সাদুল্যাপুরে কলা চাষে বদলে গেছে চাষীর জীবনচিত্র!

0

বিজয় কুমার, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কলা চাষ। অন্যান্য ফসলের চেয়ে স্বল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবার ৩৫ হেক্টর জমি কলা চাষে বৃদ্ধি পেয়েছে। নিজ জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতে রপ্তানি করে অধিক লাভবান হচ্ছেন কলা চাষীরা।

সাদুল্যাপুর উপজেলা বড় জামালপুর, আরাজী জামালপুর ও খোর্দ্দ রসুলপুর গ্রামসহ বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ১৫৫ হেক্টর জমিতে কলা চাষ করা হয়েছে। চারদিকে তাকালে নজরে পরছে সবুজে ভরা সারি সারি কলাক্ষেত। গাছের মাথায় নুয়ে আছে ছোট-বড় হাজারো কলার ছড়ি। গাছের পরিচর্যায় সারাক্ষন মেতে আছেন চাষীরা।
সোমবার সকালে উপজেলার কলা চাষী আঃ জলিল মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমাদের উৎপাদিত কলা দেশের বিভিন্ন জেলাগুলোর চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি করা হচ্ছে। এ কারণে একদিকে যেমন চাষিরা পাচ্ছেন কলার ন্যায্য মূল্য।  অন্যদিকে এ বাজার ঘিরে ক্রেতা, বিক্রেতা, স্থানীয় কলা ব্যবসায়ীসহ কয়েক শত পরিবার স্বচ্ছল জীবন যাপন করছেন।

উপজেলার কলা চাষী আলমঙ্গীর মণ্ডল বলেন, “জমিতে চারা রোপণের ৮ থেকে ৯ মাস পর ফলন আসতে শুরু হয়। একবার রোপণ করলে ফলন দেবার পর মুলগাছটি মরে যায়। কিন্তু তার গোড়া থেকে গজিয়ে ওঠা গাছ থেকে পর্যায়ক্রমে ফলন পাওয়া যায়। এছাড়া প্রতি বিঘা জমিতে মাত্র ৩৫ হাজার টাকা খরচ করে প্রায় লক্ষাধিক টাকার কলা বিক্রি করা সম্ভব।”
উপজেলার আদর্শ কলাচাষি সুমন মণ্ডল বলেন, এ বছর তিনি দুই একর জমিতে কলা চাষ করেছেন। এতে তিনি অনেক লাভবান হবেন বলে আশাবাদী। এখানকার মাটি কলা চাষের জন্য উপযোগি হওয়ায় কলা সুস্বাদু এবং বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

আরাজী জামালপুর গ্রামের কলাচাষি কাওসার মণ্ডল জানান, গত বছর ২ বিঘা জমিতে এক লাখ টাকা খরচ করে ৩ লক্ষাধিক টাকার কলা বিক্রি করেছেন।  এ বছর ৩ বিঘায় কলা চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে দের লাখ টাকা। এবার ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার কলা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। সাগর, মালভোগ ও চিনিচাম্পা কলার চাষ করা হলেও বাজারে মালভোগ কলার চাহিদা বেশী বলে তিনি জানান।

তবে চাষিদের অভিযোগ, কলা চাষ লাভজনক খাত হলেও ব্যাপক ভাবে উৎপাদনের ক্ষেত্রে চাষীদের উৎসাহিত করতে সরকার বা কৃষি অফিস থেকে কোনো আর্থিক সহযোগিতা করা হচ্ছে না। তারা আরও জানান, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া গেলে অধিক পরিমাণ কলা চাষে আগ্রহী হতেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। এর ফলে স্থানীয় ভাবে চাহিদা মিটিয়ে একটি রফতানিযোগ্য পণ্য হিসেবে রাজস্ব খাতে যুক্ত হতে পারে বিরাট অঙ্কের টাকা।

সাদুল্যাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ মোঃ ফজলে এলাহী জানান, এ উপজেলায় গত মৌসুমে কলা চাষ হয়েছিল ১২০ হেক্টর জমিতে, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫৫ হেক্টরে। অধিক লাভজনক হওয়ায় এখানকার কৃষকরা কলা চাষে ঝুঁকছেন। এতে উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কলা চাষ।
তিনি আরও জানান, কৃষি অফিস থেকে আমরা তাদের বাগানে সুষম সার, কীটনাশক সরবরাহসহ পোকামাকড় দমনে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে আসছি।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.