পাহাড় ধস, বন্যা আর জলাবদ্ধতা ধ্বংস এবং মানবেতর এক অধ্যায়, যা থেকে উত্তরণ জরুরী

0
Want create site? Find Free WordPress Themes and plugins.

বর্ষাপূর্ব বা বর্ষাঋতুতে পাহাড় ধসে প্রাণহানী, সম্পদ বিনষ্ট, স্বজন হারানো, বন্যা কবলিত হ্ওয়া, প্রাণহানী সহ ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়া, গবাদি পশু ধ্বংস হওয়া, আবাদী কৃষি জমি তলিয়ে ফসলের ক্ষতি হওয়া যেন সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। এই করুন মানবেতর দৃশ্যটি প্রতি বছর আমাদেরকে দেখতে হয়। সইতে হয়। কিন্তু এর যথাযথ কারন চিহ্নিত করে এর স্থায়ী সমাধানের সঠিক পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের যেন আশার বানীই হয়েই থেকে যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘনঘন বন্যা কবলিত হচ্ছে দেশ। বন্যা আসার মৌসুম ধরা হলেও গত কয়েক বছর ধরে এপ্রিলের শুরুতেই বন্যা চলে আসছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন প্রধানত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আগাম বন্যা দেখা দিচ্ছে। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন, নদীর তলদেশ ভরাট, নদীর পাড় দখল, নগরায়ণের ফলে জলাভূমি দখল, গাছপালা ও পাহাড় কাটায় নদীর তলদেশে পলি বৃদ্ধি, সময়মতো বন্যা প্রতিরোধকারী অবকাঠামো মেরামত না করা, বন্যা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ও আগাম বন্যার তথ্য প্রচার শক্তিশালী না করা। দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও সংশ্লিষ্ট জেলার ডিসিগুলোর রিপোর্টের ভিত্তিতে বন্যার কারণ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও ভারতের কয়েকটি অঞ্চলে হওয়া বন্যার পানি, পাহাড় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি, সংশ্লিষ্ট এলাকায় পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, পর্যাপ্ত বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামোর অভাব ও নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে এমন বন্যা হয়ে থাকে। বন্যার পানিতে প্রাণহানি হচ্ছে মানুষের, তলিয়ে যাচ্ছে অসংখ্য ঘরবাড়ি, গবাদি পশু, আবাদি কৃষি ক্ষেত, ধ্বংস হয় মানুষের আশা ও স্বপ্ন। এই থেকে উত্তরনের পথ এখনো জাতি খুজে পায়নি।রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো থেকে যে ত্রান যায় তাদিয়ে দিনের ক্ষুধা মিটেনা তাদের। বন্যার পরবর্তী সময়ে বন্যা কবলিত মানুষের হারানো জায়গা ফিরে পেতেও মানুষকে অনেক হয়রানীর স্বীকার হতে হয়। এমন প্রমান অনেক রয়েছে। তাই সরকার পরিকল্পিত উদ্যগ না নিলে প্রতিবছর এই সীমাহীন র্দুভোগ ভোগতে হবে মানুষকে।
এদিকে পাল্লা দিয়ে ঘটছে প্রাকৃতিক আরেক দুর্ভোগ পাহাড় ধস। সামান্য বৃষ্টিতে প্রাণহানী ঘটছে প্রতিনিয়ত। পৃথিবীর স্থলভাগের পরিমাণ শতকরা ২৭ ভাগ। আর ২২ ভাগ জায়গা জুড়ে আছে পর্বতমালা। পর্বতমালার কারণে সরাসরি উপকারভোগী মানুষের সংখ্যা শতকরা ২৫ ভাগ। বাংলাদেশে প্রায় প্রতিবৎসর পাহাড়ধসে অসংখ্য মানুষ মারা যাচ্ছে এবং সেই সাথে বিনষ্ট হচ্ছে অগনিত ঘরবাড়ি ও সহায় সম্পদ। নির্বিচারে পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন এবং বন-জঙ্গল ও গাছ উজাড়ের কারণেই চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে। দুর্যোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ের গায়ে জন্মানো বন-জঙ্গল এবং গাছপালা এর অভ্যন্তরীণ বন্ধন শক্ত রাখে। কিন্তু লোভী মানুষরা অব্যাহতভাবে পাহাড় কাটছে। অনেক ক্ষেত্রে দরিদ্র মানুষ বসতির প্রয়োজনেও পাহাড় কাটছে। এতেই পাহাড় ধ্বংসের পথ তৈরি হয়। সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সার্ভিসেস এবং ওয়াটারএইডের এক যৌথ সমীক্ষায় বলা হয়েছে, গতো এক যুগে তিন পার্বত্য জেলায় ৩ লাখ ৬২ হাজার হেক্টর পরিমাণ বনভূমি হ্রাস পেয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রকৃতিক বন ধ্বংসের তান্ডবলীলা অব্যাহতভাবে চলছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে শত শত ইটের ভাটা রয়েছে। সেগুলোতে ইট তৈরিতে পোড়ানো হচ্ছে বনের গাছ। তাছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রামের বৃক্ষ ও প্রাকৃতিক বন উজাড় হওয়ার পেছনে এসব কারণ মূলত দায়ী। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জন্য প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণের দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু সরকারিভাবে নিযুক্ত কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সরকারের ক্ষমতাবান-অর্থবান ব্যক্তিরা যৌথভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্টের জন্য এসব কারণকে চিহিুত করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার থেকে চলতি বছরে আসা ১০ লাখ রোহিঙ্গার কারণে কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলার বেশ কয়েকটি পাহাড় ইতিমধ্যে ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে। এ ছাড়াও চার জেলার পাহাড়ে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বসতি গড়ে তুলেছে। প্রায় প্রতি বছরই ছোটখাটো দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। গত বছর চারজন সেনাসদস্যসহ ৭৮ জন নিহত হয়। এই বছরও পূর্ন বর্ষা পূর্বেই পাহাড় ধসে বান্দরবানে প্রায় ১০ জনের মতো মারা গেছে। সূত্র বলছে, বান্দরবানের সাতটি উপজেলায় প্রায় ৩০ হাজার পরিবার, রাঙামাটির ১০টি উপজেলায় প্রায় ৮০ হাজার এবং খাগড়াছড়ির ৯টি উপজেলায় প্রায় ৬০ হাজার পরিবারের বসতি রয়েছে উঁচু-নিচু পাহাড় ও পাহাড় ঘেঁষে কিংবা পাহাড়ের পাদদেশেই। এসব পরিবার যুগ যুগ ধরে বসবাস করলেও বর্ষায় কেবল মাইকিং করে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া ছাড়া বাস্তবমুখী কোনো পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি প্রশাসন অথবা করা হয়নি পুর্নবাসন। স্থানীয় সাধারণ মানুষ ছাড়াও সরকারি বিভিন্ন সংস্থার বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার অভিযোগ রয়েছে। সূত্র জানায়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদফতর, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এমনকি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধেই পাহাড় কাটার অভিযোগ আছে। তাছাড়া বিভিন্ন সমিতির নামে প্রভাবশালীরাত পাহাড় উজাড় করছে। এরা কোন নিষেধ না মেনে পাহাড় কাটা অব্যাহত রাখলেও তাদের বিরুদ্ধেও কোনো যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ক্ষেত্রে রয়েছে পুলিশের অবহেলা ও গাফিলতি। পরিবেশবাদী সংগঠন নেতারা বলেন, পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটলেই কেবল প্রশাসনের টনক নড়ে। চিহ্নিত করা হয় ধ্বংসের কারণ। কিন্তু স্থায়ী সমাধান করা হয়না। তাই বন্যা, পাহাড়ধসের কারণ চিহ্নিত করে জাতির একটা অংশকে অকাল মৃত্যু, সম্পদ হারানো, স্বজন হারানোর বেদনা থেকে উদ্ধার করতে হবে। আর নগরের জলাবদ্ধতার সীমাহীন দুর্ভোগ বলাতো অল্পই হবে। মাঝে মাঝে নগরের রাস্তাগুলো খাল হয়ে যায়। অবর্ননীয় কষ্ট নগরবাসীর যেন গা সওয়া হয়ে গেছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এই মানবীয় সমাধানে যথাযথ পদক্ষেপে তৎপর হলেও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগের অনেক অপতৎপরতা, অসহযোগীতার ফলে স্থায়ী সমাধান করাটা ব্যাহত হয়। যারা বন উজাড়, পাহাড় ধ্বংস, নদী নালা দখল করে প্রবাহিত পানির গতিপরিবর্তনে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে তাদের শীঘ্রই আইনের আওতায় এনে সঠিক ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে প্রতিবছরের এই অভিশাপ থেকে জাতি মুক্তি পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে।তথ্যসুত্রঃ সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন।

লেখকঃ কাজী হুমায়ুন কবির

Did you find apk for android? You can find new Free Android Games and apps.

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.