সরকার ও সংখ্যাগরিষ্ট জনগণ আদিবাসীদেরকে বিছিন্ন করে রেখেছে

0

বান্দরবান প্রতিনিধিঃ ‘শান্তিপূর্ণ অধিকার আদায় আন্দোলনে নৃশংসভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। রাষ্ট্র এখানে দায় এড়াতে পারে না। রাষ্ট্রের সরকার ও সংখ্যাগরিষ্ট জনগণ আদিবাসীদেরকে বিছিন্ন করে রেখেছে। আমরা বিছিন্ন হতে চাই না, আমাদেরকে বিছিন্ন করে রাখা হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারী) বেলা ২ টায় আদিবাসী ছাত্র জনতার এনসিটিবি ভবন ঘেরাও’র শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি নামক সংগঠনের সদস্য কর্তৃক নৃশংস হামলার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে “সংক্ষুব্দ আদিবাসী ছাত্র জনতা ব্যানারে” বান্দরবানে আয়োজিত আদিবাসী শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ সমাবেশে এসব মন্তব্য করেছেন আদিবাসী নেতারা।

প্রতিবাদ সমাবেশ বক্তারা বলেন, সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী ‘স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি’ সংগঠনের সদস্যদের এক তরফা দাবির প্রেক্ষিতে নবম ও দশম শ্রেণির বাংলা ২য় পত্রের পাঠ্যপুস্তকের পেছনের প্রচ্ছদ থেকে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ‘আদিবাসী’ শব্দ সম্বলিত গ্রাফিতি বাতিল করেন। কতৃর্পক্ষের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং বাতিলকৃত গ্রাফিতিটি পুনর্বহালের দাবিতে আদিবাসী ছাত্র জনতা গতকাল ১৫ জানুয়ারী এনসিটিবি ভবন ঘেরাও কর্মসূচির ডাক দেয়। এর পরপরই বিশেষ মহলের উস্কানিতে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার হীন উদ্দেশ্যে ‘স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি’ নামক উগ্র সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী সংগঠনটি একই জায়গায় এনসিটিবি ভবন ঘেরাও এর কর্মসূচি ঘোষণা করেন। পূর্বপরিকল্পিতভাবে উৎপেতে থাকা জাতীয় পতাকা বাঁধা ক্রিকেট স্ট্যাম্প, লাঠি-সোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ‘স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি’ নামক উগ্র সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী গোষ্ঠী এবং পুলিশের বাধার মুখে পড়ে আদিবাসী ছাত্র জনতার মিছিলটি। পরে মিছিলটি সেখানে কিছুক্ষণ শ্লোগানরত অবস্থায় থাকা সময়ে ‘স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি’ নামে জড়ো হওয়া মৌলবাদী সন্ত্রাসীরা আদিবাসী ছাত্রজনতার উপর অতর্কিতে হামলা করে। এতে ১০-১৫ জন আহত হয়।

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন। এ আগে বান্দরবান রাজার মাঠ হয়ে উজানী পাড়া-মধ্যম পাড়া ও প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাব চত্বরে এসে বিক্ষোভ মিছিল শেষ হয়। এসময় হাতে ব্যানার ও প্লেকার্ড নিয়ে প্রায় হাজারও বিভিন্ন স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সমাবেশে মানবাধিকার কর্মী লেলুং খুমী, বান্দরবান দূর্নীতি দমন কমিশনের সভাপতি অংচমং মার্মা, বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইং সাইংউ নিনি, ছাত্র প্রতিনিধি হ্লামংসিং মার্মা, জন ত্রিপুরা, চুংইয়োই ম্রো ও উলিচিং মার্মা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.