জামিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনও রক্তের দাগ

0

ভারতে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদ চলাকালে রোববার দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকে শিক্ষার্থীদের মারধর করে পুলিশ। শিক্ষার্থীদের নির্মম নির্যাতনের চিহ্ন এখনও রয়ে গেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরির দোতলায় রক্তের শুকিয়ে যাওয়া বড় বড় ফোঁটা এখনও স্পষ্ট টের পাওয়া যায়।

জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির একতলার অবস্থা আরও শোচনীয়। গ্রন্থাগারের রিডিং-রুমের প্রায় কোনও কাচ আস্ত নেই। মুখ থুবড়ে পড়ে রয়েছে চেয়ার-টেবিল। সিসি ক্যামেরা ভাঙা। বইয়ের পাশেই মেঝেতে ইটের টুকরো আর কাঁদুনে গ্যাসের শেল। প্রায় একই ছবি পুরো ক্যাম্পাসে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। খবর আনন্দবাজারের

বুধবার সকাল থেকে এই কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় হাজার-হাজার মানুষের ঢল নেমেছে। কারও মুখে আজাদির স্লোগান, কেউ ছুটছেন গান্ধীর ছবি মাথার উপরে তুলে। কারও হাতে জাতীয় পতাকা, কেউ জনতার রোষে পুড়ে খাক হওয়া পুলিশ চৌকির সামনে ‘দিল্লি পুলিশ হায় হায়’ আওয়াজ তুলতে ব্যস্ত। হেলমেট-ঢাল-লাঠিতে সেজে কয়েকশো ফুট দূরেই বিপুল সংখ্যক পুলিশ। কাছের যে হাসপাতালে আহতদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, ভিড় সেখানেও। এত বাস পোড়ার পরে আর কোনও ঝুঁকি না-নিয়ে আশেপাশের প্রায় সমস্ত মেট্রো স্টেশনের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। তালাবন্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকেও।

বাইরের ভিড় দেখে জামিয়ার জনসংযোগ কর্মকতা আহমেদ আজিম আনন্দবাজারকে বলেন, রোববার সন্ধ্যায় নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে মিছিলে শামিল প্রতিবাদি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি লাইব্রেরিতে বসে থাকা বহু ছাত্রছাত্রী পুলিশের হাতে নির্যাতনের শিকার হন।

পুলিশের পাল্টা দাবি, শিক্ষার্থীরা তাদের লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ে মারে। উড়ে আসছিল ইটের টুকরো। তাই বাধ্য হয়েই মাঠে নামতে হয়েছে তাদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাজমা আখতার সাংবাদিকদের বলেন, যেভাবে পুলিশ ক্যাম্পাসে চড়াও হয়েছে, তা বরদাস্ত করবেন না তারা। শিক্ষার্থীদের উপরে লাঠি চালানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি নষ্টের জন্য এফআইআর দায়ের করা হবে। মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রীর কাছে জমা দেবেন রিপোর্ট। দাবি করবেন উচ্চ পর্যায়ের তদন্তও।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.