দ্রুত বিচার আইনে সাজার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখন নির্বাচনের কথা উঠেছে, এই সময় যদি দ্রুত বিচার আইনে আমাদের বিরোধীদলের সব নেতা-কর্মীকে অভিযুক্ত করে সাজা দিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে তারা আবার সেই ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো একা একা নির্বাচন করতে যাবে। আজ মঙ্গলবার জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ড্যাব আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি আমলে প্রণীত দ্রুত বিচার আইনের বিভিন্ন অপরাধের জন্য সাজার মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়ে ৭ বছর করে আইন সংশোধনের প্রস্তাব সোমবার নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা স্পষ্টভাষায় বলতে চাই, এবার সেটা হবে না। এদেশের মানুষ আপনাদের ২০১৪ এর ৫ জানুয়ারির নির্বাচন করতে দেবে না। এ দেশের মানুষ তার অধিকার আদায় করবে, ভোটের অধিকার আদায় করবে। সত্যিকার অর্থেই তারা জনগণের একটা সরকার প্রতিষ্ঠা করবে।
আওয়ামী লীগ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, কতটুকু রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেলে, কতটুকু জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে আওয়ামী লীগ নির্বাচন করতে ভয় পায়। তারা বিএনপিকে নিয়ে নির্বাচন করতে চায় না, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন করতে চায় না।
তিনি বলেন, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা কেন তুলল? কারণ তারা জানে যে, ওই রকম সরকার থাকলে কোনো দিন তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। সেজন্য এই সরকার সেই পদ্ধতি বাতিল করেছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক যে সম্ভাবনা, সেই সম্ভাবনাকে সুচিন্তিতভাবে পরিকল্পিতভাবে একটা পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করবার জন্য তারা কাজ করছে। আপনারা লক্ষ করে দেখবেন, ধারাবাহিকভাবে যতগুলো বাজেট এসেছে, প্রত্যেকটা বাজেটে দেখবেন, কতগুলো খাতকে তারা একেবারে গুরুত্বই দেয় নাই। শিক্ষাখাতের খারাপ অবস্থা, স্বাস্থ্যখাতের খারাপ অবস্থা, দুরবস্থা সমস্ত জায়গায়।
সভায় মির্জা ফখরুল ছাড়াও বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য্ অধ্যাপক আবদুল মান্নান মিয়া, ড্যাবের সহ-সভাপতি অধ্যাপক এম এ কুদ্দুস, মহাসচিব অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, অধ্যাপক অধ্যাপক সিরাজউদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক মোস্তাক রহিম স্বপন, অধ্যাপক এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, ডা. আতিকুর রহমান।