এম আরমান খান জয়, গোপালগঞ্জ : কোরবানীরকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জের কামার পাড়ায় কর্ম চা ল্যতা নেই। গত বছরের তুলানায় এ বছর তাদের হাতে কাজ কম। গরু কোরবানীর অস্ত্র তৈরীতেও তাদের তেমন ব্যস্ততা নেই। গোপালগঞ্জের কামার পাড়ায় কোরবানীর অস্ত্র তৈরীর কাজ চলছে ঢিলেঢালা ভাবে। গরু কোরবানী হবে বলে জেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে। এসব গরু কোরবানী করতে ছোরা, চাপাতিসহ বিভিন্ন অস্ত্রের প্রয়োজন হবে। এসব অস্ত্র কামারপাড়া থেকেই সরবরাহ করা হবে। এছাড়া অনেকে পুরনো অস্ত্র মেরামতসহ সান দিয়ে নেবেন। এখন পর্যন্ত কামার পাড়ায় কোরাবানীর আস্ত্র ক্রেতাদের সরব উপস্থিতি নেই। এমনকি মেরামত করতে আসাদেরও ভীড় নেই। সারা বছর কাজ কম থাকলেও এ সময়টা অস্ত্র তৈরীতে ব্যাস্ত সময় কাটান কামার পাড়ার কর্মকাররা। এক প্রকার নাওয়া-খাওয়া আর ঘুম ছেড়ে দিতে হয় তাদের। কিন্তু এ বছর তাদের কাজের চাপ এখনো সেভাবে শুরু হয়নি।
কামারপাড়ার রতন কর্মকার, খোকন কর্মকার বলেন, এ বছর কাজ এখানো পুরো দমে শুরু হয়নি। গত বছর কোরবানীর ১০দিন আগে থেকেই কাজের চাপ শুরু হয়। এখন কোরবানীর আরমাত্র কয়েক দিন বাকি আছে। তারপরও পুরো দমে কাজ শুরু হয়নি। সারা বছর তেমন কাজ থাকে না। এ সময় ১০ দিনের আয়ের টাকা দিয়ে অন্তত ৩/৪ মাস চলা যায়। কিন্তু বছর এমন মন্দা দেখা দিয়েছে, যা ভাষায় ব্যক্ত করা যাচ্ছে না। সামনে হয়তো ক্রেতার চাপ বড়বে। কিন্তু এ ৩ দিনের কাজে আর কতো আয় হবে। এখন চাপাতি, কেউ ছোড়া, কেউ শাবল বানাতে হালকা হালকা লোকজন আসছে । শেষ মুহুর্তে ক্রেতাদের হাতে তাদের অর্ডারকৃত অস্ত্র তুলে দিতে সমস্যা হবে । আবার পুরাতন অস্ত্র পান ও সান দিয়ে ধারালো করতে আগতদের সংখ্যাও কম।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের আলম শেখ, বোড়াশী গ্রামের ওয়ালিদ খান বলেন, এবার কোরবানীর ঈদ উপলক্ষে গরু কিনতে দেড়ি হয়েছে। তাই দেরিতেই কামারপাড়ায় এসেছি। কামার পাড়ায় এসেও দেখছি তেমন ভীড় নেই। আমরা নিজের বাড়ীতেই গরু কোরবানী করব। এজন্য চাপাতি ও ছোড়াসহ বিভিন্ন অস্ত্র তৈরী করতে এখানে এসেছি। এ বছর কোরবানীর গরুর হাটেও কামার পাড়ার মতো ভীড় দেখিনি। শেষের ২/৩ দিনে কোরবানীর হাট ও কামার পাড়ায় ভীড় শুরু হবে।