বিজয় কুমার, সাঘাটা(গাইবান্ধা) থেকেঃ গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের নীলকুঠি নামক স্থানে যমুনা নদীশাসন প্রকল্প ঘেঁষে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে নির্মাণাধীন স্লুইস গেট, গজারিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প ও যমুনার ডান তীর নদীশাসন প্রকল্পসহ বিশাল জনবসতি এলাকা। নদীশাসন প্রকল্পটি ধসে গেলে পার্শ্ববর্তী গজারিয়াসহ সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের মারাত্মক ক্ষতি হবে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। ফুলছড়ি বাজারের অদূরে নীলকুঠি গ্রামের জনৈক বালু ব্যবসায়ীরা একই স্থানে চারটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে। সেই বালু তারা বিক্রি করছে বিভিন্ন বালু ব্যবসায়ী ও নির্মাণাধীন বাড়ির মালিকদের কাছে। প্রতি ট্রলি বালু ৫শ’ থেকে ৭শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছে।
এলাকাবাসী জানান, বালু উত্তোলনের ফলে অল্প দিনের মধ্যে সেখানে বিশাল গভীরতার সৃষ্টি হয়েছে। সেই সঙ্গে নদীশাসন প্রকল্পের সিসি ব্লকের অনেক স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। ফলে নীলকুঠি গ্রামসহ আশপাশের গ্রামের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। কারণ বর্ষায় পানির ঢল নামলেই যে কোনো মুহূর্তে ধসে যাবে। এদিকে বালু তোলার স্থান থেকে একটু দূরেই সেনাবাহিনীর সদস্যরা নির্মাণ করছেন গজারিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প। বালু তোলা বন্ধ না করলে বর্ষা মৌসুমে আশ্রয়ণ প্রকল্পের স্থাপনা দেবে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। নীলকুঠি গ্রামের লুৎফর রহমান ও শফিকুল ইসলাম জানান, নদীশাসন প্রকল্পটি ভালো ছিল। ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন করার কারণে ফাটল ধরেছে। বন্যার সময় নদীশাসন প্রকল্পটি ভেঙে গেলে কয়েকটি ইউনিয়নের গ্রাম তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হবে।
একই গ্রামের আলতাফ হোসেন ও মফিজুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন থেকে বালু উত্তোলন করে সংঘবদ্ধ হয়ে বালু ব্যবসা করছে কয়েকজন। তাই এলাকার কেউ তাদের বাধা দিতে সাহস পায় না। বালু উত্তোলনের স্থানে বিশাল গভীরতার সৃষ্টি হয়ে হুমকির মুখে পড়েছে ঘনবসতি এলাকাসহ বিভিন্ন স্থাপনা। বর্ষা মৌসুমে পুরো এলাকা ধসে যাওয়ারও আশঙ্কা করছেন তারা।
তবে বালু ব্যবসায়ীরা বলেন, আমাদের জমি থেকে বালু উত্তালন করছি। বর্ষা মৌসুমে দেবে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে চানতে চাইলে তারা বলেন, এটা কীভাবে অবৈধ, বাপ-দাদার সম্পত্তি থেকে বালু তোলা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে গজারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল আলম জানান, বালু উত্তোলন আজ থেকে নয়, দীর্ঘদিন ধরে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে বালু ব্যবসা করে আসছে। প্রশাসন যেখানে কিছু করে না, আমরা বলে কী করব।
ফুলছড়ির ইউএনও মুহাম্মদ আবদুল হালিম টলস্টয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বালু উত্তোলনের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে এ ব্যাপারে তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানালেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রশাসনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।