পেলেই ছবিটি প্রদর্শনে আর কোনো বাধা থাকবে না।
ভারতের জিৎ ও শুভশ্রী অভিনীত এই ছবিতে বাংলাদেশের হয়ে অভিনয় করেছেন নুসরাত ফারিয়া। ‘বস-২’ ছবিটি জাজ মাল্টিমিডিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে প্রযোজনা করেছে কলকাতার জিৎ’স ফিল্মওয়ার্কস প্রাইভেট লিমিটেড।
এ ছবি শুধু নয়, যৌথ প্রযোজনার কোনো ছবিই যেন অবৈধভাবে, নিয়ম না মেনে বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়া না হয়, সেই আহ্বান জানান শিল্পী ও পরিচালক নেতৃবৃন্দ।
মগবাজারের ইস্কাটনে সেন্সর বোর্ডের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ চলাকালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগরকে ফোন করেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। মিশা জানান, চলমান আন্দোলন নিয়ে সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলতে চান মন্ত্রী। তবে দাবি না মানা পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে।চলচ্চিত্র ঐক্যজোটের একটি প্রতিনিধি দল তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন।
ঘেরাও কর্মসূচিতে শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর, নায়ক ফারুক, জায়েদ খান, আলীরাজ, রিয়াজ, বাপ্পী, সাইমন, নায়িকা পপি, পরী মণি, মৌমিতা মউ, অমৃতা খান, নিঝুম রুবিনা। পরিচালকদের মধ্যে অংশ নেন মুশফিকুর রহমান গুলজার, শাহীন সুমন, মনতাজুর রহমান আকবর প্রমুখ।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.