কুড়িগ্রামে মেহের উল্লা শিশু সদনটি নানা সমস্যায় জর্জরিত

0

আরিফুল ইসলাম সুজন, (কুড়িগ্রাম )প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলাধীন নাজিমখান বাজারে অবস্থিত মেহের উল্লা শিশু সদনটিতে (এতিমখানা) শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়েছে। কিন্তু নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে এ প্রতিষ্ঠানটি। ফলে প্রতিষ্ঠানটি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। এলাকার কিছু মানুষের সাহায্য-সহযোগীতায় এবং স্থানীয় হাট-বাজারের ব্যবসায়ীদের সাপ্তাহিক দানের টাকায় কোন রকমে চালু রয়েছে ওই শিশু সদনটি। আর্থিক সংকটের কারণে এতিম খানার আবাসিক ভবনের বেষ্টনির কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। সংস্কারের অভাবে ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পরায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এতিম ছেলেরা অতিকষ্টে দিন যাপন করছে।
এলাকাবাসীরা জানান, নাজিমখান মেহের উল্লা শিশুসদন ২যুগ আগে প্রতিষ্ঠিত হয়। এলাকার মানুষের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধিত হয়েছে। যার রেজিঃ নং-কুড়ি/রাজা/৭৩৭/২০১৭ ইং নিবন্ধন। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই প্রতিষ্ঠানটি সরকারি-বেসরকারীভাবে কোন ধরণের অনুদান বরাদ্দ দেয়া হয়নি। ফলে এতিমখানাটি কোন রকমে চালু রয়েছে। মনোরম পরিবেশে আধুনিক পদ্ধতিতে শিক্ষাদান দেয়া হয় প্রতিষ্ঠানটিতে।

এছাড়া শিশু সদনের দাতা ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মোঃ নুর ইসলাম প্রতিষ্ঠানটিতে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা-বৈদ্যুতিক সরমাঞ্জাদির কাজ, কম্পিউটার, সবজির চাষাবাদ, মৎস্য চাষ, পশু পালন, বিনোদনসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার পরিল্পনা হাতে নিয়েছেন। যাতে বেকারত্বের হাতে থেকে এলাকার শত শত এতিম শিশুরা রক্ষা পায়। প্রত্যন্ত পল্লীর এই প্রতিষ্ঠান হতে অনেক শিক্ষার্থী বর্তমানে কর্মজীবনে সাফল্য অর্জন করেছে। দাতারা আজীবন সদস্য স্থায়ী না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির নির্দিষ্ট কোন আয়ের উৎস নেই। অর্থের অভাবে আবাসিক শিক্ষার্থীদের আধুনিক পরিবেশ থাকার ব্যবস্থা, মেন্যু ভিত্তিক স্বাস্থ্য সম্মত খাবার সরবরাহ করা কর্তৃপক্ষের দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।

এ অবস্থায় মেহের উল্লা শিশু সদনটি সার্বিকভাবে পরিচালনার জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করছেন প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি মোঃ নুর ইসলাম।

১৩ জুন মঙ্গলবার ওই প্রতিষ্ঠানের এতিম শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান (৬), মাসুদুর রহমান (১৪)সহ অনেকে বলেন, আমাদের এতিম খানায় খুব কষ্টে আমরা বসবাস করছি। সরকার যেন আমাদের এতিম খানার দিকে একটু নজর দেন।

প্রতিষ্ঠানের প্রধান হাফেজ মাওলানা মোঃ রোস্তম আলী বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমান মাত্র ৬ জন শিক্ষক দিয়ে দুই শিফটে ২৮০ জন শিক্ষার্থীকে নূরানী ও হাফেজিয়া শিক্ষার পাঠদান করানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির সংকট, টয়লেট, আবাসিক শিক্ষার্থীদের আবাস স্থানের সংকট রয়েছে। সবমিলিয়ে সরকারি অনুদানসহ বিত্তবানরা এগিয়ে এলে এই শিক্ষার্থীরা ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি রাষ্ট্রের বিভিন্ন কর্মকান্ডে তারা নিজেদেরকে আত্মনিয়োগ করবে বলে আশা প্রকাশ করছি।

প্রতিষ্ঠানটির সহ সম্পাদক ও বিশিষ্ট ওষুধ ব্যবসায়ী আনোয়ার পারভেজ রিপন বলেন, অত্র প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা আমার দাদা মেহের উল্লাহ্। তাঁর স্মৃতি ধরে রাখতে আমরা পরিচালনা পর্ষদ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। পাশাপাশি সরকারি অনুদান এলে আরও ভালভাবে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হবে আশা করছি।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। ওই হাফেজিয়া ও নূরানী মাদ্রাসাটিতে বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। তা নিরসনকল্পে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পত্র প্রেরণ করা হয়েছে, পাশাপাশি উপজেলা পরিষদ থেকে দু’টি টয়লেটের বরাদ্দ দিয়েছি। প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি মোঃ নুর ইসলাম দেশ ও বিদেশের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিদ্বয়ের নিকট এতিম শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও খাবার সরবরাহের জন্য সাহায্য পাঠানোর জন্য সঞ্চয়ী হিসাব নং-১২৪০৭, অগ্রণী ব্যাংক, নাজিমখান শাখা, রাজারহাট, কুড়িগ্রাম এ বিনীত আহ্বান জানিয়েছেন।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.