তোফা-তহুরার পেল সোলার প্যানেল

0

হযরত বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ তোফা-তহুরার সুষ্ঠু সেবা নিশ্চিত করণে তাদের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সরকার। কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে প্রায় একমাস বিলম্ব হওয়ার কারণে তোফা-তহুরার নানার বাড়ীতে লাগানো হল সোলার প্যানেল। বর্তমানে তারা রামজীবন ইউনিয়নের কাশদহ গ্রামের নানা শহিদুল ইসলামের বাড়ীতে অবস্থান করছেন।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পালের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক মঙ্গলবার সকালে সুন্দরগঞ্জের ইউএনও এসএম গোলাম কিবরিয়া ও পিআইও নুরুন্নবী সরকার তোফা-তহুরার নানার বাড়ীতে গিয়ে ৫০ ওয়ার্ড ক্ষমতা সম্পন্ন একটি সোলার প্যানেল চালু করে দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ফেন্ডশীপের গাইবান্ধা জেলা সমন্বয়কারী আব্দুস সালাম, ইনর্চাজ এসইডি বিজয় কুমার।

সোলার প্যানেলের ফ্যানের মৃদু বাতাসে তোফা-তহুরা যেন শান্তির পরশ পেল। তারা যেন ফিরে পায় ঢাকা মেডিকেলের সেই আরামদায়ক পরিবেশ। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তোফা-তহুরার মা শাহিদা বেগম জানান, ঢাকা থেকে ফিরে আসার পর তার দুই মেয়ে গরমে অস্বস্তি বোধ করছিল বিদ্যুৎ না থাকায়। সোলার প্যানেলের মাধ্যমে ফ্যান চালু হওয়ার পর তাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

রোববার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে রিলিজ দেয়া হয় তাদের। পরে তারা গাড়ীতে রওনা হয় বাড়ীর উদ্দেশ্যে। রোববার রাত ২.৩০ মিনিটের সময় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের কাশদহ গ্রামের নানার বাড়ীতে পৌছায় তারা। এখবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকে তোফা-তহুরাকে দেখতে মানুষের ঢল নামে।

২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর নানার বাড়ীতে গ্রামের দাইয়ের হাতে যমজ সন্তানের জন্ম দিলেন শাহিদা বেগম। দুই বোন শুধু যমজ নয় একজন আর একজনের সাথে জোড়া লাগানো। এনিয়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় খবর প্রকাশ হলে বিষয়টি প্রধান মন্ত্রীর নজরে আসে । পরে ২০১৬ সালের ১৬ জুলাই তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশে শুরু হয় তাদের চিকিৎসা। ২০১৬ সালের ২০অক্টোবর তাদের প্রথম অস্ত্রোপচার করা হয় । ২০১৭ সালের ১ আগষ্ট তাদেরকে আলাদা করার জন্য অস্ত্রোপচার করা হয়। ঢাকা হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক আশরাফুল হকের নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক তার অস্ত্রোপচার করেন। দীর্ঘদিন পর ১০ সেপ্টেম্বর তাকে রিলিজ দেযা হয়। তোফা-তহুরা শাহিদা বেগমের ২য় সন্তান। দীর্ঘ ৮বছর আগে দহবন্দ ইউনিয়নের ঝিনিয়া গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে রাজু মিয়ার সাথে বিয়ে হয় শহিদার।

কাশদহ গ্রামের শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান,মেয়ে দুইটি অত্যন্ত ভাগ্যবান। তাদের উপলক্ষে গ্রামটি আলোকিত হয়ে পড়ল। গ্রামবাসি পেতে যাচ্ছে বিদ্যুৎ সংযোগসহ রাস্তাঘাট ও অন্যান্য সুযোগ –সুবিধা।
ইউএনও এসএম গোলাম কিবরিয়া জানান, তোফা-তহুরার তত্বাবধানে সরকার সর্বদায় সচেষ্ট থাকবে। সন্তান দুইটিকে সুষ্ঠুভাবে লালন পালনের জন্য যা ব্যবস্থা করা দরকার তা সরকারের পক্ষ হতে করা হবে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.