শফিউল ইসলাম শাফি -(কুড়িগ্রাম): বুড়ি-তিস্তা বাঁচাও, উলিপুর বাঁচাও আন্দোলন কুড়িগ্রামের উলিপুরকে মডেল হিসেবে বিবেচনার অন্যতম কারণ হলো এই আন্দোলনে নেই কোনো ক্ষমতার দ্বন্ধ, রাজনৈতিক ফায়দা, গোষ্ঠী কিংবা ব্যক্তি স্বার্থ উদ্ধারের প্রচেষ্টা বরং জনতার ঢল নদীটির জীবন রক্ষার ক্ষেত্রে আশাবাদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাণের প্রিয় বুড়ি-তিস্তা বাঁচাও, উলিপুর বাঁচাও স্লোগানকে কেন্দ্র করে বিশেষ কর্মসূচির ও আন্দোলন নিত্য নতুন রুপে ধারন করছে। ১৫ নভেম্বর সামাজিক আন্দোলনে সর্বসাধারণকে অংশগ্রহণে কুড়িগ্রাম অভিমুখে রোডমার্চ কর্মসুচিতে অংশ নেওয়া সহ উলিপুর বুড়ি-তিস্তা বাঁচাও, নিয়ে সংশিষ্ট কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন সংগঠন ও সমপ্রদায়ের মধ্যে আন্দোলনের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে ।
বুড়ি-তিস্তা বাঁচা মানে কুড়িগ্রাম-উলিপুরের সকল প্রানীকুল রক্ষা পাওয়া। পানি ছাড়া কোন প্রানী পৃথীবিতে বাঁচতে পারেনা। অবৈধ দখলদারিত্ব, শিল্পের অপরিশোধিত বর্জ্য এবং জাতীয় নদী ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা আমাদের কুড়িগ্রাম,উলিপুরে নদীভিত্তিক পরিবেশকে ধীরে ধীরে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। পানির জন্যই পৃথীবিতে প্রানী ও উদ্ভিদের অবস্থান ব্বংস বৃদ্ধি এবং টিকে আছে মানবজাতীর অস্তিত্ব। আল্লাহ পাক আকাশ থেকে পানি বর্ষন করেন,তারপর ভূমিতে স্রোতরুপে তা প্রবাহিত করেন এবং তা দিয়ে বিচিএ ফসল উৎপাদন করেন। পানি আছে বলেই সৃষ্টি জগত টিকে আছে। আর সেই পানিকে আমরা করছি দূষিত পানির উৎস নদী দখল করে বিশাল অট্রালিকা তৈরী করছি। আমাদের সিমাহীন লোভ ও লালসার ফলে উলিপুরের চারপাশ্বের পরিবেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে । উলিপুরের পরিবেশ কে ধ্বংস করে, আমরাও বেঁচে থাকতে পারবোনা। একজন ব্যাক্তি মুনাফা অর্জন করবে, আর এর খেশারত দিতে হবে উলিপুরের চারপাশ্বের বসবাসরত সকল জীবের এ অন্যায় মেনে নেওয়া যায়না। তাই নদী বাঁচাও, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের উলিপুর মডেলকে সমগ্র দেশ এমনকি সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে হবে নতুবা এই বিপন্ন পৃথিবীতে জীবকূলের অস্থিত্ব একসময় বিলীন হয়ে যাবে। এখনো সময় আছে বুড়ি-তিস্তার -বিশুদ্ধ পানি ও প্রকৃতি বাঁচানোর জন্য ১৫ নভেম্বর রোর্ড-মার্চ কর্মসূচিসহ ‘ বুড়ি-তিস্তা বাঁচাও, উলিপুর বাঁচাও’ আন্দোলন ও কর্মসূচিতে এগিয়ে আসতে হবে সকলকে। উলিপুর উপজেলায় যারা যারা-যে অবস্থানেই থাকুন না কেনো প্রয়োজনে সেখান থেকেই বুড়ি-তিস্তা নদীকে বাঁচাতে সোচ্চার হোন। নচেৎ আমাদের উলিপুরের সভ্যতা ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে যে কোন সময়।
তাই পরিবেশ বান্ধব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কাছে উলিপুর বাঁচাও, বুড়ি-তিস্তা বাঁচাও- খনন ও উন্নয়ন প্রকল্প সুষ্ঠ ভাবে বাস্থবায়ন চায় উলিপুরের সচেতন নাগরীক।
‘ইঁৎর-ঞরংঃধ ইধপযধড় – টষরঢ়ঁৎ ইধপযধড় রং ঃযব সড়ংঃ ফরংপঁংংবফ ঃড়ঢ়রপ রহ টষরঢ়ঁৎ ঁঢ়ধুরষধ,কঁৎরমৎধস.
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সব সময়ই পরিবেশ বান্ধব ও জনকল্যানমুখী প্রকল্প গ্রহন করে থাকেন। তার এই সিদ্বান্ত খুবই যুগোপযোগি এবং দূরদর্শীতার পরিচায়ক। উলিপুরের বুড়ি-তিস্তা খননের মাধ্যমে যেরকম ভূগর্ভস্থ পানির উপর চাপ কমবে সেই সাথে বুড়ি তিস্তার-বিশুদ্ধ পানি ও প্রানী উদ্ভিদের অবস্থান ব্বংস বৃদ্ধি সহ আরো বিভিন্ন মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ ও পরিবেশ তৈরী হবে। বিবৃতিতে বুড়ি তিস্তা বাঁচাও উলিপুর বাঁচাও আন্দোলন বর্তমান বাংলাদেশে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এখনই উপযুক্ত সময় থাকতে বাংলাদেশ নদী বাঁচাও কেন্দ্রীয় সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক গৃহীত এই প্রকল্প সুষ্ঠ ভাবে বাস্থবায়নের লক্ষ্যে সংশিষ্ট রংপুর বিভাগসহ দেশের সকল ব্যক্তিদের আন্তরিক সহযোগীতা কামনা করছেন কুড়িগ্রাম-উলিপুরবাসী ।