কুষ্টিয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এসটিআই’র অনমুতি ছাড়াই চলছে সেমাই উৎপাদনের কাজ

0

মিলন খান, কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়ায় ঈদকে সামনে রেখে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে তৈরী ও বিক্রির ধুম পড়েছে। শহরে অবস্থিত ১২ট সেমাই কারখানার বেশীর ভাগই বিএসটিআই’র অনমুতি ব্যাতিত চলছে সেমাই উৎপাদনের কাজ। সেমাই উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নোংরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সম্পন্ন হলেও তা অবাধে বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

কম দামে পাওয়ায় ক্রেতারা অবলীয়ায় কিনতে বাধ্য হচ্ছে এই সেমাই। এই সেমাই খাওয়ার ফলে শারিরিক ক্ষতি হতে পারে বলে জানিয়েছেনে চিকিৎসকরা। তারপরও এসব কারখনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেতি দেখা যায়নি কর্তপক্ষের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুষ্টিয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদিত খোলা সেমাই বাংলাদেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।

১২টি কারখানার প্রতিটি কারখানাতে প্রতিদিন  ১৫ থেকে ২০ মন সেমাই উৎপাদিত হয়। এসব সেমাই ১০ কেজির বস্তা বিক্রি হয়ে থাকে ২৬০ টাকায়। সেটি আবার খুচরা বাজারে কেজি প্রতি বিক্রি হয় ৩৫-৪০ টাকায়।

সরেজমিন কারখানাগুলোতে যেয়ে দেখা যায়, এসব কারখানাগুলির পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা। কারখানার ভেতর কাদা, আবর্জনা অপরদিকে মশা মাছি আর কারিগরদের শরীরের ঘাম পড়ছে এই সেমাইয়ে।

কারখানাগুলিতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বর্জ্য, সেমাই একাকার হয়ে গেছে। সেমাই তৈরীর কারখানার ভেতরেই দুর্গন্ধযুক্ত টয়লেট। তবে কারখানার মালিকদের দাবী অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই সেমাই উৎপাদন হচ্ছে।

কুষ্টিয়া বড়বাজার এলাকার সেমাই কারখানার মালিকরা জানান, রমজান মাসে প্রচুর পরিমানে সেমাই বিক্রি হয়। ঈদের জন্যও সেমাইয়ের চাহিদা অত্যাধিক।

সেমাইয়ের চাহিদা প্রচুর থাকায় আমাদের ব্যস্ততাও বেশী। তরপরও আমরা পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার মধ্য দিয়ে সেমাই উৎপাদনের চেষ্টা করি।  

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কারখানার মালিক জানান, ইচ্ছা করলেই সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা সম্ভব হয় না। আমরা চেষ্টা করছি ভালোভাবে সেমাই উৎপাদন করার।

এদিকে ক্রেতারা খোলা সেমাই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর জেনেও ক্রয় করছেন। ক্রেতারা জানিয়েছে বাজারে সহজলভ্য ও কমদামে পাওয়ায় এই সেমাই কিনছে তারা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এই সেমাই তৈরীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছে তারা।

নজরুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা জানান, সেমাই যেখানে তৈরী হয় সেখানে গেলে বমি আসে এটা জেনেও আমাদের এই সেমাই ক্রয় করতে হয়। কারন এই খোলা সেমাই যেখানে সেখানে পাওয়া যায় ও দামেও কম।
কুষ্টিয়া থানাপাড়ার বাসিন্দা রিপন আলী শেখ বলেন, প্রশাসন যদি এই খোলা সেমাই তৈরীর বিরুদ্ধে ব্যস্থা নেয় তাহলে সাধারন মানুষের এই ক্ষতি হয় না।

কুষ্টিয়া ময়দা ও সেমাই মালিক সমিতির সভাপতি বিল্লাল হোসেনের সাথে যোগযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য তৈরী করতে দেয়া হবে না এমন ঘোষনা দিয়ে কর্তৃপক্ষ বলেছে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অচিরেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.