হযরত বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ ফুল কি তা জানে না তোফা-তহুরা। তবে হাজার ফুলের ভালবাসা পেলেন তোফা-তহুরা। সোমবার বিকালে তোফা-তহুরার নানার বাড়ীতে দুই বোনকে ফুলের শুভেচ্ছো জানাতে ছুটে আসেন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম গোলাম কিবরিয়া, সুন্দরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ- আতিয়ার রহমান, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার- গোলাম আযম, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম আনোয়ারুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলার সকল কর্মরত সাংবাদিক। একে একে সকলে ফুলের শুভেচ্ছা জানান তোফা-তহুরাকে।
রোববার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে রিলিজ দেয়া হয় তাদেরকে। পরে তারা গাড়ীতে রওনা দেন বাড়ীর উদ্দেশ্যে। রোববার দিবাগত রাত ২.৩০ মিনিটের সময় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের কাশদহ গ্রামের নানার বাড়ীতে আসেন তারা। এখবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকে তোফা-তহুরাকে দেখতে আসে হাজারও জনতা। বিকালে আসেন প্রশাসন।
২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর নানার বাড়ীতে গ্রাম্য ধাইয়ের হাতে যমজ সন্তানের জন্ম দিলেন শাহিদা বেগম। দুই বোন শুধু যমজ নয় একজন আর একজনের সাথে জোড়া লাগানো। এনিয়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় খবর প্রকাশ হলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরকারে। পরে ২০১৬ সালের ১৬ জুলাই তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শুরু হয় তাদের চিকিৎসা। ২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর তাদের প্রথম অস্ত্রোপচার করা হয়। ২০১৭ সালের ১ আগষ্ট তাদেরকে আলাদা করার জন্য অস্ত্রোপচার করা হয়। ঢাকা হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক আশরাফুল হকের নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক তার অস্ত্রোপচার করেন। দীর্ঘদিন পর ১০ সেপ্টেম্বর তাকে রিলিজ দেয়া হয়। তোফা-তহুরা শাহিদা বেগমের প্রথম সন্তান। দীর্ঘ ৮ বছর আগে একই গ্রামের রাজা মিয়ার সাথে বিয়ে হয় শহিদার।
জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল জানান- সন্তান দুইটিকে সুষ্ঠুভাবে লালন পালনের জন্য যা ব্যবস্থা করা দরকার তা সরকারের পক্ষ হতে করা হবে।