দ্বীন পালনের ক্ষেত্রে মুসলিমদের উপর শক্তি প্রয়োগ করা যাবে কি?

1
Want create site? Find Free WordPress Themes and plugins.

কোন কোন নামধারী মুসলিম ইসলামের হুকুম-আহকাম পালনের সম্পূর্ণ উদাসীন। তারা ইচ্ছা হলে তা পালন করে আবার ইচ্ছা হলে তা পরিহার করে। তারা মনে করে ইসলামের হুকুম-আহকাম পালন করার ক্ষেত্রে কোন “জোর-জবরদস্তি নেই” তাই তারা নিজেদের ইচ্ছামত বল্গাহীন জীবন-যাপন করতে চায়। তাদেরকে এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে যে, ইসলাম শুধুমাত্র যারা ইসলাম গ্রহণ করেনি তাদেরকে জোর করে ইসলামে দিক্ষিত করার ব্যাপারে শক্তি প্রয়োগ করে না। কিন্তু যারা নিজেদের মুসলিম বলে দাবী করে তারা ইসলামের প্রতিটি আইন ও যাবতীয় হুকুম-আহকাম বিশেষ করে আল্লাহর ফরজ বিধানগুলি মানতে তারা বাধ্য। সেখানে শুধু জোর-যবরদস্তিই নয় বরং শরীআত না মানার কারনে তাদের জন্য শাস্তিও ইসলামে নির্ধারিত রয়েছে।তুমি মুসলিম বলে দাবি করবে অতচ আল্লাহর ফরজ-ওয়াজিব হুকুমগুলোর ব্যাপারে গাফেলতি প্রদর্শন করবে কিংবা পালনের ক্ষেত্রে এটি পরিহার করবে, এটা ইসলাম বরদাস্ত করে না। যারা আল্লাহর ফরজ ও ওয়াজিব হুকুমগুলি পালন না করে তাদের শাস্তির ব্যাপারে সকল ওলামায়ে কেরাম একমত। কিন্তু তাদের শাস্তির ধরনের ক্ষেত্রে রয়েছে বিভিন্ন মতামত-

যেমন নামাজের ব্যপারে বিভিন্ন হাদীসের আলোকে আহলে সুন্নাত বিদ্বানগণের মধ্যে ইমাম মালেক, ইমাম শাফেঈ, এবং প্রাথমিক ও পরবর্তী যুগের প্রায় সকল ওলামায়ে-কেরামগন এই মর্মে একমত হয়েছেন যে, যে ব্যাক্তি নামাজ পড়ে না সে ব্যক্তি ‘ফাসিক্ব’ এবং তাকে তওবা করতে হবে। যদি সে তওবা করে নামাজ আদায় শুরু না করে, তবে তার শাস্তি হবে মৃত্যুদন্ড।
আর ইমাম আবু হানীফা (রহ.) মতে, তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে এবং নামাজ আদায় না করা পর্যন্ত জেলখানায় আবদ্ধ রাখতে হবে।
ইমাম আহমদ বিন হাম্বল বলেন, ঐ ব্যক্তিকে নামাজের জন্য ডাকার পরেও যদি সে ইনকার (অস্বিকার) করে ও বলে যে ‘আমি নামাজ আদায় করব না’ এবং এইভাবে ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায় তখন তাকে কঠোর শাস্তি ওয়াজিব। অবশ্যই এরূপ শাস্তিদানের দায়িত্ব হ’ল ইসলামী সরকারের। পিতা-মাতা তার সন্তানের ক্ষেত্রে বেত্রাঘাত এমনকি তাকে আলাদাও করে দিতে পারবে। কেও কারো অধিনস্ত থাকলে দায়িত্বশীল ব্যক্তি তার অধিনস্তদের উপর শক্তি প্রয়োগ করে শরিয়ত মানতে বাধ্য করাতে পারবে। সে যদি শরিয়ত মানতে অস্বিকার করে তার দায়িত্ব থেকে বের করে দিতে পারবে।

শুধু তাই নয় প্রয়োজনে তাদের সাথে যুদ্ধ করে তাদেরকে দ্বীনের যাবতীয় আইন মানতে বাধ্য করানো অন্যান্য মুসলিমদের উপর ওয়াজিব। (তাফসীরে আবু বকর যাকারীয়া) যেমনটি সিদ্দিকে আকবর আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফত কালে যাকাত প্রদানে অনীহাকারীদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষনা করেছিলেন।তারপরেও শরিয়তের হুকুম পালনের ক্ষেত্রে নমনীয়তার কোন সুযোগ নেই। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তার দ্বীন সঠিকভাবে বুঝার তৌফিক দান করুন এবং সকল ধরনের ফেতনা-ফাসাদ হতে দুরে থেকে তার হুকুম পালন করা আমাদের জন্য সহজ করে দিন আমিন ।

লেখকঃ ডাঃ হাফেজ মওলানা মোঃ সাইফুল্লাহ মানসুর
সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলাম প্রচার পরিষদ, খুলনা মহানগরী

Did you find apk for android? You can find new Free Android Games and apps.

1 Comment

  1. আলহামদুলিল্লাহ, কিছু কিছু পত্রিকার অকৃতিম ভালবাসা সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস যুগায়। যারা আমার লেখা পেলেই প্রকাশ করতে কুণ্ঠিত না। এ সকল প্রত্রিকার কাছে সত্যিই চির কৃতজ্ঞ।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.