ঢাবির রোকেয়া হলের প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবি করেছে ভিপি নুর

0
Want create site? Find Free WordPress Themes and plugins.

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জিনাত হুদার পদত্যাগ দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুর। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রোকেয়া হলের অনশনরত ছাত্রীদের সমর্থন দিতে গিয়ে তিনি এ দাবি করেন। নুর বলেন, প্রভোস্টকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।

ডাকসু নির্বাচনে রোকেয়া হলে ব্যাপক কারচুরির অভিযোগ করে তিনি বলেন, রোকেয়া হলের নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়ম হয়েছে। সে হিসাবে জিনাত হুদা প্রভোস্টের দায়িত্বে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন। তার অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।

১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে রোকেয়া হলে ব্যালটবাক্স সরিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। এই হলে এক ঘণ্টা দেরিতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। পরে আবার ভোটগ্রহণ স্থগিত থাকে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রোকেয়া হলে ৯টি ব্যালটবাক্স থাকার কথা বলা হলেও ভোটগ্রহণ শুরুর সময় ৬টি ব্যালটবাক্স দেখানো হয় প্রার্থীদের। কিন্তু বাক্সগুলো সিলগালা করা হয়নি। বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে আগে থেকেই সিল মারা ব্যালট পেপার উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় এ হলের শিক্ষার্থীরাও বাক্স তল্লাশির দাবি জানান।

এ অনিয়মের প্রতিবাদ করতে এসে ছাত্রলীগের নারী কর্মীদের হামলার শিকার হন নুরুল হক নুর। পরে শিক্ষার্থীরা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জিনাত হুদার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন।

রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ মিথ্যাচার করছেন অভিযোগ করে নুরুল হক নুর বলেন, আমার সহযোদ্ধা ফারুক হাসান, প্রগতিশীল ছাত্র জোটের নেতা লিটন নন্দী, স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী অরণি সেমন্তি খানসহ আমরা সেদিন (সোমবার, ডাকসু নির্বাচনের দিন) হলে (রোকেয়া হল) গিয়েছিলাম। অভিযোগ ছিল, গোপনে ব্যালটে সিল মারা হচ্ছে। সেটিই দেখতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমাদের দেখতে দেননি। বরং তিনি আমাদেরকেও নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়েছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি আমাদের মারার জন্য ছাত্রলীগের লেডিমাস্তান বাহিনীসহ কেন্দ্রীয় প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারিকে ডেকেছিলেন। আর আমার বোনেরা যখন অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিল, তখন তাদেরও দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল।

নুর বলেন, তাকে নাকি আমরা তার কক্ষে লাঞ্ছিত করেছি। সেই মিথ্যা অভিযোগে মামলা হয়েছে। যদিও তিনি বলেছেন, তিনি নাকি মামলা করেননি। মামলা করেছে অন্য একজন। কিন্তু মামলা যারা করেছে, অবশ্যই তারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেই করেছে। আমি মনে করি, শিক্ষক হিসেবে তিনি তার নৈতিকতার পরিচয় দিতে পারেননি। উনি এই পদে থাকার যোগ্য নন। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাব, ছাত্রদের দাবানল জ্বলে ওঠার আগেই আপনারা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন এবং এই হলের প্রাধক্ষ্যের অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।
এদিকে ডাকসুতে পুনর্নির্বাচন ও রোকেয়া হলের প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবিতে বুধবার বিকাল থেকে আমরণ অনশন করছেন রোকেয়া হলের পাঁচ ছাত্রী।

অনশনরত ছাত্রীদের হুমকি দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে ডাকসু’র ভিপি বলেন, আজকে আমার বোনেরা আন্দোলন করছে, তাদেরও নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। এর আগেও আমরা দেখেছি, কোটা সংস্কারসহ বিভিন্ন আন্দোলনকারীদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় সুফিয়া কামালের বোনদেরও হয়রানি করা হয়েছে। আমরা ছাত্রদেরকে সঙ্গে নিয়ে কিন্তু তার উচিত জবাব দিয়েছি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্দেশে নুর বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে একটি কথাই বলতে চাই, শিক্ষার্থীদের জন্যই এই বিশ্ববিদ্যালয়। সুতরাং শিক্ষার্থীদের ওপর আপনারা কোনো স্বৈরতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। তাহলে ছাত্ররা প্রতিহত করবে সেটা।

এর আগে, বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জিনাত হুদা বলেন, হল সংসদের পুনঃনির্বাচন দেওয়ার এখতিয়ার তার নেই। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তার সঙ্গে দেখা করতে বলেছেন। তবে শিক্ষার্থীরা হলের বাইরে থাকায় তিনি তাদের সঙ্গে দেখা করতে যেতে পারবেন না। মামলা বিষয়ে ছাত্রীদের ভুল তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, বুধবার (১৩ মার্চ) রাত ৯টা থেকে ঢাবি রোকেয়া হলের পাঁচ শিক্ষার্থী চার দফা দাবিতে হলের গেটে অনশন শুরু করেন। তাদের দাবিগুলো হলো— রোকেয়া হল সংসদের পুনঃনির্বাচন দেওয়া, হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ, শিক্ষার্থীদের নামে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করা এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
অনশনকারীরা হলেন- উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সায়েদা আফরিন, একই বিভাগের জয়ন্তী রেজা, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের রাফিয়া সুলতানা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শ্রবণা শফিক দীপ্তি ও ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রমি খিশা। অনশনরত শিক্ষার্থীরা বুধবার গভীর রাতে ছাত্রলীগ নেতাদের হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

প্রসঙ্গত দীর্ঘ ২৮ বছর পর ১১ মার্চ সোমবার অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ২৫টি পদের মধ্যে দুটি ছাড়া সব পদে জয় পায় ছাত্রলীগ। ভোটের দিনই নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করে ছাত্রলীগ ছাড়া সব প্যানেল। এরা হলো- ছাত্রদল, বামজোট, ইসলামী আন্দোলন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জোট ও সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। এর পর থেকে তারা পুনর্নির্বাচন দাবিতে বিক্ষোভ করছে।

Did you find apk for android? You can find new Free Android Games and apps.

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.