বিজয় কুমার, গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত কারেন্টজাল অবাধে বিক্রী সহ ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে এই জাল ব্যবহার করে ডিমওয়ালা বিলুপ্ত প্রায় দেশি প্রজাতির ‘মা’ মাছসহ নানা ধরনের পোনামাছ নিধন করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে প্রত্যন্ত এলাকার হাট-বাজার সহ খাল-বিল,নদী-নালায় অভিযান চালিয়ে জাল জব্দসহ অবৈধ মৎস শিকারীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না বলে উপজেলা মৎস কর্মকর্তার অভিযোগ।
জানা গেছে, মাছ সহ জলজ প্রাণীর “মরণফাঁদ” নামে খ্যাত কারেন্টজালের বিক্রী ও ব্যবহার সরকারীভাবে বিধি নিষেধ থাকলেও একশ্রেনীর অবৈধ জাল ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে কারেন্টজালের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। সরকারি ভাবে এই জাল বিক্রী বা ব্যবহার নিষেধ এমন এক প্রশ্নের জবাবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক দোকানি বলেন, আইনকে শ্রদ্ধা করি বলেই তো যার-তার কাছে বিক্রী করি না। এই জাল সবসময় পাওয়াও যায় না। কেউ চাইলে মোকাম থেকে এনে দেই।
কিন্তু ক্রেতারা দোকানীদের এমন কথাকে সায় না দিয়ে বলেন, দোকানে মজুদ করা না থাকলে যে যখন কিনতে আসে তখনি পায় কি করে? আবার ক্রেতার হাতে জাল তুলে দিয়ে বলে একটু সাবধানে নিয়ে যাবেন! সহজলভ্য, দামে সস্তা এবং ছোট-বড় নানা ধরনের মাছ শিকারের জন্য মৎস শিকারিদের নিকট এই জালের ব্যাপক চাহিদা। তাই চলতি বর্ষা মৌসুমে খাল-বিল, নদী-নালা সহ ডোবাগুলো পানিতে টইটুম্বর হওয়ায় অনেক সময় পুকুর ও জলাশয়ের পাড় উপচে বা ভেঙ্গে, বৃষ্টি গড়ানো পানির স্রোতসহ প্রায় সর্বত্রই মাছের অবাধ বিচরন দেখা যায়। তাই, এই সময় মাছ শিকারিরা মাছ ধরার জন্য নানা জাল নিয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তবে কারেন্টজালের ব্যবহার উল্লেখ্যযোগ্য ভাবে বেশি।
প্রশাসনিক ভাবে কোন জবাব দিহিতা না থাকায় দেশী প্রজাতির ডিমওয়ালা ‘মা’ মাছ সহ নানা ধরনের পোনামাছ নিধন এবং খোলা বাজারে বিক্রি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অবৈধ এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে আগামীতে দেশীমাছ সম্পূর্নরুপে বিলুপ্তি সহ নিম্ন আয়ের সাধারণ জনগন আমিষের ঘাটতিতে ভুগবে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন। কারেন্টজালের অবাধ বিক্রি ও ব্যবহার রোধে সাঘাটা উপজেলা মৎস কর্মকর্তা ফজলে ইবনে কাওছার আল এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে প্রত্যন্ত এলাকার হাট-বাজার সহ খাল-বিল,নদী-নালায় অভিযান চালিয়ে জাল জব্দসহ অবৈধ মৎস শিকারীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। তবে খুব শীগ্রই অভিযানে নামা হবে।