শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা : ১০ জঙ্গির ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১০ জঙ্গির ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরন) নথি হাইকোর্টে এসে পৌঁছেছে।

ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-২ থেকে এই নথি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে এসে পৌঁছায়। পরে সেখান থেকে নথি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় প্রেরণ করা হয়। ডেথ রেফারেন্সের নথিতে হত্যাচেষ্টা মামলার রায়, কেস ডকেটসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংযুক্ত রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে হাইকোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো. সাব্বির ফয়েজ বলেন, ডেথ রেফারেন্সের নথি পেয়েছি। এখন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে নথি উপস্থাপন করা হতে পারে। প্রধান বিচারপতির অনুমোদন পেলেই এই মামলার পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হবে।

গত ২০ আগস্ট ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-২ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) ১০ জঙ্গিকে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দেয়। এ ছাড়া একজনকে যাবজ্জীবন ও তিনজনকে ১৪ বছর করে দণ্ড দেয় আদালত। একই ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় আদালত নয় জঙ্গিকে ২০ বছর করেও দণ্ড দিয়েছে।

২০০০ সালের ২০ জুলাই কোটালীপাড়ায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশস্থলের পাশে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখা হয়।

শেখ লুৎফর রহমান মহাবিদ্যালয়ের উত্তর পাশের একটি চায়ের দোকানের পেছনে এ বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় তৎকালীন কোটালীপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই ) নূর হোসেন একটি মামলা দায়ের করেন।

২০০১ সালের ৮ এপ্রিল আটজনকে আসামি করে মামলার চার্জশিট দেয়া হয়। পরে ২০০৯ সালের ২৯ জুন আরও নয়জনকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে সম্পূরক চার্জশিট দেয়া হয়। এরপর ২০১০ সালে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ঢাকা-২ ট্রাইবুনালে পাঠানো হয়।

বিচার শেষে গত ২০ আগস্ট ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মমতাজ বেগম ১০ জঙ্গিকে গুলি করে প্রত্যেকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেন। অপর চারজনকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ১০ জনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের এ দুই মামলায় চার্জশিটভুক্ত ২৫ আসামির মধ্যে হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে অন্য একটি মামলায়। এ কারণে তার নাম এ মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।

অপরদিকে বিস্ফোরক আইনের মামলায় ৯ জনকে ২০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ মামলায় চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেন ট্রাইব্যুনাল। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলো- ওয়াসিম আখতার ওরফে তারেক হোসেন, মো. রাশেদ ড্রাইভার ওরফে আবুল কালাম, মো. ইউসুফ ওরফে আবু মুসা হারুন, শেখ ফরিদ ওরফে মাওলান শওকত ওসমান, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বক্কর, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই এবং মাওলানা আবদুর রউফ ওরফে আবু ওমর।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.