আজ বিদায় নিচ্ছেন জাপানের সম্রাট আকিহিতো। আগামীকাল ১ মে থেকে দায়িত্ব নিচ্ছেন তার পুত্র যুবরাজ নারুহিতো। যদিও তিনি অক্টোবরে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেবেন। আকিহিতোর বিদায়ে একটি যুগের অবসান শেষে নতুন যুগের শুরু হচ্ছে। গত দুইশ’ বছরে প্রথমবারের মতো দেশটির কোনো সম্রাট মৃত্যুর আগেই সিংহাসন ছাড়ছেন। এর আগে ১৮১৭ সালে এক সম্রাট ছেড়েছিলেন।
২০১৬ সালের আগষ্টে আকিহিতো (৮৫) জানিয়েছিলেন, তার স্বাস্থ্য ভাল নয়, বয়সও হয়েছে। তাই তিনি আগেভাগেই সিংহাসন ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন। পরে তার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে জনগন। পার্লামেন্টেও অনুমোদিত হয়।
আকিহিতোর দুই সন্তানের মধ্যে নারুহিতো বড়। নারুহিতো (৫৯) অক্সফোর্ডে পড়ালেখা করেছেন। তিনি টেমস নদীর ওপর গবেষণাপত্রও লিখেছেন। ২৮ বছর বয়সে তিনি ক্রাউন প্রিন্স হন। ১৯৮৬ সালে এক চায়ের পার্টিতে স্ত্রী মাসাকো ওয়াদার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ১৯৯৩ সালে তারা বিয়ে করেন।
এই দম্পতির আইকো নামে ১৮ বছর বয়সী মেয়ে রয়েছেন। জাপানে নারীরা উত্তরাধিকার হিসেবে সিংহাসনে বসতে পারেন না। তাই রাজকুমারী আইকোর সিংহাসনে বসার সুযোগ নেই।
বুধবার আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে নারুহিতোর দায়িত্ব নেয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে জাপানের নতুন যুগ।
জাপানে যখন সম্রাট বদল হয় তখন নতুন যুগের সূচনা হয়। প্রত্যেক সম্রাটের রাজত্বের একটি নাম আছে যেটি খ্রিস্টীয় বর্ষপঞ্জির পাশাপাশি ব্যবহার করা হয়। নতুন সম্রাটের রাজত্বের নাম ঘোষণা করা হয়েছে ‘রেইওয়া’, যার বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘শৃঙ্খলা এবং শান্তি’। এই প্রথমবারের মতো জাপানের একটি প্রাচীন কবিতা থেকে নামটি নেওয়া হয়েছে। এর আগে সম্রাট আকিহিতোর যুগের নাম ছিল ‘হেইসেই’, যার অর্থ ‘শান্তি অর্জন’।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় সম্রাটের সিংহাসন ত্যাগ করার অনুষ্ঠানটি ইম্পেরিয়াল প্যালেসের রাষ্ট্রীয় কক্ষ ‘মাতসু-নো-মা’তে অনুষ্ঠিত হবে।
পুরো অনুষ্ঠানটি ১০ মিনিটে শেষ হবে এবং অনুষ্ঠানটি শেষে হবে সম্রাট হিসেবে আকিহিতোর শেষ ভাষণের মধ্য দিয়ে। রীতি অনুসারে বুধবার সকাল থেকে নারুহিতো উত্তরাধিকার হিসেবে সিংহাসনের দায়িত্ব নেবেন।
ক্রাউন প্রিন্স নারুহিতো জাপানের ১২৬তম সম্রাট হতে যাচ্ছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি দেশকে ‘রেইওয়া’ যুগে প্রবেশের নেতৃত্ব দেবেন। সেই সঙ্গে শেষ হবে ‘হেইসেই’ যুগ। ১৯৮৯ সালে আকিহিতোর সিংহাসনে আসীন হওয়ার সময় থেকে ‘হেইসেই’ যুগ শুরু হয়েছিল।