ষ্টাফ রিপোর্টারঃ চট্টগ্রামের বাকলিয়া এক্সেস রোড়ে ব্যবসায়ী রেজাউল আজিমের স্ত্রী জেবুন্নেছার জায়গায় ২০১৭ সালে নির্মিত আজিম বিতানের ১টি দোকান ঘর ও দুতালার অফিস গৃহটি একই এলাকার ইসলাম মিয়া, আব্দুল্লাহ আল নোমান, মোক্তার আহমদ ও আলমগীর গংদের বিরুদ্ধে জোড় পূর্বক তালা মেরে জবর দখলের অভিযোগ উঠেছে। এই জবর দখলের বিরুদ্ধে জেবুন্নেছা খানম বাদী হয়ে যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে গত ১৮ অক্টোবর২০২৫ ইং তারিখে একটি মামলা দায়ের করেন, যার অপর মামলা নং ২৫৯/২০২৫ইং। মামলার সুত্রে জানা যায়, তপশীলোক্ত সম্পত্তিতে জেবুন্নেছা ভোগ দখলে থাকাবস্থায় বিগত ১৮ অক্টোবর২০২৫ ইং তারিখে আনুমানিক রাত ৯ ঘটিকার সময় বাকলিয়া এক্সেস রোড আজিম বিতানে গেলে জবরদখলকারীরা পূর্ব শত্রুতার জের ধরিয়া রেজাউল আজিম এবং তাহার পরিবারের সদস্যদের উপর ক্ষতি করিবে মর্মে হুমকি প্রদান করেন।
মামলা সুত্রে আরো জানা যায়,, রেজাউল আজিম বি.এস ২১৫৫নং খতিয়ানের বি.এস ১৭৭৯৪ দাগে ০৯ শতক সম্পত্তি জহুরুল আলম গং থেকে, বিগত ৫এপ্রিল, ২০০৯ ইং সালে চান্দগাঁও সাব রেজিষ্ট্রী অফিসে রেজিষ্ট্রীকৃত ২৩৫৫নং কবলা দলিল মূলে রেজাউল আজিম মোট ০.৪৫০ শতক সম্পত্তি খরিদ করে। তৎপর উক্ত সম্পত্তি তাহার নামে নামজারী ২১৫৫/৪নং খতিয়ান সৃজন করে। একইভাবে বর্ণিত জহুরুল আলম, আবদুর সালাম, আবদুল হাকিম হইতে তাহাদের বিগত ১৪/১১/২০০৯ ইং রেজিষ্ট্রীকৃত ৫২০০নং আমমোক্তারনামা দলিল মূলে আমমোক্তারের মাধ্যমে সম্পাদিত ও রেজিষ্ট্রীকৃত বিগত ২৭ জুলাই ২০১০ ইং সনের ৪৪৪২নং কবলা দলিল মূলে ০১ শতক সম্পত্তি রেজাউল আজিম খরিদ করিয়া উক্ত সম্পত্তি তাহার নামে নামজারী বি.এস ৬২১৪নং খতিয়ান সৃজন করিয়াছে। রেজাউল আজিম ২টি কবলা দলিল মূলে বি.এস ১৭৭৯৪, ১৭৭৯৫ দাগে খরিদকৃত,জমিটি ,চারপাশে বাউন্ডারিসহ দিয়ে ভিটী ভুমিতে দখল ছিল । এই ক্রয়কৃত সম্পত্তির উপর দিয়া বাকলিয়া এক্সেস রোড নির্মাণের জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বিগত ১৪ নভেম্বর ২০১৭ ইং সনের ৫৯৪৪নং দলিল মূলে মোট জমি,৩২৪০বর্গফুট জমি রেজাউল আজিমের উক্ত জমি হতে (২৮২১,৫বর্গফুট) জমি চউক খরিদ করে। অধীগ্রহনের পরে অবশিষ্ট জমি,৪৩৮বর্গফুট বা (০,১০২একর,অথবা,৫০৬ (বর্গফুট ) থাকিয়া যায়। ইসলাম মিয়া ও আলমগীর এর জায়গা আবশ্যক মর্মে মৌখিক ও নোটারী যুক্ত এওয়াজ করিয়া ১নং বিবাদীর তপশীলোক্ত সম্পত্তিতে এওয়াজের বিনীময়ে আজিম বিতানের পিছনে পশ্চিম কোনায় ত্রিভুজ পূর্ব পশ্চিম আকৃতি ৪ফুট ৬ইন্ছী জমি রেজাউল আজিম এর বরাবরে ছাড়িয়া দেয়। উক্ত,নোটারী এওয়াজকৃত সম্পত্তি সংক্রান্তে রেজিষ্ট্রি দলিল সম্পাদন করার শর্ত থাকিলেও ইসলাম গংরা উদ্দেশ্য মূলক ভাবে তাহা করে নাই।
ব্যবসায়ী রেজাউল আজিম বলেন, নালিশী তপশীলের সম্পত্তি প্রাপ্ত হইয়া বিগত ২৪জুলাই ২০১৯ ইং সনের ৩১৩৭নং রেজিস্ট্রীযুক্ত হেবার ঘোষণাপত্র দলিল মূলে তার স্ত্রী জেবুন্নেছা খানমের বরাবরে হেবা করিয়া দখল হস্তান্তর করি। উল্লেখ্য যে, জেবুন্নেছার বায়া মৌখিক(নোটারীযুক্ত) এওয়াজ মতে ইসলাম গং-দের নিকট হইতে উক্ত আজিম বিতানের পিছনে পশ্চিম কোনায় ত্রিভুজ আকৃতি প্রাপ্ত জমি স্বত্বাংশসহ এই জেবুন্নেছার নিকট হস্তান্তর করিবার কারণে নামজারী এবং তার হেবার ঘোষণাপত্র দলিলে মোট জমির পরিমাণ ২০০ শতক থাকিলেও সরেজমিনে দখল অনুযায়ী প্রাপ্ত স্বত্বাংশ বিরোধীয় সম্পত্তি হিসেবে দেখানো হয়।
রেজাউল আজীম আরো বলেন, এই তপশীলোক্ত সম্পত্তিটি হেবায় প্রাপ্ত হইয়া উক্ত জায়গাতে দুতালা বিশিষ্ট বিল্ডিং নির্মাণ করে রাস্তা সংলগ্ন নিচ তলায় ৩টি দোকান ভাড়ায় লাগিয়ত করিয়াছি। নির্মিত দ্বিতল বিশিষ্ট এই ভবনটির নাম আজিম বিতান হিসাবেই পরিচিত।দুতালায় অফিস করিয়া মোঃ নজরুল ইসলাম সোহেলকে ভাড়ায় লগিয়ত করি এবং উক্ত আজিম বিতানের নিচ তলায় ৩টি দোকানের পশ্চিম পার্শ্বে উপরে উঠার সিঁড়ি ঘর আছে। পরবর্তীতে নজরুল ইসলাম সোহেল উক্ত দুতালার অফিসটি ছাড়িয়া দিলে তাহাতে নিজের অফিস গৃহ হিসাবে জেবুন্নেছা ফার্ম হিসেবে ব্যবহার করি। এই বিল্ডিংয়ে ৪টি বিদ্যুৎ মিটার, পৌর হোল্ডিংসহ ব্যবহারের জন্য গভীর নলকূপ বসানো হইয়াছে। অফিসের ভিতরে ল্যাপটপ,কম্পিউটার, আসবাব পত্রসহ অসংখ্য জরুরি কাগজ পত্র গুরুত্বপূর্ণ মালামাল ছিল । হঠাৎ করে এই বিল্ডিংয়ের পিছনে বসবাসরত আবদুল্লাহ আল নোমান, বাঁশ খালির মোক্তার মিস্ত্রি. ইসলাম মিয়া, আলমগীররা রাতের আধাঁরে ( বর্তমান ভাড়াটিয়া ইকবাল এর ০১নং দোকান ও আজিম বিতানের দ্বিতীয় তলা রাতের অন্দকারে জবর দখলের কু-মানসে তালা মেরে দেয় বলে জানান । জবর দখল কারীরা তালা মেরে নিজেদের জায়গা বলে দাবি করেন।।
ব্যবসায়ী বলেন, আমি এই জায়গায় গেলে ইসলাম, আবদুল্লাহ আল নোমান, মোক্তার, আলমগীররা আমার উপর তেড়ে আসে এবং জায়গায় গেলে আমাকে প্রাণে মের ফেলবে এবং ক্ষতি করবে, তাছাড়া সন্ত্রাসী কায়দায় আরো অজানা লোকজন এর নেতৃত্বে দ্বিতীয় তলা (জেবুন্নেছা ফার্ম) আজিম বিতানের জানালার ভিতরে বাহিরে পুরো গ্লাস ভেঙে ফেলে এবং অফিসের আসবাব পত্রসহ সকল মাল পত্র লুট করে নিয়ে যায় এবং তালা মারাকৃত দোকান ও সিড়ির তালাতে হাত না লাগাতে বলে, বিদুৎ মিটার থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ না দেওয়ার জন্য হুমকি দেয়। এতে রেজাউল আজিম বাকলিয়া থানায় জিড়ি ট্রেকিং নং ০৩জিএফআরপি ও জিড়ি নং-১০৩৮ বিগত ১৮ অক্টোবর ২০২৫ ইং তারিখে রুজু করেন। এই জিড়ি তুলে নেওয়ার জন্য ইসলাম মিয়া গংরা বার বার বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে নালিশী জমির উত্তর পারকারী ইসলাস মিয়া, আবদুল্লাহ আল নোমান, আলমগীর গংরা সিডি এর আইন না নিজেদের ১৩ তলা বিল্ডিং নির্মানে সিডিএর বিল্ডিং কোড না মানায় বিগত সময়ে সিডি -এর অভিযানে এই বিল্ডিংএর কিছু অবৈধ অংশ ভাঙ্গা হয়। রেজাউল আজিম আরো বলেন, ইসলাম মিয়া গং দের বিল্ডিং টিতে নিজস্ব কোন চলাচল পথ না থাকায় তারা চউককে মিথ্যা তথ্য দিয়ে রেজাউল আজিম এর নিজস্ব দোকানের জমিটি অবৈধ ভাবে রাস্তা দেখিয়ে দশ তলার নকশা অংকন দেখিয়ে অবৈধভাবে ১2তলার বানিজ্যক মার্কেট অনুমতি নিয়ে বর্তমানে তেরো তলা ভবন নির্মান করেছেন। ইসলাম গংরা ধরাকে সরা জ্ঞান করে আমার স্ত্রী জেবুন্নেছার আজিম বিতানের জায়গা জবর দখল করতে চায়। আমি আইনের আশ্রয়ের মাধ্যমে এই জবর দখলের বিরুদ্ধে সমাধান চাই।
এ বিষয়ে ইসলাম মিয়াকে মুঠো ফোনে ফোন দিলে তিনি বলেন, একসময় রেজাউল আজিম আমার বন্ধু ছিল, বিভিন্ন কারনে আমাদের মধ্যে দুরত্ব হয়ে গেছে। তবে আমরা কারো জায়গা দখল করি নাই। জায়গা পেলে এসে বুঝে নিতে বলেন। এ বিষয়ে মামলা চলমান রয়েছে।