রাঙামাটিতে তৃতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান শুরু, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৩

0

চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজারে পাহাড়ধসে দেড় শ  মৃতদেহ উদ্ধারের পর রাঙামাটিতে তৃতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জেলার রূপনগর, মানিকছড়ি, বেদবেদিসহ পাঁচটি এলাকায় অভিযান শুরু হয়েছে।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পরিমল চন্দ্র মণ্ডল এ তথ্য জানিয়েছেন।

পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে ৪ সেনা সদস্যসহ চট্টগ্রাম বিভাগে মৃত্যুর সংখ্যা দাড়িয়েছে ১৫৩ জনে। চট্টগ্রাম মহানগরী, জেলার রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি, বাঁশখালি, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজারের টেকনাফেিএসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসব এলাকায় এখনো নিখোঁজ রয়েছে অনেকে। নিখোঁজদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা কাজ করছেন।
এর মধ্যে রাঙ্গামাটিতে ১০৫ জন, চট্টগ্রামে ৩৬, বান্দবানে ৯, টেকনাফে ২ ও খাগড়াছড়িতে ১জন মারা যায়। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব এলাকা থেকে আরো ২২টি লাশ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্য চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থেকে ৪টি, ফটিকছড়িতে ১ টি, রাঙামাটিতে ১২টি, বান্দরবানে ২টি, খাগড়াছড়িতে ১টি ও কক্সবাজারের টেকনাফে ২ টি লাশ উদ্ধার হয়।
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থেকে একই পরিবারের চারজনের সহ মোট ২৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ই্উএনও) মো. কামাল হোসেন। ফটিকছড়ি থেকে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউএনও দীপক কুমার রায়।
রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এদিন ১২টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক প্রকাশ কান্তি চৌধুরী। এর মধ্যে ভেদভেদি থেকে মা-মেয়েসহ পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। যুব উন্নয়ন এলাকা থেকে একই পরিবারের তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন- রুপালি চাকমা (৩৮) ও তাঁর দুই মেয়ে জুঁই চাকমা (১৫) ও ঝুমঝুমি চাকমা (৮)।
বান্দরবান ফায়ার সার্ভিসের স্টেশনের কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম জানান, বুধবার দুপুর ২টার দিকে জেলার লেমুঝিরি আগাপাড়া এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশ থেকে কামরুন্নাহার (৪৫) ও মেয়ে সুখিয়া আক্তার (১৪) নামে দুইজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ির বর্মাছড়ি ইউনিয়নের পরিমল চাকমা নামে একজন নিহত হয়েছেন বলে লক্ষ্মীছড়ি থানার ওসি আরিফ ইকবাল জানিয়েছেন।
কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের খারাংখালী পশ্চিম সাতঘরিয়াপাড়া গ্রামে পাহাড়ের মাটি ও গাছ চাপা পড়ে মোহাম্মদ সেলিম (৪০) ও তাঁর মেয়ে টিসু মনি (৩) মারা গেছে।
টেকনাফের ইউএনও মো. জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক জানান, টেকনাফে পাহাড় ধসে দুজন নিহত হয়েছে। তাদের দাফন সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষে থেকে ৪০ হাজার টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.