ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তাব পার্লামেন্টে পাস হওয়ার পর ইরাকের বিরুদ্ধে কঠোর অবরোধ আরোপের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ওদিকে মার্কিন কোন স্বার্থের ওপর ইরান হামলা চালালে তার কঠোর প্রতিশোধ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি আগেই। রোববার দিনশেষে ইরান ও ইরাককে উদ্দেশ্য করে তিনি ওই সতর্কবার্তা দেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। উল্লেখ্য, ইরানের কুদস ফোর্সের কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার পর মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় ফুটছে। ক্ষোভে ফুঁসছে ইরান। তারা প্রতিশোধের নেয়ার হুমকি দিয়েছে। ওদিকে সোলাইমানিকে হত্যার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন যেসব যুক্তি দেখাচ্ছে, তা নিয়েও নানা সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিনিদের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন সোলাইমানি। যে গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে তিনি সোলাইমানিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন তা প্রকাশ করার কথা বিবেচনা করছেন।
ইরানের প্রতিশোধের হুমকির বিষয়ে এয়ার ফোর্স ওয়ানের ভিতরে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, যদি তারা হামলা চালায়, যদি তারা কিছু করে, তাহলে তার বড় ধরনের প্রতিশোধ নেয়া হবে। এ সময় তিনি ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটন ফিরছিলেন। তিনি বলেন, তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধ এড়াতে সোলাইমানিকে হত্যা করা হয়েছে। ইরানের ৫২টি স্থাপনায় হামলা চালানোর টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের সংস্কৃতিও। কিন্তু রোববার ইরানের সাংস্কৃতিক স্থাপনাকে টার্গেট করার কথা প্রত্যাখ্যান করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। তবে রোববার রাতে পম্পেওর বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কথা বলেন ট্রাম্প।
তিনি বলেছেন, তাদেরকে (ইরান) রাস্তার পাশে বোমা পুঁতে রাখতে দেয়া হবে এবং আমাদের জনগণকে উড়িয়ে দিতে দেয়া হবে আর আমরা তাদের সাংস্কৃতিক স্থাপনাকে স্পর্শ করতে পারবো না? তা হতে পারে না।
ওদিকে ইরাকের পার্লামেন্ট মার্কিন ও অন্যান্য বিদেশী সেনাদের দেশ থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ সম্বলিত একটি প্রস্তাবনা পাস করার পর বাগদাদের প্রতি হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরাক যদি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের চলে যেতে বলে এবং তা বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে না ঘটে, তাহলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে অবরোধ দেবো। এমন অবরোধ দেবো যা তারা আগে কখনো দেখে নি। এই অবরোধ হবে ইরানের বিরুদ্ধে দেয়া অবরোধের চেয়েও কড়া। আমাদের অত্যন্ত ব্যয়বহুল ব্যতিক্রমী বিমানঘাঁটি আছে সেখানে। তা নির্মাণ করতে আমাদের শত শত কোটি ডলার খরচ হয়েছে। এর বিনিময় না দেয়া পর্যন্ত আমরা সেখান থেকে চলে আসবো না।
ট্রাম্পের এমন বক্তব্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইউনিভার্সিটি অব ডেনভারের সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্টাডিজের পরিচালক নাদের হাশেমি। তিনি বলেছেন, তিনি সেই ব্যক্তি, যিনি যুদ্ধবাজদের দ্বারা পুরোপুরি পরিবেষ্টিত, অহমিকা দ্বারা পরিচালিত এবং পুনঃনির্বাচনী প্রচারণায় রয়েছেন। আমার মনে হয় তার এমন কঠোর কথাবার্তায় দেশের ভিতর তার ভিত মজবুত হবে।