নুসরাতকে নিয়ে আবেগঘন স্ট্যাটাস শিক্ষামন্ত্রীর

0
Want create site? Find Free WordPress Themes and plugins.

গত বুধবার রাত সাড়ে ন’টায় ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসারত অবস্থায় প্রাণ হারান ফেনীর সোনাগাজী মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি। নিজ মাদ্রাসার ছাদে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে তার শরীরের আশিভাগ অংশ পুড়ে গিয়েছিল। মৃত্যুর সঙ্গে লড়তে লড়তে চিকিৎসারত অবস্থায় প্রাণ হারান নুসরাত। তার আগেই পুলিশ গ্রেফতার করে এ ঘটনার দায়ে অভিযুক্ত একই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে।

নুসরাত নিহত হওয়ার ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে সারা দেশ। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাণ গুলোতে নুসরাত হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। প্রতিটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও আলোচনার বিষয় নুসরাত। এমন অবস্থায় নুসরাতকে নিয়ে নিজের ফেসবুক ওয়ালে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ১২ এপ্রিল সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক ওয়ালে তিনি এ স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসে তিনি প্রত্যেককে নিজ নিজ জায়গা থেকে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

শিক্ষামন্ত্রীর স্ট্যাটাসটি একুশে টেলিভিশন অনলাইনের পাঠকদের জন্য হুবুহু তুলে ধরা হলো-

‘নুসরাত চলে গেল। যাবেই জানতাম সবাই। বাঁচার কোন আশাই ছিল না। সবাই শোকাভিভূত।
আমাদের সবার শুধু নিজের কন্যাটি নয়, কন্যাসমা সকল নুসরাতের মত সদ্য কৈশোর পেরোনো মেয়েগুলোর কথা মনে হচ্ছে। কিংবা সব নারীর কথা, হোক সে শিশু, কিশোরী, তরুণী, মাঝবয়েসী বা তার চেয়েও বয়সে বড় কেউ। যারা মহানগরে, শহরে কিংবা গ্রামে থাকে। বিত্তবান কি বিত্তহীন, সে যে কোন পরিবারেরই হোক। পোষাকে আধুনিক বা রক্ষণশীল কিংবা একেবারেই বোরখায় আবৃতা। মানুষরূপী অমানুষগুলো ঘরে, বাইরে যেখানে যখন যেভাবেই সুযোগ পাক নারীকে দেখে শুধুই দেহ এবং কতগুলো অঙ্গ প্রত্যঙ্গ হিসেবে, শুধুই লালসা পূরণের বস্তু হিসেবে।

আমরা এত এগিয়ে যাচ্ছি এত দিকে। নারীর ক্ষমতায়নেও এগিয়েছি বহুদূর। কিন্তু নারীকে মানুষ ভেবে, তার মানুষ হিসেবে অধিকারের কথা ভেবে, তার মানবিক মর্যাদার কথা ভেবে কবে আমরা তাকে ঘরে, বাইরে, চলার পথে, কাজের জায়গায়, সর্বত্র নিরাপত্তা দিতে পারবো জানিনা। যাদের আমরা উন্নত দেশ বলি সেখানেও নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা ঘটে অহরহই। সর্বত্রই তাই নারীর জন্য নিরাপদ বিশ্ব গড়বার চেষ্টা চলছে। চলছে আমাদের দেশেও।

অনেক সহিংসতার খবরই আমরা পাই। কিন্তু নুসরাতের প্রতি ঘটে যাওয়া অপরাধ সবাইকে প্রচন্ড ধাক্কা দিয়েছে। সবাই আরও লজ্জিত, ক্ষুব্ধ হয়েছে, কারন অপরাধী হিসেবে যাকে নুসরাত অভিযুক্ত করেছে, তার পক্ষে প্রতিবাদী মিছিল হয়েছে এবং অভিযুক্তের তারা নিঃশর্ত মুক্তি দাবী করেছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা নুসরাতের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নেবার নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নুসরাতের গায়ে আগুন দেবার অপরাধে এ পর্যন্ত দু`জনকে আটক করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আশা করি অপরাধের যথোপযুক্ত বিচার হবে, অপরাধীদের শাস্তি হবে।

আজ নুসরাত সকল কিছুর উর্ধে চলে গেছে। কোন বিচার, কোন শাস্তিই আার তাকে ফিরিয়ে আনবেনা। কিন্তু নুসরাতের এ মর্মান্তিক মৃত্যু ব্যাক্তি, সমাজ, রাষ্ট্রকে যে প্রশ্নের সামনে আজ দাঁড় করিয়ে দিয়েছে তার উত্তর আমাদেরই দিতে হবে। আমাদেরই পরিবারে, সমাজে, কর্মক্ষেত্রে, চলার পথে, সর্বত্র নারীর নিরাপত্তা, তার অধিকার, তার মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে একযোগে কাজ করতে হবে। সকল স্তরে এ সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। যে কোন ব্যাত্যয়কে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে যেন কেউ এমন অপরাধ করবার সাহস না পায়। শিক্ষার প্রতিটি স্তরে এ বিষয়গুলো এমনভাবে শেখাতে হবে যাতে এ মূল্যবোধগুলো প্রতিটি শিক্ষার্থীর মনে গভীরভাবে প্রোথিত হয়। নারীর জীবনকে যে নিরাপদ ও মানবিক মর্যাদাপূর্ণ করতে আজ আমাদের করতে হবে আইনের কঠোর প্রয়োগ, আগামী প্রজন্মের জন্য তা যেন হয় সমাজের স্বাভাবিক রীতির অংশ। প্রত্যেকে যার যার অবস্থান থেকে আসুন নারীর প্রতি যে কোন সহিংসতা প্রতিরোধ করি। ঘরে, বাইরে, পথে, যানবাহনে, কর্মক্ষেত্রে, সর্বত্র।

নুসরাতের জন্য অশেষ ভালোবাসা।’

Did you find apk for android? You can find new Free Android Games and apps.

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.