পুলিশের সমানেই ঘর থেকে আনুমানিক দুইশ গজ দূরে চট্টগ্রাম নগরীর কদমতলিতে ২ডিসেম্বর শনিবার হারুনুর রশিদ নামে এক যুবককে বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনেই তাকে গুলি করা হয়েছে। ঘটনার এক ঘণ্টা আগে ঘর থেকে বের হয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আসেন তিনি। আটাশ বছর বয়সী হারুন জাহাঙ্গীর চৌধুরী সিইনসি ও প্রয়াত বিএনপি নেতা দস্তগীর চৌধুরীর ভাই আলমগীর চৌধুরীর ছেলে। পরিবারের দাবি, পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকা– ঘটানো হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম লিমনের অনুসারী মোশাররফ হোসেন লিটনের নেতৃত্বে আরো ৫/৬ জন যুবক হত্যাকা– অংশ নিয়েছে। ঘটনার সময় লিমনও উপস্থিত ছিল।
চট্টগ্রাম নগর বিএনপির দাবি, হারুন সদরঘাট থানা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্য হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ায় চট্টগ্রাম সিটি কপোরেশনের তিন কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, আবদুল কাদের ও গোলাম মোহাম্মদ জোবায়ের মিলে শুভপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আনন্দ সমাবেশ ও শোভাযাত্রার আয়োজন করেন। এ শোভযাত্রা থেকে হারুনকে গুলি করা হয়েছে। আহত হারুনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে গতকাল সন্ধ্যায় (শনিবার) চমেক হাসপাতালে আসেন নগর বিএরপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর ও বিএনপির নেতাকর্মীরা।
নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, হারুন সদরঘাট থানা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন। সন্ত্রাসী যে হোক তাকে গ্রেপ্তারেরদাবিজানাচ্ছি।
জরুরি বিভাগের সামনে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী মিলন জানান, শুভপুর বাস স্ট্যান্ডের পাশে রাহাত সেন্টারের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে তিন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশশেষে বিকেল আনুমানিক পাঁচটায় একটি মিছিল রাহাত সেন্টারের সামনে থেকে নেওয়াজ হোটেল কদমতলি মোড় ঘুরে মিছিলটি আবার রাহাত সেন্টারের সামনে আসে। এসময় হারুন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ছিলেন। হঠাৎ কয়েকজন যুবক গিয়ে হারুনকে প্রথমে লোহার পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটাতে শুরু করে। একপর্যায়ে যুবকদের একজন খুব কাছ থেকে হারুনের বুকের বামপাশে দুটি ও ডান পাশে একটি গুলি করে পালিয়ে যায়। তবে হত্যার ঘটনায় অংশ নেয়া যুবকরা সিআরবির জোড়াখুনের মামলার আসামি সাইফুল আলম লিমনের অনুসারী। মিছিলে লিমনও ছিল। এক সপ্তাহ আগেও একই যুবকরা হারুনের ওপর হামলা করেছিল।
সদরঘাট থানার পরিদর্শক (ওসি) মর্জিনা আকতার বলেন, হারুনের ট্রান্সপোর্ট ব্যবসা আছে। তিনি সমাবেশ–শোভাযাত্রায় ছিলেন না। কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে সেটা আমরা তদন্ত করে দেখছি।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফিরিঙ্গবাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে শোভযাত্রা ও সমাবেশ শেষ করেছি। শোভাযাত্রার শেষদিকে পেছন দিকে গুলির শব্দ শুনি। তারপর আমি গিয়ে দেখি এক যুবক রাস্তায় পড়ে আছে। আহত যুবককে আমি নিজেই একটি সিএনজি ট্যাক্সিতে উঠিয়ে চমেক হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি হারুন নামে এ যুবক বিএনপি নেতা প্রয়াত দস্তগীর সাহেবের ভাই আলমগীর সাহেবের ছেলে।
মুরাদ বলেন, ‘কারা, কি কারণে তাকে গুলি করল সেটা আমরা জানি না। সম্ভবত সুযোগসন্ধানী কেউ আমাদের শোভাযাত্রার জনসমাগমের সুযোগ নিয়ে এই কাজ করেছে। আমার দাবি, অপরাধী যে হউক তাকে আইনের আওতায় আনা হোক।’
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ইসলাম বলেন, একটি সিএনজি ট্যাক্সিতে হারুনকে মাগরিবের পর পরই মেডিকেলে আনা হয়। তার বুকে বুকে তিনটি গুলি লেগেছিল। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়েছিল। তবে বাঁচানোযায়নি।
জানতে চাইলে পাঠানটুলি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুদল কাদের বলেন, আছরের নামাজের পর আমি সমাবেশে যাই। মাগরিবের নামাজের আগে মিছিলের শেষ দিকে গুলির শব্দ শুনি। পরে জানতে পারি গুলিতে হারুন নামে এক যুবক নিহত হয়েছে।
পশ্চিম মাদারবাড়ির কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, বিএনপির সাথে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আছি। সমাবেশ এবং মিছিলকে কেন্দ্র করে কেউ এ সুযোগ নিয়েছে। সূত্র: দৈনিক পূর্বকোণ(অনলাইন সংস্করণ)