বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টার সময় কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের কাছে রোহিঙ্গাবোঝাই একটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নদী থেকে চার লাশ উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা। এদের মধ্যে দু’জন নারী ও দুটি শিশু রয়েছে। ওই নৌকায় আরও যাত্রী ছিল বলে জানান স্থানীয়রা।
টেকনাফে সাবরাং ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুল আমিন জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা বোঝাই একটি নৌকা নাফ নদীতে ডুবে যায়। এমন ঘটনার পর স্থানীয়রা নৌকাটি খোঁজাখুজি করে। বুধবার সকাল ৭ টার দিকে স্থানীয়রা শাহপরীর দ্বীপের মাঝের পাড়া নাফ নদীতে লাশ ভাসতে দেখে। পরে পুলিশ ও বিজিবি এসে ৪ জনের লাশ উদ্ধার করে।
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাইনুল উদ্দিন জানান, ৪ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। এরা সবাই মিয়ানমারের নাগরিক হওয়ায় পরিচয় মেলেনি। নৌকাসহ আরো অনেক রোহিঙ্গা নিখোঁজ রয়েছে।
এদিকে টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ সীমান্তে মিয়ানমারে ফেরতের অপেক্ষায় রয়েছে ৩১৫ রোহিঙ্গা মুসলিম। যারা কিনা বুধবার ভোর নৌকা যোগে বাংলাদেশের লোকালয়ে আশ্রয় নেওয়ার জন্য সীমান্তের নাফ নদী অতিক্রম করছিলো। তবে লোকালয়ে প্রবেশ করার আগেই বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা তাদের ধরে ফেলে। এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড় টার সময় শাহপরীর দ্বীপ ঘোলাপাড়া পয়েন্ট দিয়ে ৩৫ জন রোহিঙ্গা এবং জালিয়াপাড়া পয়েন্ট দিয়ে ৪০ জন রোহিঙ্গা মুসলিমকে নাফ নদী দিয়ে নৌকা যোগে মিয়ানমারের দিকে ফেরত পাঠিয়েছে বিজিবি।
এদিকে ২ বিজিবি ব্যাটলিয়ন কমান্ডার লে. কর্ণেল এস এম আরিফুল ইসলাম বলেন, বুধবার ভোরে বেশ কয়েকটি নৌকা নিয়ে নাফ নদ পার হয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা কালে শাহপরীর দ্বীপ বিওপির বিজিবি সদস্যরা দুটি পয়েন্ট দিয়ে ৭৫ জন মিয়ানমার রোহিঙ্গা মুসলিমকে ঠেকিয়ে দিয়েছে। রাতেই এদেরকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়।
এ ছাড়া আটক করা হয় আরো ৩১৫ জন রোহিঙ্গা মুসলিমকে। এসব রোহিঙ্গাদের শুকনো খাবার ও পানি সরবরাহ করেছে স্থানীয়রা। সন্ধ্যায় এদেরকে স্বদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।