বিজয় কুমার, গাইবান্ধা থেকেঃ আসন্ন শারদীয়া দূর্গোৎসব উৎযাপন উপলক্ষে গাইবান্ধার সাত উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরে প্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মালাকররা। জেলায় এবার ৫৭২টি পূঁজা মন্ডপে পূঁজার্চনার আয়োজন করা হচ্ছে। পর পর দু’দফা বন্যায় অনেক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বেশকয়’টি মন্দিরে এখনো প্রতিমা তৈরীর কাজ শুরু হয়নি। তবে গতবারের চেয়ে এবার
পুঁজা মন্ডপের সংখ্যা বাড়বে বলে জেলা পূঁজা উৎযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে।
সনাতন ধর্মাবালম্বীরা বারমাসে তের তিথি পালন করেন। তবে বিপদনাশিনী দেবী হিসাবে দূর্গাপূঁজা জাকজমকপূর্ন উৎসবমূখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়।বাংলা বর্ষের পঞ্জিকা মতে এবার ২৬ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) ষষ্ঠীপূঁজার মধ্য দিয়ে ৫ দিনব্যাপী পূঁজার্চনা শুরু হবে এবং ৩০ সেপ্টেম্বর (শনিবার) মহাবিজয়া দশমী অনুষ্ঠিত হবে। বাংলা ভাদ্র মাসের শুরু থেকেই হিন্দু ধর্মাবালম্বীরা দূর্গাপ্রতিমা তৈরীর আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে পরেন। কিন্তু জেলায় পর পর দু’বার বন্যা হানা দেয়ায় অনেক মন্দিরে প্রতিমা তৈরীর কাজ কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে। তবে গতবারের চেয়ে এবার পুঁজা মন্ডপের সংখ্যা বেড়েছে।
এ প্রসঙ্গে জেলা পূঁজা উৎযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রনজিৎ বকসি সূর্য বলেন, বন্যার ফলে জেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় গ্রামাঞ্চলের বেশির ভাগ পূঁজামন্ডপগুলোর ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। সংস্কার সাপেক্ষে বারোয়ারি ভাবে সিদ্ধান্ত ক্রমে কিছুটা বিলম্বিত হলেও প্রতিমা তৈরীর কাজ শুরু হয়। তিনি আরও বলেন, পূর্বে কয়েকটি পাড়া বা গ্রামের যৌথ
উদ্যোগে একটি পূঁজার আয়োজন করা হতো। বর্তমানে পাড়া ভিত্তিক (সুন্দর্য্য বর্ধন
প্রতিযোগিতা) আয়োজন করায় দিন দিন পূঁজামন্ডপের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলায় এবার ৫৭২টি মন্ডপে প্রতিমা তৈরী হচ্ছে। যা গত বছরের চেয়ে বেশি।
সাঘাটা উপজেলা পূঁজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি গৌতম চন্দ বলেন, গতবার সাঘাটায় ৫৮টি পূঁজামন্ডপে দূর্গাপূঁজা হয়েছিল। এবারও এর কম-বেশি হয়নি। তবে আরও ১/২টি
পূঁজা মন্ডপ বাড়ার কথা ছিল কিন্তু বন্যার প্রভাব পরায় তা সম্ভব হচ্ছে না।
ফুলছড়ি পূঁজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অশ্বিনী কুমার বর্ম্মন বলেন, গত বছর এ উপজেলায় ১২টি মন্ডপে পূঁজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার ২টি বৃদ্ধি পেয়ে ১৪টি মন্দিরে পূঁজার আয়োজন চলছে। নতুন করে উদ্যোগ নিলেও অশৌচ জনিত কারনে ২টি মন্দিরের লোকজন
পূঁজা করার সিদ্ধান্ত বাতিল করেন।
সুন্দরগঞ্জের পূঁজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রভাষক নিমাই ভট্টাচার্য্য বলেন, জেলার মধ্যে সব চেয়ে বেশি দূর্গাপ্রতিমা তৈরী হয় সুন্দরগঞ্জ উপজেলায়। গত বছর ১২৭টি হলেও এবার ২টি বৃদ্ধি পেয়ে ১২৯টি মন্ডপে প্রতিমা তৈরীর কাজ চলমান। গত বছর ছাপরহাটি
ইউনিয়নের কুশটারি ও ধুরামারি মন্দিরে কালী প্রতিমাসহ দূর্গা প্রতিমা ভাংচুর করা
হয়। অভিযুক্ত আসামীকে আটক পরবর্তি পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়। এবার শুরু থেকেই সুন্দরগঞ্জের বিভিন্ন পূঁজামন্ডপে প্রশাসনিক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সাদুল্যাপুর উপজেলার পূঁজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রভাত চন্দ্র অধিকারী বলেন, গত বছর কামার পাড়া মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুর করা হলেও ৯৬টি মন্ডপে দূর্গাপূঁজা অনুষ্ঠিত হয়। এবার ৫টি বৃদ্ধি পেয়ে ১০১টি মন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ চলমান। আসন্ন পূঁজায় যেকোন ধরনের দূর্ঘটনা প্রতিহত করতে প্রশাসনের সাথে নিয়োমিত যোগাযোগ হচ্ছে এবং
সেচ্ছাসেবী টিম কাজ করছে।
পলাশবাড়ি উপজেলা পূঁজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নির্মল মিত্র বলেন, গতবার মহদিপুর ইউনিয়নের দূর্গাপুর ও আমলাগাছীতে মন্দিরের জমি নিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে হট্টগোল হওয়ায়
তা পূঁজার উপর প্রভাব পরে। গতবার ৬৪টি মন্দিরে পূঁজা হয়। এবারও এর কমবেশি হয়নি। তবে ২টি পূঁজা বৃদ্ধি হবার সম্ভাবনা আছে।
গোবিন্দগঞ্জের পূঁজা উৎযাপন পরিষদের সভাপতি তনয় দেব বলেন, বোয়ালীয়া শিববাড়ি ও নাকাইহাট বন্দর এলাকায় মন্দিরের জমি নিয়ে সৃষ্ট দন্ডের সমাধান না হওয়ায় আসন্ন পূঁজায় তা প্রভাব ফেলতে পারে। তবে প্রশাসনিক ভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গতবার ১০৮টি মন্ডপে
পূঁজার্চনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার ৮টি পূঁজা বৃদ্ধি পেয়ে ১১৬টি মন্দিরে প্রতিমা তৈরীর কাজ চলমান। ধর্মীয় বিধান মতে অশৌচ ও মৃতঃ জনিত কারনে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া আরও ৪টি মন্দিরে পূঁজা করার সিদ্ধান্ত বন্ধ করা হয়।
এদিকে গাইবান্ধা সদর উপজেলা পূঁজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুজন প্রসাদ বলেন, সদরে গত বছর ৮৩টি মন্দিরে পূঁজা হয়েছিল। এবছর ৭টি বৃদ্ধি পেয়ে ৯০টি মন্ডপে দূর্গাপূঁজার আয়োজন চলমান। গত পূঁজায় লক্ষ্মীপুর বাজারে কালী প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনায় এলাকাবাসি আতংকিত ছিল। এবার যেকোন দূর্ঘটনা প্রতিহত করতে প্রতিমা তৈরী থেকে শুরু করে দেবী
বিসর্জন পর্যন্ত সেচ্ছাসেবী টিমসহ প্রশাসনিক নজরদারি সার্বক্ষণিক থাকবে বলে তিনি জানান।
আসন্ন শারদীয় দূর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী
বাহিনীর পদক্ষেপ প্রসঙ্গে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, প্রতিটি পূঁজামন্ডপে আনছার, পুলিশ সদস্যরা মোতায়েন থাকবে। এছাড়াও পুলিশ ও র্যাব সদস্যদের সার্বক্ষণিক টহল ব্যবস্থাও জোরদার
করা হবে, যাতে কোন ধরণের দূর্ঘটনা না ঘটে।