টি-টোয়েন্টিতে ধোনির প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে!

0

ভারতের চারটি বিশ্ব-সাফল্যের তিনটিই এসেছে তাঁর হাত ধরে। ২০০৭ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপায় হাত রাখা দিয়ে শুরু। এরপর ২০১১ সালে ঘরের মাঠে ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও ২০১৩-তে ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিও জিতেছেন। এমন গৌরবোজ্জ্বল ক্যারিয়ারের পরও ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে নাকি তাঁর প্রয়োজন ফুরিয়েছে। ভারতের সাবেক ক্রিকেটাররা মনে করেন, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়া উচিত মহেন্দ্র সিং ধোনির।

প্রসঙ্গটা তুলেছেন ভিভিএস লক্ষ্মণ। তাঁর মতে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুনদের সুযোগ করে দেওয়ার ব্যাপারটা মাথায় রেখেই ধোনির সরে যাওয়া উচিত, ‘আমি মনে করি, টি-টোয়েন্টি থেকে সরে গিয়ে ধোনির নতুনদের সুযোগ করে দেওয়া উচিত। এটা নতুনদের জন্য বড় সুযোগ হবে। তবে সে অবশ্যই ওয়ানডে দলে গুরুত্বপূর্ণ।’

ধোনিকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের পর। ১৯৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে থাকা ভারতকে যথারীতি পথ দেখাচ্ছিলেন কোহলি। অথচ ৯.১ ওভারে ৬৭ রান তুলতেই চার ব্যাটসম্যান ফিরে যাওয়ায় উইকেটে ছিলেন সাবেক ও বর্তমান অধিনায়ক। বাউন্ডারি ছাড়া যখন জয়ের উপায় নেই, তখন ১৮ বলে ১৬ রান করেছিলেন ধোনি। কোহলি আউট হওয়ার পর পরবর্তী ১৭ বলে আরও ৩৩ রান যোগ করলেও জয়ের মুখ দেখেনি ভারত। হেরেছে ৪০ রানে।

লক্ষ্মণ এই ম্যাচেরই উদাহরণ টেনেছেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে ধোনি চার নম্বরে নামে। কাজ সারার জন্য তার কিছুটা সময় দরকার হয়। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচটাই ভালো উদাহরণ। ধোনির কোহলিকে স্ট্রাইক দেওয়া উচিত ছিল। কারণ, কোহলি তখন ১৬০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করছে, আর ধোনির মোটে ৮০। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গেলে এটুকু যথেষ্ট নয়।’

ভারতের আরেক সাবেক ক্রিকেটার অজিত আগারকারও সমর্থন করেছেন লক্ষ্মণকে। তাঁর মতে ভারত টি-টোয়েন্টিতে ধোনিকে ‘মিস’ করবে না। ক্রিকইনফোকে তিনি বলেছেন, ‘আমি মনে করি, ভারতের এখন বিকল্প খোঁজা উচিত, অন্তত টি-টোয়েন্টিতে। দলে তো এখন ধোনি ছাড়াও অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছেন।’

অধিনায়ক হিসেবে ধোনি সর্বকালের অন্যতম সেরা। আইসিসি প্রতিযোগিতার সব ট্রফি জিতেছেন। চেন্নাই সুপার কিংসকে নেতৃত্ব দিয়ে আইপিএল ও চ্যাম্পিয়নস লিগ টি-টোয়েন্টিও জিতেছেন। কিন্তু ভারত এখন ক্রিকেটার তৈরির কারখানা। ক্রিকেটের ছোট সংস্করণে ধোনির জায়গা নেওয়ার মতো একঝাঁক তরুণ খেলোয়াড় রয়েছে ভারতের। এমনকি উইকেটরক্ষক হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে ভালো নৈপুণ্য দেখিয়েছেন লোকেশ রাহুল, দীনেশ কার্তিকরা। ধোনির দিন বুঝি কি তবে ফুরোল?

শেষ পর্যন্ত হয়তো ধোনির সিদ্ধান্তকেই প্রাধান্য দেবেন ভারতীয় নির্বাচকেরা। আপাতত খেলা ছাড়ার কোনো ইচ্ছা নেই—এ কথা তিনি নিজেই জানিয়েছেন। থিরুভানান্থাপুরামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া শেষ টি-টোয়েন্টিতে কি পুরোনো ঝলক দিয়ে সাবেকদের জবাব দেবেন ধোনি? সূত্র: এনডিটিভি

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.